|
অর্থনৈতিক মন্দার জেরঃ ডাকাতি ও সিঁধেল চুরি ব্যাপক
বৃদ্ধি ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে
সাম্প্রতিক
মাসগুলোতে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস-জুড়ে ডাকাতি ও সিঁধেল চুরির মত অপরাধ প্রবণতার ব্যাপক
বৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে।
প্রধান বিরোধী দল
কনজারভেটিভ পার্টি এবং তৃতীয় বৃহত্তম দল লিবারেল ডেমৌক্র্যাটিক পার্টি বিদ্যমান
পরিস্থিতির ব্যাপারে কড়া সমালোচনা করেছে।
গত বছরের শেষ মাসগুলোতে
এসে পরিস্থিত শোচনীয় হয়ে ওঠার যথেষ্ঠ তথ্য-প্রমাণের সাথে চলমান অর্থনৈতিক
দুরাবস্থার সরাসরি সম্পর্ক আছে বলে মনে করা হচ্ছে।
শনিবার পুলিস সূত্র থেকে গোপনে
প্রাপ্ত পরিসংখ্যান ব্যবহার করে দ্য ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকা জানিয়েছে, ইংল্যান্ড ও
ওয়েলসের পুলিস ফৌর্সের আওতাধীন সর্বমোট ৪৩টি এলাকার মধ্যে ৩১টিতে গত বছরের শেষ চার
মাসে ২০০৭ সালের তুলনায় ডাকাতি ও সিঁদেল চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
জানা গেছে, শুধুমাত্র
২০০৮ এর ডিসেম্বরেই আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৫ হাজার ৫৭২টি আলোচ্য-ধরণের অপরাধ
সংঘটিত হয়েছে।
গ্রেইটার ম্যানচেস্টার, সাফৌক,
গ্লস্টারশায়ার ও কামব্রিয়া পুলিস ফৌর্স ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ডাকাতি ও সিঁদেল
চুরি বৃদ্ধি পাবার তথ্য দিয়েছে।
লিংকনশায়ার পুলিস ফৌর্স
২০০৮ এর সেপ্টেম্বর থেকে অক্টৌবর সময়কালে পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায়
ডাকাতির হার ৯৭ শতাংশ বেড়ে যাবার কথা বলেছে।
তথ্য-মতে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের
প্রতি দুটির মধ্যে একটি পুলিস ফৌর্সের আওতাধীন এলাকাতে গত বছরের শেষ চারমাসে সিঁদেল
চুরি ও ডাকাতি দুটিই বেড়েছে।
আটটি ফৌর্সের আওতাধীন
এলাকাতে শুধু সিঁদেল চুরি ও পাঁচটি ফৌর্সের এলাকাতে শুধু ডাকাতি বেড়েছে।
২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর
থেকে ডিসেম্বর মাসে পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮১৬টি বেশি ডাকাতী ও ৪ হাজার
৭৫৬টি সিঁদেল চুরি সংঘটিত হয়েছে।
হৌম অফিস আগামী সপ্তাহে
পুলিসের কাছে রিপৌর্ট হওয়া অপরাধ বেড়ে যাওয়া সংক্রান্ত যে-সংখ্যাগুলো প্রকাশ করতে
যাচ্ছে, তাতে ২০০৮ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ের তথ্যাদি পাওয়া যাবে।
কিন্তু ইনডিপেডেন্ট
যে-তথ্য দিচ্ছে, তা সর্বশেষ পরিস্থিতির উপরেই আলোকপাত করা হয়েছে।
এদিকে অপরাধ-বৃদ্ধি সংক্রান্ত
সর্বশেষ খবরটিকে ধরে সরকারের কড়া সমালোচনা করেছে বিরোধীরা।
শ্যাডৌ হৌম সেক্রেট্যারী
ডমিনিক গ্রীভ সংবাদ-মাধ্যমকে বলেন,
'পরিসংখ্যানটি
ত্রাসজনক।'
তার মতে, অর্থনৈতিক দুর্গতির
সময়টিতে লাখো মানুষ যখন চাকুরী হারানোর ভয়ের মধ্যে আছে, তখন চুরি ও ডাকাতির
সংখ্যা-বৃদ্ধির খবরটি সবচেয়ে হতাশাজনক।
লিবারেল ডেমৌক্র্যাটিক
পার্টির মুখপাত্র ক্রিস হান ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ডাকাতি ও সিঁদেল চুরি ব্যাপক বৃদ্ধি
প্রসঙ্গে বলেন, 'সুসময়ে অপরাধ প্রবণতা কমে যাবার কৃতিত্ব নেয়ার ব্যাপারে মন্ত্রীরা
উদগ্রীব হয়ে থাকেন, কিন্তু অপরাধ বেড়ে যাবার এ-সময়টিতে কি করবেন তা তাদেরকে অবশ্যই
ব্যাখ্যা করতে হবে।'
বিশেষজ্ঞদের মতে সাম্প্রতিক
মাসগুলোতে বিশ্ব পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে যে-টালমাটাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে, ইংল্যান্ড
ও ওয়েলসে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির ব্যাপারটি তা থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু নয়।
কিংস কলেজের সেন্টার ফর
ক্রাইম
এান্ড
জাস্টিসের পরিচালক রিচার্ড
গার্সাইড বলেন,
'অর্থনৈতিক দুর্যোগের সাথে অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধির ব্যাপারটি বুঝার জন্য অপরাধ
বিজ্ঞান বা মনোবিজ্ঞানে ডিগ্রী থাকার দরকার নেই।'
উল্লেখ্য, অর্থনৈতিক
মন্দা পরিস্থিতির সাথে-সাথে দেশের ভিতরে অপরাধ বেড়ে যাবার ব্যাপারটি নিয়ে সরকারের
ভিতরে আগে থেকেই আশঙ্কা বিরাজ করছিলো।
গত অগাস্ট মাসে
প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনকে হৌম সেক্রেট্যারী জ্যাকী স্মিথ যে-সতর্কতামূলক নৌট
দেয়া দিয়েছিলেন, তা মিডিয়াতে ফাঁস হয়ে গেলে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিলো
সরকার।
লন্ডনঃ ১৮
জানুয়ারী ২০০৯
|