|
বিদায়ী ভাষণে ভুল
স্বীকারের
পাশাপাশি কৃতিত্বও দাবী
করলেন
বুশ
প্রেসিডেন্ট
হিসাবে দেয়া শেষ ভাষণটিতে আট-বছরব্যাপী দায়িত্ব পালনকালে কতিপয় ভুল-ভ্রান্তির
কথা স্বীকার
করে নিয়েছেন।
একই সাথে বুশ জানিয়েছেন তার
গৃহীত নীতিমালার কারণেই
যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে এবং অধিকতর অর্থনৈতিক দুর্গতির
হাত থেকে দেশ রক্ষা পেয়েছে।
শুক্রবার
রাতে ওয়াইট হাউসের
ইস্ট রুমে আমন্ত্রিত
অতিথিদের সামনে দেয়া বিদায়ী ভাষণে বুশ বলেন,
'আপনারা
হয়তো আমার নেয়া কতগুলো কঠিন সিদ্ধান্তের
ব্যাপারে একমত হবেন না, কিন্তু আমি আশা করি
আপনারা একমত হবেন যে কঠিন সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণের
ক্ষেত্রে আমি ইচ্ছুক
ছিলাম।'
ওয়াইট
হাউসে দেয়া বুশের ভাষণটি
দেশব্যাপী টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার
করা হয়।
উল্লেখ্য, ক্ষমতা ছাড়ার শেষ
দিনগুলোতে বুশের জনপ্রিয়তা বর্তমানে
১৫ শতাংশের সামান্য উপরে।
ইরাক-আফগানিস্তান
আগ্রাসন, গুয়ানতানামো বে-আবু গারিব, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী
সর্বোচ্চ মাত্রার মহা-মন্দাসহ
অনেকগুলো ব্যর্থতার কারণে গবেষক-ইতিহাসবিদ-সমালোচকদের কেউ-কেউ বুশকে যুক্তরাষ্ট্রের
ইতিহাসে এ-যাবৎকালের সবচেয়ে নিকৃষ্ট প্রেসিডেন্ট হিসাবে গন্য করতে শুরু
করেছেন।
বুশ অবশ্য শুক্রবারের
ভাষণে নিজের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি প্রদর্শন
করেছেন।
তিনি বলেন, 'বছরগুলো
গড়ানোর সাথে-সাথে বেশীর ভাগ আমেরিকানের জীবন ৯/১১ এর আগের পর্যায়ে
চলে গেছে, কিন্তু আমার ক্ষেত্রে তা হয়নি।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন,
সাত বছরের অধিক সময়কালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উপরে আর কোন সন্ত্রাসবাদী
হামলা হয়নি।
গুয়ানতানামৌ বে এর মত বিষয়টি
নিয়ে দেশে-বিদেশে যে সমালোচনা আছে তাকে তিনি
'বৈধ
বিতর্ক'
হিসাবে আখ্যায়িত করেন।
আফগানিস্তানে
অভিযান প্রসঙ্গে বুশ বলেন,
'তালেবানরা
যেখানে আল কায়দাকে লালন করতো এবং রাস্তার
উপরে নারীদের দাঁড়
করিয়ে পাথর মারতো তেমন এক জাতি থেকে শিশু গণতন্ত্রের
উদ্ভব হয়েছে আফগানিস্তানে।'
ইরাকে অভিযান প্রসঙ্গে
তিনি বলেন যে একটি
নির্মম
গণতন্ত্র
এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াল শত্রু
থেকে, ইরাক মধ্যপ্রাচ্যের কেন্দ্রে
একটি আরব গণতন্ত্র
ও যুক্তরাষ্ট্রের
বন্ধুতে পরিণত
হয়েছে।
অভ্যন্তরীন ক্ষেত্রেও নিজের কৃতিত্ব দাবী করেন বুশ।
তিনি জানান শিক্ষা, চিকিৎসা ও কল্যাণ-মূলক
প্রৌগ্রামগুলোতে গত আট বছরে অনেকগুলো বড় ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ
করা হচ্ছে।
এছাড়া দেশের অর্থনীতিকে
সুরক্ষা দেয়া জন্য 'নির্ধারণ
মূলক পদক্ষেপ'
গ্রহণেরও
দাবী করেছেন তিনি।
অর্থনৈতিক দুর্গতি
রোধে পদক্ষেপ গ্রহণের
কৃতিত্ব দাবীকালে বুশ বলেন,
'কঠৌর
পরিশ্রম করা পরিবারগুলোর জন্য এটা খুব কঠিন সময়।
এবং আমরা সকলে মিলে, কঠৌর পরিশ্রম ও দৃঢ়
প্রতিজ্ঞ থেকে আমরা আমাদের অর্থনীতিকে আবার পুনর্বজ্জীবিত করবো।'
শুক্রবারের ১৩ মিনিট-ব্যাপী বৃক্ততার মধ্য দিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে নিজের তরফ থেকে শেষ
বক্তব্যটি পেশ করে ফেললেন বুশ।
এরপর আগামী মঙ্গলবার
প্রেসিডেন্ট হিসাবে তিনি শেষ দায়িত্বটি পালন করবেন।
সেদিন তিনি বারাক ওবামা
ওয়াইট হাউসে বরণ
করে নিবেন।
লন্ডনঃ
১৭
জানুয়ারী ২০০৯ |