|
অভ্যূত্থান প্রচেষ্টার অভিযোগে
সেনা-পুলিস
কর্মকর্তা
গ্রেফতার তুরস্কে
সরকার
উৎখাতের প্রচেষ্টার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে বৃহস্পতিবার কমপক্ষে ত্রিশ ব্যক্তিকে
গ্রেফতার করা হয়েছে তুরস্কে।
এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন
সেনা-পুলিস কর্মকর্তা ও ট্রেইড ইউনিয়ন নেতা আছেন বলে জানা গেছে।
সেক্যুলারপন্থী
গ্রেফতারিতরা ইসলামপন্থী সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছিলেন বলে দাবী করা হয়েছে।
উল্লেখ্য,
অভ্যূত্থান প্রচেষ্টার
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে গত কয়েক দিন ধরেই তুরস্কে বড়ো ধরণের ধড়-পাকড় চালানো হচ্ছে।
খবরে
প্রকাশ,
কথিত ষড়যন্ত্রের সাথে যুক্ত
থাকা ব্যক্তিদের গ্রেফতার করার জন্য প্রথমে রাজধানী আঙ্কারাতে মেটাল ওয়ার্কার্স
ইউনিয়নের অফিস ও একটি টিভি স্টেইশনে অভিযান চালায় পুলিস।
ট্রেইড ইউনিয়ন ও টিভি
স্টেইশনটি সেক্যুলারপন্থীদের দ্বারা পরিচালিত বলে জানা গেছে।
এ-দুটি স্থান থেকে কয়েক
জন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এছাড়াও দেশের ১৩টি
প্রদেশে একযোগে চালানো অভিযানে আটক ৩০ ব্যক্তির মধ্যে বেশ কয়েক জন সেনা ও পুলিস
কর্মকর্তা আছেন।
এদের সংখ্যা ঠিক কত তা জানানো
হয়নি।
তবে বেসরকারী একটি বার্তা
সংস্থার পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সেনা অফিসারের সংখ্যা ৮ জন ও
পুলিসের সংখ্যা ৯ জন বলে জানানো হয়েছে।
তবে এ-সংখ্যার পক্ষে
কোনো সূত্র উল্লেখ করতে পারেনি বার্তা সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার
গ্রেফতারকৃতদেরকে ডিটেনশন দেয়া হয়েছে কি-না, তা জানাতে অসম্মতি জানিয়েছে পুলিস।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা,
সর্বশেষ গ্রেফতার
অভিযানের ভিতর দিয়ে ধর্মবাদীদের সাথে সেক্যুলারপন্থীদের চলমান উত্তেজনা আরও বেড়ে
যাবে।
বেশ কিছু দিন ধরেই ধর্মবাদী
প্রধানমন্ত্রী রেজেপ তায়েপ এরদাগনের সরকারের সাথে সেক্যুলারপন্থীদের বিরোধ চলছে।
গত জুলাই মাসে
সাংবিধানিক আদালতের পক্ষ থেকে দেয়া একটি রায়ের পর থেকে উভয় পক্ষের বিরোধ জোরদার করা
হয়েছে।
আদালতের রায়ে ক্ষমতাসীন দলটিকে
নিষিদ্ধ ঘোষণা না করা হলেও অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।
ধর্মবাদী ক্ষমতাসীন দলটি
তুরস্কের সেক্যুলার ঐতিহ্যকে নষ্ট করে দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ আছে।
বৃহস্পতিবারেরটি সহ কয়েক দিন ধরে যে ধর-পাকড় চলছে, তাকে সরকার-বিরোধীদের স্তব্ধ করে
দেয়ার প্রচেষ্টা হিসাবে সমালোচনা করছেন সেক্যুলারপন্থীরা।
কিন্তু ধর্মবাদীদের দাবী
গ্রেফতার অভিযানের মধ্য দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যাবার চেষ্টাকারীদের
আটক করার চেষ্টা করা হচ্ছে মাত্র।
উল্লেখ্য,
গত কিছুদিন আগে একবার
অভ্যূত্থান প্রচেষ্টার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে ৮৬ জন সেক্যুলারপন্থীকে গ্রেফতার করা
হয়েছিলো।
এরা সকলে এরগেনেকন নামের একটি
সংগঠনের সদস্য বলে দাবী করেছে সরকার।
এছাড়াও গত সপ্তাহে একই
অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন ১৮ জন সেক্যুলারপন্থী।
তুরস্কের সর্বশেষ
পরিস্থিতি বর্ণনা করে বিরোধী দলীয় এমপি মুস্তাফা ওজিয়ুরেক সংবাদ-মাধ্যমকে বলেন,
ট্রেইড ইউনিয়নগুলোকে
স্তব্ধ করে দেয়া হচ্ছে,
মিডিয়াকে ভীতির মধ্যে
রাখা হচ্ছে।
তুরস্ক খুব দ্রুতই একটি ভয়ের
সাম্রাজ্যে পরিণত হচ্ছে।
লন্ডনঃ ২3
জানুয়ারী ২০০৯
|