|
তাকে হত্যা করাটা এখন আর
প্রয়োজন
নয়ঃ ওসামা প্রসঙ্গে ওবামা
আল
কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করতে পারাটাকে এখন আর বিশেষ কোন প্রয়োজন হিসাবে
মনে করছেন না মার্কিন
প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট বারাক ওবামা।
বুধবার রাতে সিবিএস টেলভিশনে
দেয়া এক সাক্ষাতকারে এ-মনোভাব ব্যক্ত করেছেন তিনি।
এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র
প্রশাসন জানিয়েছে ওবামার অভিষেক অনুষ্ঠানকে ঘিরে ওসামার পক্ষ থেকে কোন ধরণের বিপাক
তৈরী হবার কোনো সম্ভাবনা
নেই।
টিভি
সাক্ষাতকারে ওবামা জানান, আল কায়দাকে ধ্বংস করে দেয়ার ক্ষেত্রে ওসামাকে হত্যা করাটা
এখন আর মূল
গুরুত্বপূর্ণ
বিষয় নয়।
তিনি মনে করেন,
ওসামাকে
'দৌড়ের উপরে' রাখতে পারাটাই এক্ষেত্রে যথেষ্ঠ।
ওবামা বলেন,
'তাকে
[ওসামা] পাকড়াও করা বা হত্যা করাটাই নিশ্চিতভাবেই আমার কাছে অগ্রাধিকার পাবে।
কিন্তু আমরা যদি চারপাশ
থেকে তাকে এমন শক্তভাবে আটকে ফেলতে পারি যাতে করে তিনি কোন গুহায় আটকা পড়ে থাকেন
এমনকি তার লোকজনের সাথে যোগাযোগ করতে না পারেন তাহলে আমরা আমেরিকাকে রক্ষা করার
ক্ষেত্রে আমাদের লক্ষ্য অর্জনে
সক্ষম হবো।'
এ-প্রসঙ্গে ওবামা উল্লেখ করেন,
যুক্তরাষ্ট্রকে আরেকটি হামলা থেকে রক্ষা করাটাই হবে তার প্রধানতম
অগ্রাধিকার।
ওসামা
প্রসঙ্গে ওবামার পক্ষ থেকে আসা সর্বশেষ
বক্তব্যটিকে তার পূর্ববর্তী
বক্তব্যের চেয়ে ভিন্ন হিসাবেই চিহ্নিত করা হচ্ছে।
নির্বাচনের
আগে অক্টৌবর মাসের সাত তারিখে প্রেসিডেন্টশিয়াল বিতর্কে
ওবামা বলেছিলেন,
'আমরা বিন লাদেনকে হত্যা
করবো।
আমরা আল কায়দাকে ধ্বংস করে দেবো।
এটাই হবে জাতীয়
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমাদের মূল
প্রাধান্য।'
উল্লেখ্য, বারাক ওবামা এমন এক দিনে তার
পূর্ব-অবস্থান
থেকে সরে আসলেন যেদিন দীর্ঘ
সময়ের ব্যবধানে ওসামা বিন লাদেনের নামে একটি
বার্তা
প্রচারিত হয়েছে।
লাদেনের নামে প্রচারিত
বার্তাতে
গাজাতে ইসরায়েলী হামলা প্রতিরোধে জেহাদে (ধর্মযুদ্ধ)
অংশ নেয়ার আহ্বান
জানানো হয়েছে।
২২-মিনিট দীর্ঘ
অডিও-টেইপটিতে ওবামার ব্যাপারেও বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে।
টেইপে বলা হয় ইরাক ও
আফগানিস্তান
থেকে সেনা-প্রত্যাহার আর দেশের নিমজ্জমান অর্থনীতির
চাপের মধ্যে থাকা ওবামাকে এখন যে-কোন একটি অগ্রাধিকার বাছাই করতে হবে।
এদিকে,
যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আল কায়দা ও ওসামা বিন লাদেনের বর্তমান
সামর্থ সম্পর্কে
সন্দেহ
প্রকাশ করা হয়েছে।
তাদের মতে,
পাকিস্তান-আফগানিস্তান
সীমান্তে
অবিরাম সামরিক অভিযানের পরিণতিতে
লাদেন ও আল কায়দার সামর্থ
ভয়াবহভাবে হ্রাস
পেয়েছে।
ওয়াইট হাউসের মুখপাত্র গর্ডন
জনড্রৌ
বলেন,
'টেইপ প্রকাশ থেকে তার বিচ্ছিন্ন
হয়ে পড়ার ব্যাপারটি এবং নিজেকে প্রাসঙ্গিক রাখার প্রয়াসের ব্যাপারটিই প্রতীয়মান হয়।
তিনি আরও জানান,
চলতি সময়ে সারা বিশ্বব্যাপী আল কায়দার মতাদর্শ,
মিশন ও এজেন্ডাগুলো প্রশ্ন ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।'
মার্কিন
প্রশাসন আরো মনে
করে, এখন যে-সামর্থ আছে তা দিয়ে
ওবামার অভিষেককে কেন্দ্র করে কোনো
ধরণের ঝামেলা
তৈরী করা সম্ভব
নয় আল কায়দার পক্ষে।
এফবিআই এর মুখপাত্র রিচার্ড
কৌলকো সংবাদ-মাধ্যমকে
বলেন,
'অভিষেককে কেন্দ্র
করে আমাদের কাছে কোন নির্দিষ্ট
বা গ্রহণযোগত্যা-সমপন্ন
তথ্য নেই।'
ওবামার অভিষেককে কেন্দ্র
করে হাজার-হাজার সেনা-পুলিস রাস্তায়
নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
লন্ডনঃ
১৬
জানুয়ারী ২০০৯ |