|
গুয়ানতানামো বন্ধ হবে এক-বছরেঃ সিআইএর জন্য
নতুন নির্দেশনা
দায়িত্ব
গ্রহণের আটচল্লিশ ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে গুয়ানতানামো বে কারাগার বন্ধ করে দেয়া
ঘোষণা দিলেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
ঘোষণা অনুসারে আগামী এক
বছরের মধ্যে নয়-এগারো পরবর্তী সময়কালে বন্দী-নির্যাতনের জন্য ভয়াবহ কুখ্যাতি অর্জন
করা গুয়ানতানামো কারাগারটি বন্ধ হয়ে যাবে।
মঙ্গলবার রাতে
গুয়ানতানামোর সামরিক বিচার-ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়ার আদেশদানের হৃল্পতম সময়ের মধ্যে
বৃহস্পতিবারের ঘোষণাটি দেয়া হলো।
এছাড়াও বন্দী-জেরা বিষয়ে
গোয়েন্দা-সংস্থা সিআইএর প্রতিও সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনাতে ওবামা
যখন স্বাক্ষর করছিলেন তখন মার্কিন সামরিক বাহিনীর ১৬ জন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল
উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবারের ঘোষণাটিতে স্বাক্ষরের সময় ওবামা বলেন,
আমাদের আদর্শ আমাদেরকে
[সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য] শক্তি ও উচ্চ নৈতিক শক্তি দান করেছে।
গুয়ানতানামো কারাগার
বন্ধ করার ঘোষণার সাথে-সাথে সিআইএর উপরে বন্দী-জেরা সংক্রান্ত বিষয়ে সুনির্দিষ্ট
নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন,
আমরা এ-লড়াই জয়ী হবার
ব্যাপারে দৃঢ়-প্রতিজ্ঞ আছি।
আমরা আমাদের মতো করে
এ-লড়াইয়ে জয়ী হতে যাচ্ছি।
সিআইএ প্রসঙ্গে প্রদত্ত
আদেশে বলা হয় বন্দী জেরা করার ব্যাপারে আর্মী ফীল্ড ম্যানুয়েলে যে-১৯টি পদ্ধতি
বর্ণনা করা আছে, তার বাইরে আর কোনো উপায় অবলম্বন করে বন্দীদেরকে জেরা করা যাবে না।
এর মধ্য দিয়ে জর্জ বুশের
আমলে বন্দীদের জেরা করার জন্য গোপন পদ্ধতি প্রয়োগের যে-ক্ষমতা সিআইএর হাতে তুলে
দেয়া হয়েছিলো, তা রহিত হয়ে গেলো।
এ-প্রসঙ্গে ওবামা বলেন,
'আমরা বিশ্বাস করি কাউকে নির্যাতন না করা সংক্রান্ত আইনটি মান্য করেই আমরা
কার্যকরভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য [কোনো বন্দীর কাছ থেকে] বের করে আনতে পারি।'
ওয়াইট
হাউসে ওবামা যখন গুরুত্বপূর্ণ আদেশনামাতে স্বাক্ষর করছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত
ছিলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর ১৬ জন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল।
এরা আদেশনামাতে
স্বাক্ষর-মুহূর্তে জেনারেলরা সকলে ওবামার চেয়ারের পিছনে দাঁড়িয়ে একযোগে করতালি দিতে
থাকেন।
মানবাধিকার সংক্রান্ত সংগঠন
হিউম্যান রাইটস ফার্স্টের প্রচেষ্টায় জেনারেলরা গত কিছুদিন ধরে একযোগে ওবামার
ট্র্যানজিশন টীমের সাথে লবী করছিলেন।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর
ধরেই বন্দীদের উপরে নির্যাতনমূলক পদ্ধতি প্রয়োগের দায়ে বুশ প্রশাসনের কড়া সমালোচনা
হচ্ছিলো যুক্তরাষ্ট্র ও সারা বিশ্বে।
কিন্তু জর্জ বুশ ও ভাইস
প্রেসিডেন্ট ডিক চেনী সব-সময় এ-পদ্ধতিকে আইন-সম্মত হিসাবে দাবী করতেন।
বুশ-চেনীর দাবী ছিলো,
তাদের প্রয়োগকৃত পদ্ধতির ফলে আরেকটি নয়-এগারো ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।
নতুন
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসা ঘোষণাটিকে সর্ব-মহল থেকে স্বাগত জানানো হলেও,
কিছু-কিছু বিষয় স্পষ্ট
না হবার ব্যাপারটি নিয়ে কথা উঠেছে।
উদাহরণ স্বরূপ,
গুয়ানতানামোতে এখন যারা বন্দী হিসাবে আছেন, তাদের মধ্যে কতোজনকে এবং কোথায় বিচার
করা হবে।
এছাড়াও আদেশনামাটি এমনভাবে তৈরী
করা হয়েছে যাতে করে ভবিষ্যতে কখনও প্রয়োজন মনে করলে প্রেসিডেন্টশিয়াল অর্ডারবলে
ওবামা আবারও বুশ আমলের মতো সিআইএর ডিটেনশন ও জেরা করার পদ্ধতিটি চালু করে দিতে
পারবেন।
মার্কিন বিশ্লেষকদের একটি অংশের
ধারণা, ওসামা বিন লাদেন বা আল কায়দার অন্য কোনো শীর্ষ-নেতাকে কখনও গ্রেফতার করা
সম্ভব হলে ওবামা প্রশাসন হয়তোবা বুশ আমলের বন্দী-আটক ও সামরিক বিচার-পদ্ধতির দিকে
দৃষ্টি ফিরাতে পারেন।
সিআইএর পক্ষ থেকে নতুন
ঘোষণাটিকে ঠিক কীভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে, সে-ব্যাপারেও কয়েকটি মিডিয়াতে প্রশ্ন রাখা
হয়েছে।
গুয়ানতানামো কারাগার বন্ধ করে
দেয়ার ক্ষেত্রে এক বছরের সময়-সীমার ব্যাপারটি নিয়েও প্রশ্ন করা হচ্ছে কোনো-কোনো মহল
থেকে।
এ-প্রসঙ্গে নিউইয়র্ক-ভিত্তিক
সেন্টার ফর কনস্টিটিউশন্যাল রাইটসের নির্বাহী পরিচালক ভিনসেন্ট ওয়ারেন বলেন,
'মানুষগুলোকে গুয়ানতানামোতে ঢুকিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে সময় লেগেছে মাত্র কয়েকটি দিন;
তাদেরকে সেখান থেকে বের করে আনার জন্য এক বছর সময় লাগা উচিত নয়।'
উল্লেখ্য, খালেদ শেখ মেসহালের মতো বন্দীদের কাছ থেকে তথ্য বের করার ক্ষেত্রে
বন্দী-জেরা সংক্রান্ত বিদ্যমান নিয়মাবলীগুলো যথেষ্ঠ নয় বলে গত কয়েক বছর ধরেই যুক্তি
দেখিয়ে চলেছেন সিআইএর উচ্চ পদস্থ কিছু কর্মকর্তা।
২০০২ সাল থেকেই আল কায়দা
বন্দীদের আটক রাখা ও জেরা করার জন্য একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে সিআইএ।
লন্ডনঃ ২3
জানুয়ারী ২০০৯ |