|
কর্মখালিতে বিদেশীদের জায়গায়
দেশীরা
প্রাধান্য পাবেঃ
জ্যাকী
স্মিথ
সামনের
বছরগুলোতে বিপুল সংখ্যক কর্মখালি পূরণের ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে লোকজন আনার পরিবর্তে
দেশের মানুষজনকে অগ্রাধিকার প্রদানের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন ব্রিটেইনের হৌম
সেক্রেট্যারী জ্যাকী
স্মিথ।
তিনি জানিয়েছেন, সামনের
দিনগুলোতে দক্ষ-কর্মীর জন্য বিদেশের দিকে হাত বাড়ানোর আগে দেশের
ভিতরে সুনির্দিষ্ট
উপায়ে যোগ্য-প্রার্থীর খোঁজার ব্যাপারে বাধ্য থাকবে ব্রিটিশ কৌম্পানীগুলো।
শুক্রবার
জ্যাকী স্মিথ
জানান,
সামনের বছরগুলোতে ব্রিটেইনব্যাপী
হাজার-হাজার দক্ষ-কর্মীর পদ সৃষ্টি হবে।
তবে এসব পদগুলোতে
নিয়োগের ক্ষেত্রে কৌম্পানীগুলোকে আগে জব-সেন্টার প্লাস নেটওয়ার্কের
মাধ্যমে সারা দেশে যোগ্য প্রার্থীর খোঁজ চালাতে হবে।
বর্তমানে
নিয়োগদাতারা অভিবাসন সংক্রান্ত 'টিয়ার
২' নিয়ম ব্যবহার
করে ইউরৌপীয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে থেকে দক্ষ-কর্মী আনয়নের ব্যাপারে অধিক আগ্রহ
প্রদর্শন করে
থাকেন।
বেতন-খরচের ব্যাপারে অনেকটা
সাশ্রয় হয় বিধায় কৌম্পানীগুলো ইইউর বাইরে থেকে কর্মী আনার ব্যাপারে অধিক উৎসাহী
হয় বলে মনে করা হয়।
তথ্যমতে, সরকারী
সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ৬০ থেকে ৮০ হাজার পর্যন্ত পদ অভিবাসীদের পরিবর্তে নিজের
দেশের মানুষজন দ্বারা পূরণ করবে ব্রিটেইন।
জ্যাকী
স্মিথ বলেন, 'মানুষ-জন
এখন কাজ-কর্ম হারাচ্ছেন, এবং দ্রুত কাজ-কর্ম ফিরে পাবার ব্যাপারে উদ্বেগের মধ্যে
আছেন, এমতাবস্থায় আমরা তাদেরকে বলতে চাই যে যখন কাজ-কর্ম সুলভ হবে, তখন ব্রিটিশ
জনগনই অগ্রাধিকার পাবেন।'
কৌম্পানীগুলোর উপরে
এ-ব্যাপারে চাপ তৈরী করা প্রসঙ্গে হৌম সেক্রেটারী জানান, বিজ্ঞাপিত কোন পদের জন্য
বিদেশ থেকে একজন কর্মী আনার ব্যাপারটিকে একমাত্র উপায় ধরে নেয়ার আগে যে-পদের জন্য
লোক খোঁজা হচ্ছে, সে-পদটির জন্য উপযুক্ত লোক দেশের
ভিতরে আছে কি-না, তা
খুঁজে
দেখার ব্যাপারটি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।
'টিয়ার
টু'
এর আওতাতে প্রাইমারী স্কুল
শিক্ষক, নার্স,
আর্কিটেক্ট,
ফার্ম ম্যানেজার, হৌটেল ম্যানেজার, গ্রাফিক ডিজাইনার, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রৌলার
ও নির্মাণ-কর্মী
হিসাবে ইইউর বাইরে থেকে প্রচুর মানুষ ব্রিটেইনে আসেন।
সরকারী
সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদ-মাধ্যম জানিয়েছে,
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভয়াবহ অর্থনীতিক দুর্যোগের
পরিণতিতে
যেভাবে ছাঁটাইয়ের
হার বেড়ে চলছে তার প্রেক্ষিতে চাকুরীর ক্ষেত্রে দেশের মানুষ-জনকে প্রাধান্য দেয়ার
ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের
ধারণা, বর্তমানে
যে-সব
পদ শূণ্য
হয়ে যাচ্ছে,
ভবিষ্যতে সেগুলো পূরণের ক্ষেত্রে বিদেশীদের দিকে হাত বাড়ানোর পরিবর্তে দেশের
ভিতর
থেকে কর্মী খুঁজে
নেয়াটাই সঙ্গত হবে।
উল্লেখ্য, ডিসেম্বর
পর্যন্ত হিসাবে ব্রিটেইনে
কর্মসংস্থান-হীন মানুষের সংখ্যা ১ দশমিক নয় মিলিয়নে ঠেকেছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা,
অর্থনীতি পুনরায় স্থিতাবস্থায় ফিরে আসার আগে এ-সংখ্যা ৩ মিলিয়নে গিয়ে ঠেকতে পারে।
এদিকে,
সরকারের পক্ষ থেকে দেশীদের চাকুরী নিশ্চিতের লক্ষ্যে বিদেশী ঠেকানোর যে-নীতি গ্রহণ
করার কথা বলা হচ্ছে, তা কার্যকর হবে না বলে দাবী করছে প্রধান বিরোধী দল কনসার্ভেটিভ
পার্টি।
দলটির দাবী ব্রিটেইন-মুখী
অভিবাসনের স্রোত
বন্ধ করার জন্য ইইউ-এর বাইরে থেকে কতো লোক আসবে, সে-ব্যাপারে বার্ষিক
একটি সংখ্যা নির্ধারণ
করে দিতে হবে।
শ্যাডৌ হৌম সেক্রেট্যারী ডমিনিক
গ্রীভ সরকারী উদ্যোগটি উড়িয়ে দিয়ে শুক্রবার বলেন,
'জ্যাকী
স্মিথ যতোই
বাগাড়াম্বর করুন না কেনো,
অভিবাসী-সংখ্যার উপরে বার্ষিক
সীমা বেঁধে
না দেয়া পর্যন্ত এ-সব কোনো
কাজেই আসবে না।'
উল্লেখ্য, বর্তমানে
ব্রিটিশ ফার্মগুলোকে বিদেশী কর্মী আনার আগে
'রেসিডেন্ট
লেবার মার্কেট টেস্ট'
মান্য করতে হয়।
এ-আইনের আওতায় ফার্মগুলো
নিজেদের শূণ্য-স্থান
পূরণের জন্য অভিবাসী-কর্মী আনার আগে দেশী-কর্মীর খোঁজ করতে হয়।
এমনকি ইইউ-ভূক্ত অন্য কোনো
দেশ থেকে কর্মী আনতে চাইলেও কমপক্ষে ২ সপ্তাহ আগে ব্রিটেইনের
মিডিয়াতে উক্ত পদের জন্য কর্মী খোঁজ করে বিজ্ঞাপন দিতে হয়।
অভিযোগ আছে, কর্মী নিয়োগ
দেয়ার ক্ষেত্রে ফার্মগুলো উপরোক্ত আইন প্রায়শঃ অবজ্ঞা করে।
অথবা এমন-সব ট্রেইড
ম্যাগাজিনে বিজ্ঞাপনগুলো দেয়া হয়, যেগুলো ব্রিটিশ কর্মীদের পরিবর্তে বিদেশী কর্মীরা
সাধারতঃ সংগ্রহ
করে থাকেন।
কম বেতন ছাড়াও ইইউর
বাইরে থেকে আসা কর্মীদের সাথে কঠোরতর আচরণের সুযোগ থাকার কারণেই কৌম্পানীগুলো
সরকারী নিয়মভঙ্গ
করার ক্ষেত্রে উৎসাহী হয় বলে দাবী করেন অভিবাসন-বিরোধীরা।
জানা
গেছে, হৌম সেক্রেট্যারী জ্যাকী
স্মিথ
ও ওয়ার্ক
এ্যান্ড পেনশন
সেক্রেট্যারী আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নন-ইইউ কর্মী আনার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ
সংক্রান্ত একদফা সুপারিশ উত্থাপনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।
খবর শুক্রবারের।
এছাড়াও দেশের মানুষ-জন
যাতে-করে চাকুরী বাজারের জন্য দ্রুত উপযুক্ত হয়ে উঠতে পারেন, সে-জন্য নতুন-নতুন
দক্ষতা শিক্ষা-দানের জন্য ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণের
লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন স্কিলস সেক্রেট্যারী জন ডেনহাম।
উল্লেখ্য, অভিবাসী
কর্মীদের হাতে দক্ষতা-ভিত্তিক কাজগুলো অধিকহারে চলে যাবার অভিযোগে ব্রিটেইনে
মূলধারার
মানুষজনের মধ্যে যে-ক্ষোভ তৈরী হয়েছে, তা নিয়ে কথাবার্তা
বলার জন্য প্রধানমন্ত্রী গর্ডন
ব্রাউনের নেতৃত্বে 'জব
সামিট' অনুষ্ঠিত
হয়েছে গত সপ্তাহে।
লন্ডনঃ
২৪
জানুয়ারী ২০০৯ |