|
গাজায়
অস্ত্র-বিরতিঃ অর্থ সাহায্য সহ
আন্তর্জাতিক
অঙ্গনে নানা উদ্যোগ
গাজায়
বাইশ দিন ধরে চলা ইসরায়েলী আগ্রাসনের আপাত সমাপ্তি ঘটেছে। হামলার উদ্দেশ্য পূরণ
হয়েছে জানিয়ে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় একতরফা যুদ্ধ-বিরতি ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে
ইসরায়েলের
বিরুদ্ধে ‘মহান
বিজয়’
দাবী
করে হামাসও শর্ত-সাপেক্ষে এক সপ্তাহের
যুদ্ধ-বিরতি ঘোষণা করেছে।
এদিকে গাজার দুর্গতি মোকাবেলায়
নানামুখী প্রয়াস শুরু করার খবর দিয়েছে জাতিসংঘ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপও আরব
দেশগুলো। সৌদী আরব ও কুয়েতের পক্ষ থেকে গাজা পুনর্গঠনে
বড় অঙ্কের অর্থ প্রদানের ঘোষণা এসেছে সোমবার।
খবরে প্রকাশ, ইসরায়েলের
কাঙ্খিত উদ্দেশ্য সফল হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট শনিবার
রাতে
একতরফা যুদ্ধ-বিরতি ঘোষণা
করেন। ওলমার্ট বলেন, ‘আমরা আমাদের যুদ্ধের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে সমর্থ হয়েছি এবং
তা আশাতীত।’ তবে তিনি
আরও বলেন,
‘যদি আমাদের শত্রুরা হামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে ও
তা
চালিয়ে যেতে চায় তবে
ইসরায়েলী সেনাবাহিনী শক্তি প্রয়োগে পিছু হটবে না।’ সমালোচকরা মনে করছেন, মঙ্গলবার
অভিষিক্ত হতে যাওয়া নতুন মার্কিন প্রশাসনের সাথে সু-সম্পর্ক তৈরী ও আগামী ১০
ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য ইসরায়েলে
পার্লামেন্ট
নির্বাচনের কারণে যুদ্ধ-বিরতির ঘোষণাটি
এসেছে।
এদিকে ইসরায়েলী
ঘোষণার
পরে এক সপ্তাহের যুদ্ধ-বিরতি ঘোষণা
করে হামাস । রবিবার
হামাস
এক বিবৃতিতে জানায়,
গাজা থেকে ইসরায়েলের সকল সৈন্য সরানোর জন্য এক সপ্তাহের যুদ্ধ-বিরতি ঘোষণা করা
হচ্ছে। বিবৃতি পাঠ-কালে
সংগঠনের একজন মুখপাত্র
সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘গাজার
বিরুদ্ধে জায়নবাদীদের তিন সপ্তাহ ধরে চলে আসা আগ্রাসন
ব্যর্থ হয়ে গিয়েছে এবং এ-আগ্রাসন স্রষ্টার আশীর্বাদে আমাদের প্রতিরোধ আন্দোলন ও
জনগণের উপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।’
বিবৃতিটিতে হামাস মানবিক সাহায্য, খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস গাজায় আসতে
দেওয়ার জন্য অবিলম্বে সকল প্রবেশ-পথ উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবী জানায়। ফিলিস্তিনী
সূত্রগুলোর দাবী ইসরায়েলী আগ্রাসনে গাজায় ১৩শো ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এছাড়া বহু
ব্যক্তি মারাত্মক
ভাবে আহত হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমগুলো জানায়, যুদ্ধ-বিরতি কার্যকর হওয়ার পর ধ্বংসস্তুপ
থেকে প্রায় ৯৫টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে প্যালেস্টাইন
সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ স্ট্যাটিস্টিক্স জানায়, প্রায় ২২ হাজারেরও বেশি ঘর-বাড়ী
ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে যা পুনঃনির্মাণে
কমপক্ষে
এক দশমিক নয় বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হবে।
এদিকে মিশরের
প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারাক,
ফিলিস্তিন
প্রেসিডেন্ট মাহ্মুদ
আব্বাস এবং জাতিসংঘ প্রধান
বান
কি-মুন যুদ্ধ-বিরতিকে কিভাবে দীর্ঘায়িত
করা যায় সে-বিষয়ে
বৈঠকে
বসেছেন রবিবার।
বৈঠক শেষে বান বলেন, ‘আমার মনে হয় আগামী দশ দিনের মধ্যেই আমরা প্রয়োজনীয় চাহিদার
রিপৌর্ট তৈরী করে ফেলতে পারবো এবং মানবিক সাহায্যের আবেদন জানাবো।’ বিদায়ী বুশ
প্রশাসনের পররাষ্ট্র সেক্রেট্যারী কণ্ডোলিসা রাইস বলেন , ‘গাজার পরিস্থিতি
স্থিতিশীল ও স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখতে হলে যুদ্ধ-বিরতি দীর্ঘ
করার ক্ষেত্রে
সকল পক্ষের সমর্থন
প্রয়োজন।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট ওবামার এক মুখপাত্র গাজার বর্তমান অবস্থাকে
স্বাগত জানান। তিনি জানান, ওবামা এ-বিষয়ে আরও কিছু কথা বলবেন,
তবে সেটা তার অভিষেকের পর। এদিকে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ওলমার্টের সাথে দেখা
করে যত দ্রুত সম্ভব গাজা সীমান্ত খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ব্রিটিশ
প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন গাজায় ত্রাণ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া গাজার ধ্বংস
হয়ে যাওয়া ঘর-বাড়ী পুনঃনির্মাণের জন্য তিনি ২০ মিলিয়ন পাউন্ডের অর্থ-সাহায্য
প্রদানেরও ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী ব্রাউন মধ্যপ্রাচ্যে অবৈধ অস্ত্রের চোরা-চালান
বন্ধের জন্য নৌ-শক্তি পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। ব্রাউন বলেন, ‘আমরা অস্ত্র
চোরা-চালান বন্ধের জন্য সব কিছুই করবো। আর এটা হলো সে-কারণগুলোর
মধ্যে মূল কারণ যার জন্য সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়েছিলো।’ এদিকে
সোমবার
কুয়েতে অনুষ্ঠিত এক সভা
থেকে গাজাতে দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার সাহায্য প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন আরব নেতৃবৃন্দ
। সৌদী
আরবের বাদশা আবদুল্লাহের পক্ষ থেকে এক বিলিয়ন ডলার দেয়ার কথা জানানো হয়েছে।
গাজায় কর্মরত জাতিসংঘ
কর্ম-কর্তা জন জিং
সোমবার
জানান, সংঘর্ষের পর থেকে
প্রায় অর্ধ-মিলিয়ন মানুষ পানির অভাবে রয়েছেন। এছাড়া বিশাল সংখ্যক মানুষ বিদ্যুতের
অভাবেও রয়েছেন। জিং বলেন, ‘পুনর্গঠনের জন্য আমরা কাজ করবো কিন্তু সীমান্ত খুলে না
দেওয়া পর্যন্ত তা কোনোভাবেই শুরু করা সম্ভব নয়।’ জাতিসংঘ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধ্বংস
হয়ে যাওয়া স্কুলগুলো পুনরায় চালু করার চেষ্টা করবে।
লন্ডনঃ ১৯ জানুয়ারী ২০০৯ |