|
ওবামা অভিষেক ভাষণঃ সাহসে ভর করে আশায় বুক বাঁধার
আহবান
চরম
শীত উপেক্ষা করে অভিষেক অনুষ্ঠান উদযাপনে ভোর রাত থেকে সমবেত হওয়া মিলিয়ন মানুষকে
'আমার
সাথী নাগরিকবৃন্দ'
সম্বোধন করে মঙ্গলবারের ভাষণটি শুরু করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ
নেয়া প্রথম আফ্রৌ-আমেরিকান বারাক ওবামা।
প্রায় ঊনিশ মিনিট দীর্ঘ
ভাষণে চলমান অর্থনীতিক সঙ্কট, বহির্বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান থেকে শুরু করে
নিরাপত্তা, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও জনমনে আশা-সঞ্চারের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে কথাবার্তা
বলেন।
উদ্ধোধনী বক্ততায় ওবামা জানান,
যুক্তরাষ্টেরের চলমান সঙ্কট যত গভীর হোক না কেনো জনগণকে সঙ্গী-সাথী
করে তা থেকে উত্তরণ ঘটানোই হবে তার কাজ।
ভাষণের
শুরুর দিকে ওবামা জানান, যুক্তরাষ্ট্র যে এখন একটি সঙ্কটের মধ্যপথে আছে তা সকলের
জন্যই সহজে বোধগম্য।
এ-প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
'আমাদের জাতি এখন সহিংসা ও ঘৃনার বোধ লালনকারী বহু-দূর বিস্তৃত একটি নেটওয়ার্কের
বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছে।
আমাদের অর্থনীতির
পরিস্থিতি সাংঘাতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।'
ওবামার মতে,
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির এহেন পরিস্থিতির পেছনে লোভ-লালসার সাথে-সাথে কিছু মানুষের
দায়িত্ব জ্ঞানহীনতা কাজ করেছে।
কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও
নতুন এক যুগের জন্য প্রস্তুতিতে যৌথ ব্যর্থতাও এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হবার পেছনে কাজ
করেছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।
দেশের পরিস্থিতির ভয়াবহ
অবস্থা বর্ণনা করে সদ্য-দায়িত্ব গ্রহণকারী প্রেসিডেন্ট বলেন,
'মানুষ
ঘরবাড়ী হারাচ্ছে, চাকুরী খোয়াচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বসে যাচ্ছে।
আমাদের হেলথ কেয়ারের খরচ
অত্যন্ত বেশি, আমাদের স্কুলগুলোতে ব্যর্থতার হার প্রচুর।'
তবে এসব সমস্যার
সাথে-সাথে মার্কিনীদের ধ্বসে পড়া আত্মবিশ্বাসের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ওবামা -
তার মতে যুক্তরাষ্ট্রের পতন অবশ্যম্ভাবী হবার ব্যাপারে সৃষ্টি-ছাড়া এক ভয় যেনো পেয়ে
বসেছে মানুষ-জনকে।
উপরোক্ত
নেতিবাচক পরিস্থিতি মোকাবেলার অঙ্গীকার করে ওবামা জানান,
বিদ্যমান চ্যালেইঞ্জগুলো বাস্তব,
মারাত্মক এবং সংখ্যায় অনেক।
এ-সময় তিনি বলেন,
'কিন্তু
জেনো রাখো, আমেরিকা - এগুলোকে মোকাবেলা করা হবে।'
নিজের অভিষেকের দিনটিকে
ছিঁচকে
লালসা আর ঠুনকো আশাবাদ অবসানের দিন হিসাবে আখ্যায়িত করেন ওবামা।
তার বৃক্ততার সময়টিতে
বিদায় নেয়া প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ অতিথিদের আসনে বসেছিলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট
দায়িত্ব গ্রহণকালীন বৃক্ততায় সমবেত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
'আমাদের
জাতির মহত্ত্ব পুনঃনিশ্চিত
করার ক্ষেত্রে আমরা এটা বুঝতে পারি যে মহত্ত্ব কখনও আপনা-আপনি অর্জিত হয়না।
এটা অর্জন করে নিতে হয়।'
যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে
গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিপুল কর্মোদ্যোগ শুরু করারও বিস্তারিত ফিরিস্তি দেন ওবামা।
যুক্তরাষ্ট্রকে ধর্মে
বিশ্বাসী ও ধর্মে অ-বিশ্বাসী, সকল ভাষা ও সংস্কৃতি
ও সারা পৃথিবী থেকে আসা মানুষের এক মিলন-স্থল হিসাবে আখ্যায়িত করেন ওবামা।
তিনি আরও
জানান, ইরাক
থেকে দায়িত্বপূর্ণভাবে
সরে আসার প্রয়াস শুরু করার সাথে-সাথে, আফগানিস্তানে শ্রম-সাধ্য বিজয় অর্জনের
সার্বিক প্রচেষ্টা চালানো হবে।
পুরোনো বন্ধু এবং পুরোনো
শত্রুদের সাথে নিয়ে পরমাণু অস্ত্রের
ঝুঁকি
হ্রাস ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি মোকাবেলা করার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র নিরলস পরিশ্রম
করবে বলে উল্লেখ করেন ওবামা।
যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের
উদ্দেশ্য করে ওবামা বলেন, 'আমরা
আমাদের জীবন-প্রণালীর
জন্য দুঃখিত হতে পারি না, এটি টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে কোনো
ছাড়ও দিতে পারি না।'
যারা, তার ভাষায়,
সন্ত্রাস ও নিরপরাধ মানুষ হত্যার মাধ্যমে নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাইছেন তাদের
উদ্দেশ্য করে ওবামা বলেন, 'আপনারা
আমাদের হারাতে পারবেন না, আমরা আপনাদের হারিয়ে দেবো।'
পারস্পরিক
স্বার্থ
ও সম্মানের ভিত্তিতে সামনের দিনগুলোতে কাজ করার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে
'মুসলিম
বিশ্বের' প্রতি আহ্বান
জানান।
সাহসে ভর
করে আশায় বুক বেঁধে
বিদ্যমান গভীর সঙ্কটগুলো মোকাবেলার জন্য জনগণের
প্রতি আহ্বান
জানানোর মধ্য দিয়ে ভাষণ শেষ করেন ওবামা।
লন্ডনঃ
২১
জানুয়ারী ২০০৯
|