|
কর্মহীনের
সংখ্যা প্রায় দুই-মিলিয়ন
ব্রিটেইনেঃ উদ্বিগ্ন
ট্রেইড ইউনিয়ন
চলমান
অর্থনীতিক সঙ্কটের গভীরতার আরেক দফা প্রমাণ
পাওয়া গেছে ব্রিটেইনে।
বুধবারের খবরে প্রকাশ অর্থনীতির বিধ্বস্ত
অবস্থার পরিণতিতে দেশটিতে কর্মহীন মানুষের বতর্মানে প্রায় দুই-মিলিয়নের কাছাকাছি
এসে দাঁড়িয়েছে।
চলতি
পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন
ট্রেইড ইউনিয়নগুলোর পক্ষ থেকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণে
ভালোভাবে উদ্যোগী হওয়ার জন্য সরকারের প্রতি
আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে,
কর্মসংস্থানহীনতা সংক্রান্ত
উদ্বেগজনক সংখ্যাটি প্রকাশের দিনটিতেও বেশ কিছু
ছাঁটাইয়ের
খবর প্রকাশিত হয়েছে সংবাদ-মাধ্যমে।
সরকারী
সূত্র জানিয়েছে গত নভেম্বর মাস থেকে সারা দেশে ১ লক্ষ ৩১ হাজার কর্মহানী হয়েছে।
এর
পরিণতিতে
ব্রিটেইনে কর্মহীনের সংখ্যা ১ দশমিক ৯২৩ মিলিয়নে এসে
দাঁড়িয়েছে।
ব্রিটেইনে কর্মহীনের এ-সংখ্যা ১৯৯৭ সালের পরে সর্বোচ্চ
বলে জানা গেছে।
এখানে উল্লেখ্য যে ক্রিসমাসের কয়েকটি সপ্তাহের হাজার-হাজার
ছাঁটাই
বা ছাঁটাইয়ের
ঘোষণা সদ্য-প্রকাশিত হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত
হয়নি।
উল্লেখ্য,
ক্রিসমাসের সময় শতাব্দী প্রাচীন রিটেইলার উলওয়ার্থ বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণার
ফলে কাজ-কর্ম হারিয়েছেন ২৭ হাজার মানুষ।
বড়-বড় ব্যাঙ্কগুলোর বেশ কয়েকটির পক্ষ থেকেও এ-সময়ে হাজার-হাজার কর্মী
ছাঁটাইয়ের
ঘোষণা এসেছিলো।
এদিকে,
কর্মহীনতা বৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে সরকারী বেনিফিট গ্রহণকারী মানুষের সংখ্যাও
বাড়ছে ব্যাপকহারে।
শুধুমাত্র গত ডিসেম্বর মাসেই বেনিফিট গ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৮৩ হাজার।
১৯৯০র দশকের শুরুর
দিকে মন্দাকালীন
পরিস্থিতির সময় ছাড়া আর কখনও বেনিফিটভোগীর
সংখ্যা একমাসে এতোটা
বাড়েনি।
এছাড়াও ডিসেম্বরকে ধরে টানা এগারো মাস ধরে ব্রিটেইনে বেনিফিটভোগী সংখ্যা ক্রমাগত
বেড়ে বর্তমানে
১ দশমিক ১৫৭ মিলিয়নে এসে
দাঁড়িয়েছে।
এদিকে
দেশব্যাপী
ছাঁটাইয়ের
সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে চলার ব্যাপারে জরুরী
ব্যবস্থা গ্রহণের
দাবী জানিয়েছে ট্রেইড ইউনিয়নগুলো।
দ্য
পাবলিক এন্ড কমার্শিয়াল
সার্ভিসেস
ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বেকারত্বের হার আশঙ্কাজনক বেড়ে যাবার মুখে বন্ধ হয়ে যাওয়া
জবসেন্টারগুলো খুলে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক
মার্ক
সেরওয়াতকা বলেন,
'জবসেন্টারের
লোকজন মন্দা-আক্রান্ত
লোকজনকে সহায়তা দেয়ার জন্য কঠৌর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।'
এ-অবস্থা অব্যাহত রাখার জন্য কর্মী-সংখ্যা
হ্রাস
করে ২০০৫ সালের স্তরে নিয়ে আসার ভাবনা বাদ দিয়ে, বন্ধ
হয়ে যাওয়া জবসেন্টারগুলো খুলে দেয়ার প্রয়োজনীয়তার উপরে গুরুত্বারোপ
করেন
তিনি।
টিইউসি এর সাধারণ সম্পাদক
ব্রেন্ডন বারবার বলেন,
'গত
মাসের সাথে তুলনায় এ-মাসে কর্মহীনতা বেড়েছে,
কর্মসংস্থান কমেছে,
ছাঁটাই
বেড়েছে এবং কর্মখালীর সংখ্যা কমেছে।'
কর্মহীনের
সংখ্যা সংক্রান্ত
উদ্বেগজনক খবরটি প্রকাশের দিনেও বেশ কিছু
ছাঁটাইয়ের
ঘোষণা এসেছে ব্রিটেইনের মিডিয়াতে।
বুধবার এরিকসন কৌম্পানীর
পক্ষ থেকে সারা বিশ্বে ৫ হাজার কর্মী
হ্রাসের
ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
তবে
ব্রিটেইনে কত লোক এর ফলে চাকুরী হারাবেন তা জানাতে অস্বীকৃতি
জানিয়েছে এরিকসন।
আইটি
ইলেকট্রনিক্স বিশ্বব্যাপী ৭ শত
ছাঁটাইয়ের
সিদ্ধান্ত
জানিয়েছে।
এর
মধ্যে ব্রিটেইনের ওয়েব্রিজ এর অফিস থেকে একশো
লোক চাকুরী হারাবেন।
অন্যতম বৃহৎ রিটেইলার সেইন্সবুরি'স এর পক্ষ থেকে লন্ডনের প্রধান অফিসে দুইশ
ছাঁটাইয়ের
খবর দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সারা দেশ থেকে সর্বমোট
১১ শত ছাঁটাইয়ের
খবর পাওয়া গিয়েছিলো।
লন্ডনঃ ২২
জানুয়ারী, ২০০৯
|