|
মঙ্গলবারে ওবামার অভিষেক ভাষণঃ
ভাষণ-লিখিয়েদের মূল্যায়ন
মঙ্গলবার
দায়িত্ব গ্রহণ-কালে
বারাক ওবামার দেয়া প্রায় উনিশ মিনিটের ভাষণটি নিয়ে শুরু হয়ে গেছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
ইরাক-আফগানিস্তান, আবু
গারিব-গুয়ানতানামো থেকে শুরু করে সর্বশেষ গাজাতে ইসরায়েলী হামলায় নিষ্ক্রিয় থাকার
মতো ইস্যুগুলোতে আন্তর্জাতিক মহলের তুমুল সমালোচনা আর সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রায়
ভেঙ্গে পড়া অর্থনীতিক পরিস্থিতিতে অভিষেক-বৃক্ততায় ওবামা কী বলেন তা নিয়ে দেখা
দিয়েছিলো তুমুল আগ্রহ।
অনেকের ধারণা ছিলো বারাক
ওবামার ভাষণটি মার্কিনীদের সর্বকালের অন্যতম প্রিয়-প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডীর
অভিষেক-ভাষণের মতো স্মরণীয় হবে।
মঙ্গলবার ওবামা কী
বলেছেন আর কী বলা বাকী রেখেছেন তা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলাপচারিতা।
ভাষণ শেষ হবার কিছু সময়
পরে এ-ব্যাপারে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেছেন সাবেক কয়েকজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের
ভাষণ-লিখিয়ে ব্যক্তিত্ব।
নিউইয়র্ক টাইমস থেকে
নেয়া তাদের মূল্যায়নের সার-সংক্ষেপ পড়ুন নিচেঃ
গর্ডন
স্টুয়ার্ট, প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের বৃক্ততা-লেখক
গর্ডন
স্টুয়ার্ট মনে করে বারাক ওবামার ভাষণটি ছিলো এক কথায় ভালো।
তার মতে,
ওবামার খারাপ ভাষণ দেবেন এমটি কল্পনা করাও মুশকিল।
স্টুয়ার্টের মতে
অভিষেক-ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের ভিনদেশী ও অভ্যন্তরীন শত্রু
আর অর্থলোভীদের উপরে আক্রমণ চালানো হয়েছে।
আশাবাদ জাগিয়ে
তোলা, দায়িত্বশীলতা গ্রহণ ও নেতৃত্বদানে আগ্রহের ব্যাপারটিও পরিস্ফূট হয়েছে
বক্তব্যে।
চমৎকার ভাষা শৈলীর সাথে-সাথে
আবেগ জাগানোর মতো অংশও ছিলো ভাষণে।
তবে
ওবামার ভাষণের সারবত্তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন গর্ডন স্টুয়ার্ট।
ওবামা আসলে সুস্পষ্টভাবে
কী বলছেন তা বুঝতে চেয়েছেন জিমি কার্টারের আমলের বৃক্ততা-লেখক।
তার মতে ওবামার ভাষণটি
বুদ্ধিদীপ্ত ও সুলিখিত কিন্তু এতে আগামী দিনের করণীয় সম্পর্কে
স্পষ্ট
কোনো
দিক-নির্দেশনা নেই।
ম্যারী
কেইট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের ভাষণ-লেখক
জর্জ
বুশের শাসনামলের দিকে ইঙ্গিত করে ম্যারী ক্যারি জানান,
গত আট বছর ধরে মার্কিনীরা একটি ভালো ভাষণের জন্য অধীর হয়ে অপেক্ষা
করছিলো।
তবে তিনি মনে
করেন,
গত রোববার লিঙ্কন মেমৌরিয়াল
কনসার্টে বারাক ওবামার দেয়া ভাষণটি মানের দিক থেকে অভিষেক ভাষণের চেয়ে উত্তম ছিলো।
মঙ্গলবারের ভাষণটি গুনগত
মানের চেয়ে শব্দ ব্যবহারে এক-ধরণের পুরুষালী ভাবের দেখা পেয়েছেন ম্যারি ক্যারি।
এছাড়াও জন এফ কেনেডীর
অভিষেক ভাষণের সাথে ওবামার ভাষণের কিছুটা মিল থাকার কথা জানিয়েছেন ক্যারি।
ওবামার ভাষণে মূল্যবোধের
চিরকালীন আবেদন এবং কঠৌর পরিশ্রম, সাহস ও সততার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব প্রকাশ পাবার
ব্যাপারটির প্রশংসা করেছেন ক্যারি।
জেফ
সিসোল
বিল ক্লিন্টনের ভাষণ লেখক
জেফ
সিসোল মনে করেন,
বারাক ওবামা একটি পুরুষালী,
কঠোর-মনোভাব এবং ছাড় না দেয়া মনোভাব প্রকাশকারক ইতিবাচক একটি অভিষেক ভাষণ প্রদান
করেছেন।
ভাষণে ওবামার সামর্থ প্রকাশিত
হবার সাথে-সাথে এটি জনগণের
মধ্যে সামর্থ্যের
মনোভাব সঞ্চারে সক্ষম হয়েছে বলেও মনে করেন
সিসোল।
তবে
নির্বাচনী প্রচারণা-কালে সর্বক্ষণ
'পরিবর্তন'
শব্দটির উপরে গুরুত্ব আরোপ করলেও,
অভিষেক-ভাষণে ওবামা কর্তৃক মাত্র দুইবার শব্দটি ব্যবহৃত হবার ব্যাপারে দৃষ্টি
আকর্ষণ করেন সিসোল।
তিনি আরও জানান,
অভিষেক ভাষণে বিল ক্লিন্টন 'আশাবাদ'
শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন সর্বমোট এগারোবার।
ওবামার ভাষণটিকে
সুলিখিত-সুললিত আখ্যায়িত করে সিসোল জানান,
যেসব রেটৌরিক্স ব্যবহৃত হয়েছে তা শ্রোতাদের মধ্যে খুব একটা দাগ
কাটতে পারেনি।
ওবামার মঙ্গলবারের
ভাষণটিকে পূর্ববর্তী ভাষণগুলোর চেয়ে সেরা হিসাবে মানতেও নারাজ জেফ সিসোল।
তিনি জানান,
ওবামা আগে কিভাবে লোকের চোখে কান্না আনতে হয় তা দেখাতে পেরেছিলেন,
কিন্তু মঙ্গলবারের ভাষণের মধ্য দিয়ে মানুষ-জনকে চিন্তা করানো এবং দায়িত্ব পালনে
মনোনিবেশে আগ্রহী করানোর ব্যাপারে দৃঢ়-প্রতিজ্ঞ মনে হয়েছে।
উইলিয়াম
গ্যাভিন রিচার্ড নিক্সনের ভাষণ লেখক
ওবামার
ভাষণে শব্দের ফুলঝুরি কম ব্যবহৃত হবার কথা বলেছেন উইলিয়াম গ্যাভিন।
তবে তিনি মনে করেন এমন
হওয়াটা মন্দ কোনো
ব্যাপার নয়।
গ্যাভিন জানান,
ওবামা মঙ্গলবার কেমন শব্দাবলী ব্যবহার করেছেন তা গুরুত্বপূর্ণ নয়
বরং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম একজন আফ্রৌ-আমেরিকানের প্রেসিডেন্ট পদে অভিষিক্ত
হবার জন্যই মানুষ দিনটিকে স্মরণে রাখবে।
গ্যাভিন বলেন,
'তিনি
[ওবামা] চাইলে ২০টি মিনিট নীরবে দাঁড়িয়েও থাকতে পারতেন, তবু তিনি আমেরিকার গভীরতর
বিষয়গুলো নিয়ে [জনতার সাথে] যোগাযোগ স্থাপনে সক্ষম হতেন।'
ক্ল্যার্ক এস জাজ রৌন্যাল্ড রিগানের ভাষণ লেখক
বারাক
ওবামার ভাষণকে নিখাদ মার্কিন-ধাঁচের এক অভিষেক ভাষণ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন ক্লার্ক
জাজ।
উদাহরণ-স্বরূপ
জাজ জানান, ওবামা
তার ভাষণে আব্রাহাম লিঙ্কনের অনুসরনে পুরোনো শত্রুতার-মনোমালিন্য
দূরে সরিয়ে রাখার কথা বলেছেন।
ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট ও
রৌন্যাল্ড রিগ্যানের মতো করে চলমান সঙ্কট ও যে-নীতিগুলো অনুসৃত হবে সে-ব্যাপারে কথা
বলেছেন ওবামা।
এছাড়াও বিশ্বকে উদ্দেশ্য করে
বলা ওবামার বক্তব্যে জন এফ কেনেডীর ছায়া দেখেছেম জাজ।
রিগ্যানের ভাষণ-লিখিয়ের
মতে জর্জ ওয়াশিংটনের শব্দ ব্যবহারের মধ্য দিয়ে দেশপ্রেমের চেতনা জাগাতেও সফল হয়েছেন
বারাক ওবামা।
লন্ডনঃ
২১
জানুয়ারী ২০০৯ |