|
থাই-রাজার সমালোচনার দায়ে অস্ট্রেলীয় ঔপন্যাসিকের সশ্রম
কারাদণ্ড
রাজার প্রতি অসম্মানের শাস্তি
সংক্রান্ত বিতর্কিত আইন ব্যবহার করে অস্ট্রেলিয়ার একজন লেখককে তিন বছরের সশ্রম
কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়েছে থাইল্যান্ডে।
আদালতে রায় শুনার পরে
কারাগারের দিকে নিয়ে যাবার পথে দণ্ডপ্রাপ্ত লেখকের পক্ষ থেকে পুরো ঘটনাটিকে ঘুমের
ঘোরে থাকা দুঃস্বপ্নের
মত ব্যাপার হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
বিলম্বে প্রাপ্ত খবরে প্রকাশ,
রোববার ব্যাঙ্ককের একটি আদালতে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হ্যারী
নিকৌলায়িডস (৪১) কে থাই রাজার প্রতি অসম্মানের অভিযোগে তিন বছরের দণ্ড দেয়া হয়।
উল্লেখ্য,
২০০৫ সালে প্রকাশিত
ভারিসিমিলিচ্যুড নামের পাঠকের অগোচরে থাকা একটি উপন্যাসের জন্য নিকৌলেইডসকে
কারাদণ্ড দেয়া হয়।
খবরে প্রকাশ,
উত্তর থাইল্যান্ডের একটি
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিকৌলেইডসের লিখিত উপন্যাসটি বানিজ্যিকভাবে চূড়ান্তরকমের
অসফল।
প্রকাশিত হবার পরে এটির
মাত্র সাতটি কপি বিক্রি হয়েছে।
কিন্তু ব্যাঙ্ককের সেন্ট্রাল
ক্রিমিন্যাল কৌর্টের বিচারকটির মতে উপন্যাসটির একটি প্যারাতে কল্পিত একজন যুবরাজের
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এমন আলোচনা করা হয়েছে যা থেকে রাজকীয় ক্ষমতার প্রতি অসম্মান
প্রদর্শনের প্রমাণ
পাওয়া যায়।
তবে ঠিক কিভাবে
'অসম্মান'
প্রদর্শনের প্রমাণ পাওয়া গেছে সে-ব্যাপারে
আদালত স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি।
আদালতে উপস্থিত
সাংবাদিকদেরকেও উপন্যাসের অভিযুক্ত অংশটি উদ্ধৃত না করার সতর্কতা জারী করা হয়েছে।
সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে,
রায়-প্রকাশের দিন হাত কড়া ও পায়ে বেড়ী পরানো অবস্থায় নিকৌলেইডসকে
আদালতে নিয়ে আসা হয়।
উল্লেখ্য,
কিছু দিন আগে থাইল্যান্ড
থেকে দেশের বাড়ীতে যাবার চেষ্টা করার সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের আগে পর্যন্ত
রাজ-অবমাননা সংক্রান্ত অভিযোগটির ব্যাপারে কিছুই জানতেন না তিনি।
আদালত থেকে পুনরায়
কারাগারে যাবার সময় আদালত প্রাঙ্গনে উপস্থিত সাংবাদিকদের নিকৌলেইডস বলেন,
'এটা
সত্য হতে পারে না।
এটা আমার কাছে ভয়ঙ্কর এক
দুঃস্বপ্ন
বলে মনে হচ্ছে।
এটা আমার কাছে [রূপকথা] এলিস ইন
ওয়ান্ডারল্যান্ডের মত এক অভিজ্ঞতা।
আমার সত্যি মনে হচ্ছে যে
আমি জেগে উঠে দেখবো এমন কোনো কিছুই ঘটেনি।'
জানা গেছে থাইল্যান্ডে চালু
থাকা 'লিসি-ম্যাজিস্টি'
বিতর্কিত আইনটি ব্যবহার
করে নিকৌলেইডস সাজা দেয়া হয়েছে।
এ-আইনটিতে রাজ পরিবার
বিশেষ করে ৮১ বছর বয়সী রাজা ভূমিবলের ব্যাপারে
'অবমাননাকর'
কিছু প্রকাশের জন্য কড়া শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
এমনকি রাজার বিরুদ্ধে
মুখে কোনো 'অবমাননাকর'
উক্তি করার দায়েও থাইল্যান্ডে কোনো ব্যক্তির ১৫ বছর পর্যন্ত
কারাদণ্ড দেয়া হতে পারে।
থাইল্যান্ডের
রাজ-পরিবারের সমালোচনাকারী ব্যক্তিদের মুখ বন্ধ করার কাজে আইনটি ব্যবহৃত
হবার অভিযোগ আছে।
উল্লেখ্য,
সাম্প্রতিক
সময়ে রাজা ও রাজ পরিবারের সদস্যরা অনাকাঙ্খিতভাবেই রাজনীতিক ঘটনাবলীতে জড়িত হচ্ছেন।
২০০৬ সালের সেনা
অভ্যূত্থানকারীরা নির্বাচিত সরকারের পতন ঘটানোর পরে রাজার কাছ থেকে সমর্থন পেয়ে যান।
গত ছয়মাসে দুইজন
প্রধানমন্ত্রীর পতন ঘটানো আন্দোলনকারীদের
সাথে রানী সিরিকিতের
ঘনিষ্ঠতার ব্যাপারেও জনমনে ক্ষোভ থাকার খবর দিয়েছে ভিনদেশী মিডিয়া।
বিতর্কিত আইনটির দ্বারা
নাগরিকদের চূড়ান্ত হেনস্থা হবার বাস্তবতা সত্ত্বেও এ-মাসের শুরুতে বিচারমন্ত্রী
পিরাপান সালিরাথাবিভাগার পক্ষ থেকে আইনটির কঠোরতর প্রয়োগের ঘোষণা দেয়া হয়।
এ-ঘোষণার পরপর
ইন্টারনেটে রাজতন্ত্রের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য লেখার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে
গ্রেফতার করা হয়।
এছাড়া রাজ-পরিবারের প্রতি
সমালোচনামূলক হিসাবে চিহ্নিত করে গত কয়েক মাসে ২ হাজার তিনশোটি ওয়েবসাইট বন্ধ করে
দেয়া হয়েছে।
লন্ডনঃ
২০ জানুয়ারী ২০০৯ |