|
ভিন্ন
নামে আবু গারিব কারাগার আবার খুলে দিচ্ছে ইরাকী কর্তৃপক্ষ
বন্দী
নির্যাতনের জন্য কুখ্যাত আবু গারিব কারাগারটি ভিন্ন নামে খুলে দিতে যাচ্ছে ইরাক।
শনিবার
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে আগামী মাস থেকে বাগদাদ সেন্ট্রাল প্রিজন নাম দিয়ে আবু গারিব
কারাগারটি খুলে দেয়া হবে।
খবরে
প্রকাশ,
নিরাপত্তা
ব্যবস্থা সংক্রান্ত
নতুন
চুক্তির ফলে মার্কিন বাহিনীর হাত থেকে বন্দী
বুঝে
নেয়ার প্রক্রিয়ার শুরু হবার কারণেই ভিন্ন নামে আবু গারিব খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত
নেয়া
হয়েছে।
শনিবার ইরাকের
ডেপুটী জাস্টিস মিনিস্টার বুশো ইব্রাহিম
জানান
আন্তর্জাতিক
মান-সম্পন্ন
করে তোলার জন্য আবু গারিবকে নতুন করে সজ্জিত করার কাজ চলছে।
তিনি
বলেন,
'আমরা
এখন এর নামকরণ করেছি বাগদাদ সেন্ট্রাল প্রিজন কারণ আবু গারিব কারাগার নামটির একটি
কুখ্যাতি আছে।'
ইব্রাহিমের দাবী শুধু মার্কিনীদের কারণেই নয় বরং সাদ্দাম হোসেনের আমলে বন্দীদের
সাথে যে-ধরণের নির্যাতন করা হতো তাও আবু গারিবকে কুখ্যাত কারাগার হিসাবে পরিচিত করে
তোলার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
স্মরণ
করা যেতে পারে,
কয়েক বছর আগে
আবু গারিব কারাগারে মার্কিনী প্রহরীদের হাতে ইরাকী বন্দীদেরকে ভয়াবহ নির্যাতন করার
বেশ কিছু আলোকচিত্র ইন্টারনেটে ফাঁস হয়ে যাবার পর থেকেই সারা বিশ্ব-ব্যাপী
কুখ্যাতি কুড়িয়েছে আবু গারিব।
সাদ্দাম
হোসেনের আমলেও অবশ্য কারাগারটিতে বিরোধী-দলীয় হাজার-হাজার লোককে আটক রেখে নির্যাতন
করা হতো বলে অভিযোগ আছে।
তিনি জানিয়েছেন
মধ্য-ফেব্রুয়ারী থেকে বন্দীদের আবাস হিসাবে কারাগারটি ব্যবহৃত হতে থাকবে।
নতুনভাবে সজ্জিত করা এ-কারাগারে
সাড়ে তিন হাজারের মতো বন্দীর ঠাঁই দেয়া সম্ভব হবে।
তবে
এ-বছরের শেষ নাগাদ এ-ধারণ ক্ষমতা ১৫ হাজারে দাঁড়াতে পারে।
মন্ত্রী
আরও জানান রূপান্তরিত কারাগারটির ব্যবহার হওয়া শুরু হলে অনেক বড়ো
একটি
সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য,
২০০৬ সালে
কুয়েত সীমান্তের কাছে মরুভূমির ভিতরে নিজেদের মতো করে একটি কারাগার নির্মাণের পরে
আবু গারিব ছেড়ে দেয় মার্কিনীরা।
উল্লেখ্য,
জানুয়ারীর ১ তারিখ থেকে কার্যকর হয়ে যাওয়া চুক্তির ফলে মার্কিনীদের হাতে
বিনা-চার্জে আটক থাকা আনুমানিক ১৫ হাজার বন্দীর দায়িত্ব ইরাকী কর্তৃপক্ষের হাতে চলে
আসবে।
এসব
বন্দীরা এখন ইরাকী বিচার-ব্যবস্থার আওতায় চলে আসবেন।
লন্ডনঃ
২৪
জানুয়ারী ২০০৯
|