|
ইতালীতে কারাগার খুলে বেরিয়ে গেছে সহস্রাধিক অবৈধ-অভিবাসী
শনিবার
ইতালীর একটি কারাগার খুলে বেরিয়ে গেছেন সহস্রাধিক অবৈধ অভিবাসী।
গত কয়েক সপ্তাহ-কালে
নৌকা-যোগে আফ্রিকা থেকে ইতালীতে ঢোকা এসব লোকজন কর্তৃপক্ষীয় আচরণের প্রতিবাদে
কারাগার ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন বলে জানা গেছেন।
সিসিলির ল্যামপেদুসা
দ্বীপের কারাগারে এ-ঘটনা
ঘটেছে।
খবরে
প্রকাশ, বেশ কয়েকদিন ধরে আটক থাকা
বন্দীরা শনিবার সকালে নিরাপত্তা-রক্ষীদেরকে কারাগারের মূল ফটক খুলে দিতে বাধ্য করেন।
কারাগার থেকে বেরিয়ে
অভিবাসীর দল সদলবলে দ্বীপের প্রধান টাউনটির দিকে একযোগে হাঁটতে শুরু করেন।
উল্লেখ্য, সাড়ে আটশো বন্দী রাখার
উপযোগী করে ডিটেনশন সেন্টারটি নির্মাণ করা হলেও বর্তমানে এতে ১৮ শো মানুষকে বন্দী
করে রাখা হয়েছে।
ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি
লোক-জনকে রাখার করার কারণে ডিটেনশন সেন্টারটির ভিতরে মানবেতর পরিস্থিতি বিরাজ
করছিলো বলে জানা গেছে সংবাদ-মাধ্যম সূত্রে।
খবরে প্রকাশ, কারাগার খুলে বাইরে
বেরিয়ে আসা লোকজন টাউন সেন্টারের সামনে সমবেত টিভি-ক্যামেরার দিকে বিজয়-সূচক সঙ্কেত
প্রদর্শন করেন এবং কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নানান ধরনের স্লৌগান দেন।
সংবাদ মাধ্যমগুলোর পক্ষ
থেকে ফটক খুলে বন্দীদের বেরিয়ে আসার কথা বলা হলেও, কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন
তাদের বন্দীরা যে-কোন সময়েই কারাগারের বাইরে যাবার অনুমতি-প্রাপ্ত।
এ-কারণে বন্দীরা যখন
বাইরে যাবার চেষ্টা করেন, তখন নিরাপত্তা-রক্ষীরা
তাদেরকে কোন ধরণের বাধা দেননি।
এ-ঘটনার
ঠিক একদিন আগে দ্বীপবাসীদের পক্ষ থেকে দ্বীপের ভিতরে দ্বিতীয় ডিটেনশন সেন্টার খোলার
প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করা।
মিছিলটিতে দ্বীপের ছয়
হাজার অধিবাসীর মধ্যে অর্ধেকই অংশ গ্রহণ করেন।
দ্বীপবাসীদের পক্ষ থেকে
ডিটেনশন সেন্টারটি সরিয়ে নেয়ার জন্য দাবী জানানো হচ্ছে।
ল্যামপেদুসার মেয়র
বার্নাদিনো দি রুবীস
নিজেও
সেন্টার স্থানান্তরের দাবীতে সোচ্চার হচ্ছেন।
তিনি এ-প্রসঙ্গে বলেন, আমরা বর্ণবাদী নই, অভিবাসীদের ব্যাপারে
আমাদের কোনো বক্তব্য নেই।
কিন্তু আমরা চাই না
আমাদের গোটা দ্বীপটি শেষমেশ একটি কারাগারে রূপান্তরিত হোক।
দ্বীপবাসীদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে
তাদের আবাস-স্থলটি ‘ইতালীর
গুয়ানতানামৌ‘ হিসাবে অনাকাঙ্খিত পরিচিতি পেয়ে
যেতে পারে।
উল্লেখ্য, উত্তর আফ্রিকার বিশেষত
লিবিয়া বা তিউনিসিয়া থেকে মূলতঃ জলপথে অবৈধভাবে ইতালীতে বা ইতালীর মধ্য দিয়ে
ইউরৌপের অন্য দেশে প্রবেশেচ্ছু লোকজনকে বন্দী করে রাখার জন্য দ্বীপটি ব্যবহার করা
হচ্ছে।
জাতিসংঘের হিসাব-মতে, গত বছর ৩৬ হাজার মানুষ
নৌকা-যোগে অনুমতিহীনভাবে ইতালীতে ঢুকেছে।
২০০৭ সালের তুলনায়
এ-সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি।
হিসাবানুসারে সমুদ্র পথে
যতো লোক ২০০৮ সালে ইউরৌপে ঢুকেছেন, তাদের বড়ো অংশটি (৩১
হাজার) ইতালীতে অবস্থান করছেন।
লন্ডনঃ ২৬
জানুয়ারী,
২০০৯ |