|
বলিভিয়াঃ নতুন সংবিধানের অনুমোদন পেলেন প্রেসিডেন্ট মোরালেস
দীর্ঘদিনের
রাজনৈতিক লড়াই শেষে নতুন সংবিধানের পক্ষে ভৌটের মাধ্যমে রায় পেয়েছেন বলিভিয়ার
প্রেসিডেন্ট ইভৌ মোরালেস।
তবে
বিরোধীরা জানিয়েছেন, গণভৌটে হেরে গেলেও নতুন সংবিধানের ব্যাপারে সরকার-পক্ষের
প্রচেষ্টাটিকে ঠেকানোর ব্যাপারে তারা সবর্তোভাবে চেষ্টা করে যাবেন।
খবরে প্রকাশ,
রোববার অনুষ্ঠিত গণ-ভৌটে সরকার-প্রণীত সংবিধানের পক্ষে ৬০ শতাংশ ভৌট পড়ে।
প্রণীত
সংবিধানটিতে বলিভিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ আদিবাসী মানুষজনের হাতে অধিক ক্ষমতা অপর্ণের
প্রস্তাব করা হয়েছে।
সর্বশেষ
নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অর্থনীতিক কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণের
ক্ষেত্রেও মোরালেসের হাত আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়াও
প্রেসিডেন্ট পদের জন্য পুনরায় নির্বাচন করার ব্যাপারে অনুমতি পেয়ে গেলেন তিনি।
নির্বাচনে বিজয়ী হবার পরপর রাজধানী লা পাস ও সারা দেশজুড়ে মোরালেস সমর্থকরা রাস্তায়
বেরিয়ে আননদ-উল্লাস প্রকাশ করতে থাকেন।
রোববার
সন্ধ্যার দিকে ভৌটের ফলাফল স্পষ্ট হবার পর-পরই অনুমোদন-প্রাপ্ত সংবিধানের একটি কপী
নিয়ে রাজধানীতে জনগণের সামনে দেখা দেন মোরালেস।
বিজয়ের
আনন্দে অশ্রু ভারাক্রান্ত মোরালেস বলেন, 'এবার শুরু হলো নয়া-বলিভিয়ার পথ-চলা।
এবার
আমরা সত্যিকারের সমতার দিকে হাঁটতে শুরু করলাম।'
উল্লেখ্য, সরকার-পক্ষের দাবী নতুন সংবিধানটির মাধ্যমে বলিভিয়ার প্রকৃত
'বি-উপনিবেশীকরণ' সম্ভব হবে এবং প্রকৃত দেশজ মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পথ উন্মুক্ত হবে।
উল্লেখ্য,
বলিভিয়া হচ্ছে লাতিন আমেরিকার দ্বিতীয় জনসংখ্যাধিক্যের দেশ আর মৌরালেস হচ্ছেন
আদিবাসী সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির প্রথম আদিবাসী প্রেসিডেন্ট।
৯ দশমিক
দুই মিলিয়ন জনসংখ্যা-সমৃদ্ধ বলিভিয়া বর্তমানে লাতিন আমেরিকাতে মার্কিন
সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী অন্যতম নেতৃত্ব দানকারী দেশে পরিণত হয়েছে।
নির্বাচনী ফল
বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে মোরালেস জানান, গণ-ভৌটে বিজয়ী হওয়া সংবিধানটিতে যে-সব
উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়িত করার জন্য একশোটির মতো নতুন আইন প্রনয়ন
করার প্রয়োজন পড়বে।
উল্লেখ্য, প্রস্তাবিত আইনগুলোর মধ্যে একটিতে জনগণের ভৌটের ভিত্তিতে সুপ্রীম কৌর্টের
বিচারপতিদের নিয়োগদানের কথা বলা হয়েছে।
এদিকে বিরোধী
পক্ষ জানিয়েছেন, রোববারের নির্বাচনে পরাজিত হলেও তার ক্ষমতাসীনদের প্রণীত সংবিধানটি
ঠেকিয়ে দেয়ার চেষ্টা থেকে কোনোভাবেই সরে যাবেন না।
আগামী
ডিসেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এ-ব্যাপারটিকে ইস্যু করে তোলার কথা জানানো হয়েছে
তাদের পক্ষ থেকে।
বিরোধী
পক্ষের একজন নেতা ভিক্টর হুগৌ কারদেনাস নির্বাচনী ফলাফল প্রসঙ্গে বলেন, 'সরকার ভৌটে
জিতলেও রাজনৈতিকভাবে হেরে গেছে।'
মোরালেস-সরকার গত বছরের একটি নির্বাচনে ৬৭ শতাংশ ভৌট-প্রাপ্তির বিপরীতে এবার ৬০
শতাংশ ভৌট পাবার ব্যাপারটির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি এ-উক্তি করেন।
বিরোধী
পক্ষের নেতা রুবেন কস্তাস ভৌটের ফল প্রসঙ্গে বলেন, 'যে-বোকারা আমাদের দেশ ধ্বংস করে
দিতে চায়, তাদেরকে 'না' ভৌটের [সংখ্যার] মধ্য দিয়ে লাগাম টেনে দেয়া হয়েছে।'
উল্লেখ্য, বলিভিয়ার বিরোধীরা মূলতঃ দেশের পূর্বদিকে পাঁচটি প্রদেশে প্রভাবশালী।
এক-সময়
ইউরৌপ থেকে আগত মানুষ-জনের অবস্থাপন্ন বংশধর অথবা মিশ্র বর্ণের লোকজনের কাছে এদের
আবেদন অধিক।
পর্যবেক্ষকদের
ধারণা সংবিধান-বিষয়ক নির্বাচনে বিজয়ী হবার মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রেসিডেন্ট-নির্বাচনে
বিজয়ী হবার মতো অবস্থায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন বামপন্থী মোরালেস।
এছাড়াও
বিরোধী দলীয়দের মধ্যে তেমন কোনো উল্লেখ্যযোগ্য নেতা না থাকার কারনেও মোরালেসে
সম্ভাবনা অধিক বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে
কোনো-কোনো পর্যবেক্ষক মনে করেন, প্রাকৃতিক রপ্তানী-জনিত আয় কমে যাবার পরিণতিতে
দেশের দরিদ্র মানুষ-জনের জীবনে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, তা
মোকাবেলা করতে না পারলে নির্বাচনের ফলাফল কেমন হবে তা এখনই বলে দেয়া অসম্ভব।
লন্ডনঃ ২৭
জানুয়ারী ২০০৯ |