|
মার্কিন বিমানের ক্র্যাশ ল্যান্ডিং হাডসন নদীতেঃ কোনো প্রাণহানি
হয়নি
নিউ
ইয়র্কের হাডসন নদীতে ইউএস এয়ারওয়েজের একটি এ-৩২০ এয়ারবাস বৃহস্পতিবার জরুরী অবতরণ
করে। বিমানের ১৫০ যাত্রী ও ৫ ক্রু-মেম্বারের সকলকেই জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
ফেডারেল
এাভিয়েশান
এাডমিনিস্ট্রেশন ঘটনাটির তদন্তে কাজ করছে। ইউএস এয়ারওয়েজের
চেয়ারম্যান ডৌ পার্কার অবশ্য দূর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে কোনো কিছু জানাতে অস্বীকৃতি
জানিয়েছেন।
খবরে প্রকাশ, ইউএস
এয়ারওয়েজের ফ্লাইট-১৫৪৯ নিউ ইয়র্কের লা গার্দিয়া বিমান-বন্দর থেকে নর্থ ক্যারোলিনার
উদ্দেশ্য ‘টেইক-অফ’
করার তিন মিনিট পরেই দূর্ঘটনার শিকার হয়। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রৌলাররা জানিয়েছেন, এক
ঝাঁক উড়ন্ত হাঁসের সাথে সংঘর্ষের কারণেই ইউএস এয়ারওয়েজের বিমানটি দূর্ঘটনায় পড়েছিলো।
সংঘর্ষের ফলে বিমানটির দুটি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায় ও ৩০ ফূট নিচে নেমে আসে। আর
বিমানের পাইলট এর পরেই যাত্রীদের সীটবেল্ট বাঁধতে বলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা
জানিয়েছেন, বিকট শব্দ করে বিমানের ভিতরে আগুন ধরে যায়। এছাড়া পুরো বিমান ধোঁয়ায়
আচ্ছন্ন হয়ে যায়। দূর্ঘটনা থেকে যাত্রীদের জীবন বাঁচানোর জন্য বিমানটির চালক ও
ক্রু-মেম্বারদের প্রচেষ্টাকে সকলেই সাধুবাদ জানাচ্ছেন। জানা গিয়েছে, বিমানটি হাডসন
নদীতে জরুরী অবতরণের পর ভেসেছিলো। ফলে যাত্রীরা ভিতর থেকে বেরিয়ে এসে বিমানের পাখার
উপর জড়ো হওয়ার সুযোগ লাভ করেছিলেন। যদিও বাইরের তাপমাত্রা ছিলো জমে যাওয়ার মতো।
বিমানটির নদীতে অবতরণের কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রায় আটটি ফেরী ও কয়েকটি স্থানীয় ওয়াটার
ট্যাক্সি যাত্রীদের উদ্ধারের জন্য এগিয়ে আসে। ফেডারেল এ্যাভিয়েশান
এ্যাডমিনিস্ট্রেশন সকল যাত্রীর উদ্ধারের কথা নিশ্চিত করেছে। উদ্ধারের পর আহত
যাত্রীদের নিউ ইয়র্ক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
দূর্ঘটনার শিকার
বিমান থেকে সকল যাত্রীর জীবিত অবস্থায় উদ্ধার লাভ করা যেমন একটি বিরল ঘটনা তেমনি
পানিতে আপতিত বিমানের কোনো কিছু না ভেঙ্গে টিকে থাকাও একটি বিরল ঘটনা। কারণ কোনো
বিমান যখন দূর্ঘটনার ফলে পানিতে অবতরণ করে তখন পাখা-ইঞ্জিন-ফিউজিল্যাজ ভেঙ্গে
যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। এ্যাভিয়েশান বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমির তুলনায় পানিতে জরুরী
অবতরণে ক্ষতির হার বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ন্যাশনাল ট্রান্সপৌর্টেশান সেইফটি
বৌর্ড জানিয়েছে, পাখির কারণে ১৯৬২ সাল থেকে এ-পর্যন্ত ২০০টি দূর্ঘটনা ঘটেছে।
লন্ডনঃ ১৬
জানুয়ারী ২০০৮ |