|
যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানী
জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবেঃ আহমাদিনেজাদ
ইরানী
জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার
জন্য
যুক্তরাষ্ট্রের
বরাবরে দাবী জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট
মাহমুদ আহমাদিনেজাদ।
বারাক ওবামার আমলে মার্কিন
পররাষ্ট্র নীতিতে
পরিবর্তনের য়ে সম্ভাবনা
দেখা দিয়েছে তাকেও স্বাগত
জানিয়েছেন তিনি।
ইরানের খারমেনশাহ প্রদেশে এক র্যালিতে অংশগ্রহণকালে
দেয়া
এক বক্তব্যে আহমাদিনেজাদ এসব
কথা বলেন বুধবার।
আহমাদিনেজাদের
দাবী
মতে যুক্তরাষ্ট্র গত ৬০ বছর ধরে
ইরানী জনগণের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে।
এ-প্রসংগে ওবামার প্রতি ইঙ্গিত করে
তিনি বলেন, ‘যারা পরিবর্তনের কথা বলে
তাদের ইরানী জনগণের কাছে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে এবং পূর্বের অপরাধগুলো শুধরানোর
চেষ্টা করতে হবে।’
আহমাদিনেজাদের মতে যুক্তরাষ্ট্রে
যে
পরিবর্বতনের
কথা শুনা যাচ্ছে
তা দু’রকমের হতে
পারেঃ প্রথমটি হতে পারে মৌলিক ও কার্যকরী। আর
দ্বিতীয়টি হতে পারে কৌশলের পরিবর্তন। আহমাদিনেজাদ
মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কৌশল পরিবর্তনের বিষয়ে চিন্তা
করে থাকে তবে তা শীঘ্রই উন্মোচিত হবে। উল্লেখ্য, ওবামার অভিষেকের পর এটাই ইরানের
পক্ষ থেকে আসা প্রথম মন্তব্য। জর্জ বুশের প্রতি তীব্র ক্ষোভ
প্রকাশ করে আহমাদিনেজাদ বলেন, 'তিনি
প্রতারণা আর
প্রাণ-হানিতে ভরা
কালিমালিপ্ত-মিথ্যাচারপূর্ণ এক অধ্যায়সহ ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে
নিক্ষিপ্ত হয়েছেন।'
ইরানী প্রেসিডেণ্ট আরও বলেন,
'সষ্টিকর্তা চাইলে বুশ নরকে যাবেন।'
প্রসংগত
সোমবার সৌদী মালিকানাধীন টিভি
নেটওয়ার্ক আল-আরাবিয়াকে
দেয়া
সাক্ষাতকারে অংশ গ্রহণ করেন
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সাক্ষাতকারে তিনি ইরানের প্রতি
যুক্তরাষ্ট্রের নমনীয় নীতির সম্ভাবতা
নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন,
‘আমি নির্বাচনী প্রচার অভিযানের সময় বলেছিলাম ইরানের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে
আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এটা নিশ্চিত হওয়া যে, আমরা কূটনীতি সহ
যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির সকল উপাদানের পূর্ণ ব্যবহার করছি।’ ইরানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী
গোষ্ঠীগুলোকে
মদত-দান,
ইসরায়েলকে আক্রমণের হুমকি সহ অন্যান্য যে-সমস্ত অভিযোগ রয়েছে
সেগুলো
পুনরায় ঊল্লেখ করে
ওবামা বলেন, ‘এগুলোর কোনোটাই
সহয়োগিতামূলক
ছিলো না।’ ইরানের সাথে
সংলাপের ইচ্ছাকে গুরুত্বপূর্ণ
অভিহিত করে ওবামা জানান,
যুক্তরাষ্ট্রের এখন সম্পোর্কন্নয়নের
সম্ভাব্য পথ খুঁজে বের করা
দরকার। উল্লেখ্য মাত্র আট দিন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিষিক্ত হওয়া বারাক ওবামার এটাই ছিলো প্রথম টিভি
সাক্ষাতকার।
বিশ্লেষকদের মতে,
মাহমুদ আহমাদিনেজাদের ভাষ্যটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এ পর্যন্ত করা কঠৌর মন্তব্য
গুলোর মধ্যে অন্যতম। তবে পর্যবেক্ষকরা এরপর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের ক্ষেত্রে
কী পরিবর্তন আসে সেদিকে সতর্ক লক্ষ্য রেখেছেন।
লন্ডনঃ
২৮ জানুয়ারী, ২০০৯ |