|
ইরাক আক্রমণের
আলোচনা-নথি প্রকাশের নির্দেশ
ব্রিটিশ সরকারকে
ইরাক
আক্রমণের ব্যাপারে
ক্যাবিনেটে যেসব আলাপ-আলোচনা হয়েছিলো তার বিবরণ প্রকাশের জন্য
সরকারের প্রতি আদেশ জারী করেছে ব্রিটেইনের ইনফরমেশন ট্রাইবুন্যাল।
জানা গেছে অভিযান শুরুর
আগে ২০০৩ সালের ১৩ মার্চ ও ১৭ মার্চের
ক্যাবিনেট সভাতে আলোচ্য বিষয়াদির বিস্তারিত প্রকাশের ব্যাপারে ইতিপূর্বে
ইনফরমেশন কমিশনারের পক্ষ থেকে যে-আদেশ জারী করা হয়েছিলো,
ট্রাইবুন্যাল মঙ্গলবার সে-আদেশটিরই পুনরাবৃত্তি করেছে।
ইনফরমেশন কমিশনারের পক্ষ
থেকে ট্রাইব্যুনালের সর্বশেষ
আদেশটিকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে।
প্রদত্ত
রায়ে ট্রাইবুন্যাল জানায়
ক্যাবিনেটের যে-দুটি সভাতে ইরাকে সামরিক আক্রমণে অংশগ্রহণের পক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ
করা হয় সে-দুটি সভার বিবরণ গোপনীয় রাখার চেয়ে প্রকাশ করে দেয়াটাই
জন-স্বার্থের
অধিকতর অনুকূল বলে মনে করা যায়।
ট্রাইবুন্যাল আরও
জানিয়েছে, সরকারের
উপরে আদেশ জারীর ক্ষেত্রে সরকারী নীতিমালা গঠন সংক্রান্ত
তথ্যাদি গোপন রাখা ও নীতিমালার ব্যাপার পুরো
ক্যাবিনেট একসাথে দায়-দায়িত্ব বহন করা
সংক্রান্ত প্রচলিত যুক্তিগুলোর ব্যতিক্রম ঘটানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, আলোচ্য সভা
দুটিতে ইরাক আক্রমণের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা সমর্থিত
হবে কিনা তা আলোচনা হয়েছিলো বলে মনে করা হয়।
ট্রাইবুন্যাল আরও জানিয়েছে শুক্রবার যে-আদেশটি দেয়া হয়েছে সে-ব্যাপারে সিদ্ধান্ত
গ্রহণ ছিলো অত্যন্ত 'দূরহ'।
জানা গেছে সর্ব-সম্মতি
ক্রমে নয় বরং ট্রাইবুন্যালের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সম্মতির ভিত্তিতেই সরকারের উপরে ২০০৩
সালের ক্যাবিনেট বৈঠকের বিবরণ প্রকাশের আদেশটি জারী করা হয়েছে।
তিন সদস্য-বিশিষ্ট
ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে
ক্যাবিনেট সভাতে যেসব কথাবার্তা হয়েছিলো সেসব কথাবার্তার
ব্যাপারে জনগণকে
মনস্থির করার সুযোগ দেয়াটা প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের ধারণা শুক্রবারের আদেশটির মধ্য দিয়ে সাম্প্রতিক-কালে
ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক গৃহীত অন্যতম বিতর্কিত
একটি সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত তথ্যাদি জন-সম্মুখে
প্রকাশিত হবার পথ উন্মুক্ত হয়েছে।
তবে ট্রাইবুন্যাল
জানিয়েছে শুক্রবারের আদেশটিকে ভবিষ্যতে কখনও নজীর হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না।
সরকারের প্রতি আদেশ জারী
কারণ ব্যাখা করে
ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে পরদেশে সামরিক অভিযানে যুক্ত হবার সিদ্ধান্ত
নেয়া হবার কারণে
আলোচ্য বৈঠক দুটির এমনিতেই গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়াও এ-বিষয়ে বিভিন্ন
সময়ে বিভিন্ন মহল থেকে ইরাক আক্রমণে অংশ নেয়ার ব্যাপারে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের
সিদ্ধান্ত নেয়ার ধরণ সম্পর্কে যেসব সমালোচনা উত্থাপিত হয়েছে সেগুলোকে গুরুত্ব
প্রদানের কথাও জানিয়েছে ট্রাইবুন্যাল।
সরকারের
উপরে আদেশ জারীর ব্যাপারে সন্তোষ প্রকাশ করে ইনফরমেশন কমিশনার রিচার্ড
থমাস বলেন,
'আমি
যে-সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলাম ট্রাইবুন্যাল তা সমুন্নত রেখেছে দেখে আমি প্রীত বোধ
করছি।'
ট্রাইবুন্যালের মতো
তিনিও জানান এ-নির্দিষ্ট
বিষয়টিতে ক্যাবিনেটের দুটি সভাতে
যা আলোচিত হয়েছিলো তা গোপন রাখার পরিবর্তে প্রকাশ করে দেয়াটাই হবে
জন-স্বার্থের
অনুকূল।
কমিশনার মনে করেন
ক্যাবিনেট সভা
দুটির বিবরণ প্রকাশ করা হলে, ইরাক আক্রমণে যুক্ত হবার সিদ্ধান্তটি জনগণ
ভালোভাবে বুঝতে পারবে।
নিয়মানুসারে, ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে আসা আদেশটির বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে ২৮
দিনের মধ্যে সুপ্রীম কৌর্টে
আপীল করা যাবে।
মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত
সরকার-পক্ষ এ-ব্যাপারে কোনো
সিদ্ধান্ত
ঘোষণা করেনি।
লন্ডনঃ
২৮
জানুয়ারী ২০০৯ |