|
গাজাতে জাতিসংঘ
প্রধান অফিসে
গোলা-বর্ষণ
ও হামাস নেতা খুন
বৃহস্পতিবার
গাজাতে ইসরায়েলী হামলাতে জাতিসংঘের প্রধান অফিস আক্রান্ত হয়েছে।
অস্ত্র-বিরতি কার্যকর
করার উদ্দেশ্যে জাতিসংঘ প্রধান ব্যান কী মুনের ইসরায়েলে অবস্থানকালীন সময়েই গাজাতে
সংস্থার প্রধান অফিসে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়াও হামলার ঘটনায়
প্রাণ হারিয়েছেন
হামাসের একজন শীর্ষ-নেতা।
খবরে
প্রকাশ, বৃহস্পতিবার গাজা সিটিতে জাতিসংঘের রিলিফ এন্ড ওয়ার্কস
এ্যাজেন্সীর প্রধান
অফিসের উপরে গোলা বর্ষণ
করা হয়।
ইসরায়েলীদের দাবী ভবনটির ভেতর
থেকে হামাস-যোদ্ধাদের গুলী-বর্ষণের
পাল্টা-জবাব হিসাবেই গোলা ফেলার ঘটনা ঘটেছে।
বর্তমানে
ইসরায়েলে অবস্থানরত জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষ থেকে হামলার ঘটনার কড়া প্রতিবাদ ও ক্ষোভ
প্রকাশ করা হয়েছে।
এছাড়াও হামলার ঘটনা তদন্তের
জন্য তিনি ইসরায়েলী কর্তৃপক্ষের
প্রতি আহ্বান
জানিয়েছেন।
এদিকে
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী
এহুদ ওলমার্ট এক বিবৃতিতে জানান,
গাজাতে জাতিসংঘ ভবনের ভেতর থেকে হামাসের লোকেরা সেনাদের উপরে হামলা
চালানোর কারণেই
পাল্টা-হামলা চালানো হয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিবকে
উদ্দেশ্যে করে দেয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন,
'আমরা এমন ঘটনা ঘটুক তা চাইনি এবং এজন্য আমি
অনুতাপ প্রকাশ করছি।'
এই বিবৃতিতে ওলমার্ট আরও
বলেন,
'কিন্তু আমি জানিনা আপনি এটা জানেন কিনা যে হামাস রিলিফ এন্ড ওয়ার্কস এজেন্সীর
ভেতর থেকে আমাদের উদ্দেশ্যে গুলী চালিয়েছিলো।
এটা একটা দুঃখজনক ঘটনা
এবং আমি এজন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।'
হামলার
পরপর রিলিফ এন্ড ওয়ার্কস এজেন্সীর পক্ষ থেকে গাজাতে
কার্যক্রম
বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের এই অঙ্গ
সংগঠনটি চার মিলিয়ন ফিলিস্তিনী
শরণার্থীর
মধ্যে সেবা প্রদান করছে।
সংস্থার গাজা শাখার
মুখপাত্র ক্রিস্ গানেস্
জানান,
শত-শত মানুষ ইসরায়েলী হামলা থেকে
বাঁচার
জন্য ভবনের ভেতরে আশ্রয় নিয়েছিলো।
তিনি আরও জানান,
হামলা চালানোর সময় যুদ্ধে ব্যবহার-নিষিদ্ধ ওয়াইট ফসফরাস ব্যবহার
করা হয়েছে।
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে
অবশ্য ওয়াইট ফসফরাস ব্যবহার করার খবর
অস্বীকার
করা হয়েছে।
সংবাদ-মাধ্যম জানিয়েছে,
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের ভবনসহ তিনটি হাসপাতালের উপরেও গোলা নিক্ষেপ
করেছে ইসরায়েলীরা।
হামলা শুরুর
পরে বৃহস্পতিবারের
মত এত বেশী গোলা আর কখনও ফেলা হয়নি।
দিনের হামলায় কমপক্ষে ১৫
জন ফিলিস্তিনী
নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে।
পর্যবেক্ষকদের
ধারণা
আন্তর্জাতিক
চাপের মুখে অস্ত্র-বিরতিতে রাজী হবার আগে যত বেশী সম্ভব
হামাসকে ক্ষতিগ্রস্ত
করার কৌশল অবলম্বন করেছে
ইসরায়েল।
জাতিসংঘের ভবনে অবস্থানরত বেসামরিক মানুষ-জনের উপরে হামলা করা ছাড়াও বৃহস্পতিবারের
হামলাতে হামাসের একজন শীর্ষ
নেতাকে হত্যা করেছে ইসরায়েল।
খবরে প্রকাশ, জাবালিয়া
শরণার্থী
শিবিরের উপরে পরিচালিত হামলাতে প্রাণ
হারিয়েছেন হামাসের গঠিত সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সাঈদ সিয়াম।
হামাস মুখপাত্র মোহাম্মদ
নাজেল জানিয়েছেন,
অবিলম্বে সিয়াম হত্যার বদলা নেয়া হবে।
সংবাদ-মাধ্যম জানিয়েছে,
হামলার সময় সিয়াম তার ভাইয়ের বাড়ীর ভিতরে
অবস্থান করছিলেন।
ইসরায়েলী গোলার ঘায়ে সিয়ামের
সাথে তার ভাইও মারা গেছেন।
হামাসের এই নেতা এতোদিন
পর্যন্ত
সংগঠনের ১৩ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তা
কর্মীর
প্রধানের দায়িত্ব পালন করতেন।
সিয়ামের প্রাণহানীকে
হামাসের জন্য বড় ধরণের
আঘাত হিসাবে মনে করা হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের
ধারণা সিয়ামের প্রাণহানীর
ঘটনা অস্ত্র-বিরতির ব্যাপারে হামাসের সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
লন্ডনঃ
১৬
জানুয়ারী ২০০৯
|