|
গুয়ানতানামৌতে বিচার-প্রক্রিয়া বন্ধের
নির্দেশঃ
কারাগারও
বন্ধ হবে
প্রেসিডেন্ট
পদে বসার
স্বল্পতম
সময়ের মধ্যে গুয়ানতানামৌ বে কারাগারের
ভিতরে চালু থাকা বিচার-প্রক্রিয়া বন্ধ করে
দিয়েছেন বারাক ওবামা।
গুয়ানতানামো কারাগারে বন্দীদের
বিচার চালানোর জন্য মিলিটারী কমিশন সিস্টেমস নামের বিচার প্রক্রিয়া চালু করা
হয়েছিলো।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ওবামার পদক্ষেপটিকে
স্বাগত
জানানো হয়েছে।
সর্বশেষ
সংবাদে প্রকাশ,
বিচার প্রক্রিয়া বন্ধের ধারাবাহিকতায় আগামী বছর খানেক সময়ের মধ্যে
গুয়ানতানামৌ কারাগারটি বন্ধ করে দেয়া হবে।
বুধবার প্রকাশিত খবরে জানা যায়,
মঙ্গলবার মধ্যরাতের ঠিক আগে-আগে বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়া
সংক্রান্ত
নির্বাহী নির্দেশটি
পৌঁছে
যায় গুয়ানতানামৌতে।
নতুন প্রশাসনের
সেক্রেটারী অফ ডিফেন্স রবার্ট
গেইটস স্বাক্ষরিত
নির্দেশটিতে
'প্রেসিডেন্টের
আদেশক্রমে'
কথাটি উল্লেখ করা হয়।
বিচার-প্রক্রিয়া বন্ধের নির্দেশ সংক্রান্ত
চিঠিতে 'মিলিটারী
কমিশনের কর্ম-প্রক্রিয়া এবং কমিশনের সামনে বর্তমানে
বিচারাধীন মামলাগুলো মূল্যায়নের জন্য নতুন অভিষিক্ত প্রেসিডেন্ট ও তার প্রশাসনের
সময়ের প্রয়োজনীয়তার'
কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে কমিশনের হাতে ২১ মামলা আছে।
এছাড়াও তিনজন বন্দীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অভিযুক্ত হয়েছে।
সর্বশেষ ঘোষণাটির ফলে
মূল-পরিকল্পনাকারী হিসাবে নিজেকে বর্ণনাকারী খালেদ শেখ মোহাম্মদসহ এক-এগারোর হামলার
সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত পাঁচজন বন্দীর বিচার স্থগিত হয়ে যাবে।
এক-এগারোর হামলার কিছু দিন পরে গুয়ানতানামৌতে যে বিচার-প্রক্রিয়া শুরু হয় তা
মার্কিন বিচার ব্যবস্থা সমুন্নত রাখতে পারেনি বলে অনেক সময় অভিযোগ এসেছে।
নতুন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসা
খবরের ব্যাপারে বক্তব্য প্রদানকালে গুয়ানতানামৌর চীফ মিলিটারী প্রসিকিউটর কর্ণেল
লরেন্স মরিস বলেন, 'একটি
খোলা-মনের,
নিবিড় মূল্যায়নের ব্যাপারটি বিচার-প্রক্রিয়ার জন্য ভালো হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।'
বিচার প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরণের পরিবর্তন আনা হলেও তা ভালোর জন্যই করা হবে
বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য,
গুয়াতানামৌতে শেষ পর্যন্ত
সামরিক কমিশন ভিত্তিক বিচার-প্রক্রিয়া চালু থাকবে কিনা তা নিয়ে অনেক বিশ্লেষক
সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
স্মরণ করা যেতে পারে নির্বাচনী প্রচারণার সময় গুয়ানতানামৌতে সামরিক কমিশনের
পরিবর্তে ফেডারেল আদালতের মাধ্যমে বন্দীদের বিচার করার ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেছিলেন
ওবামা।
তা সম্ভব না হলে সামরিক
কমিশনের মধ্যেই সাধারণ আদালতে বিধি-বিধানগুলো চালু করার কথা বলেছিলেন তিনি।
এদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর
পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের গুয়ানতানামৌ বিচার-প্রক্রিয়া বন্ধের
ঘোষণাকে স্বাগত জানানো হয়েছে।
এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিতে মানবাধিকার ও আইনের শাসনের
জন্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিকর পুরোনো নীতিমালাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসন পুরোপুরি
পরিত্যাগ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের জামিল দাকোয়ারের পক্ষ থেকে নতুন ঘোষণাকে ইতিবাচক
হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
তবে শুধুমাত্র
বিচার-ব্যবস্থা বন্ধের ঘোষণার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি জানান, প্রেসিডেন্টের ওবামার
আদেশটিতে কলঙ্ককর গুয়ানতানামৌর টিকে থাকার পথ খোলা রয়ে গেছে।
হিউম্যান রাইটস ফার্স্ট এর পরিচালক গ্যাবর রৌনা বলেন, 'এটি
একটি বিশাল প্রাথমিক পদক্ষেপ কিন্তু এটি শুধুই প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র।'
তবে রৌনা জানান, ওবামার
সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে গুয়াতানামৌতে বিচারাধীন মামলা ও মিলিটারী কমিশনের পুরো
কার্যক্রমের ব্যাপারে ভালোভাবে মূল্যায়ন পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের ধারণা গুয়ানতানামৌতে বিচার-প্রক্রিয়া বন্ধের ধারাবাহিকতাতে
সামনের দিনগুলোতে কারাগারটি বন্ধ করে দেয়া ঘোষণা আসার সমূহ সম্ভাবনা আছে।
দু'একটি সংবাদ মাধ্যমে অবশ্য আগামী সপ্তাহ থেকে গুয়ানতানামৌ কারাগারটি বন্ধ করে
দেয়া সংক্রান্ত
দীর্ঘ আমলাতান্ত্রিকতার সূচনা করা হতে পারে বলে দাবী করা হয়েছে।
বর্তমানে কারাগারটিতে প্রায় আড়াই শতের মত বন্দী থাকার কথা জানা যায়।
নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় এক-এগারো পরবর্তী সময়ে বন্দী নিপীড়নের জন্য কুখ্যাত
কারাগারটি বন্ধ করে দেয়া অঙ্গীকার করেছিলেন ওবামা।
লন্ডনঃ
২২ জানুয়ারী, ২০০৯ |