London:

Home

About us

Services

Contact

Archive

গাজাতে যুদ্ধাপরাধের তদন্তের আহবান ইসরায়েলের নয়টি সংগঠনের

গাজাতে হামাস-বিরোধী চলমান হামলাতে যুদ্ধপরাধ সংগঠিত হবার অভিযোগ তদন্তের আহবান জানিয়েছে ইসরায়েলের নয়টি মানবাধিকার সংগঠনগাজাতে শত-শত বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানির সাথে-সাথে হামলার পরিতিতে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বুধবার সংগঠনগুলো যুদ্ধপরাধের অভিযোগ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছে

হামাসের সাথে ইসরায়েলী সামরিক বাহিনীর সংঘাত শুরুর ১৯ দিনের মাথায় আয়োজিত প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে ‘ক্লীয়ার এ্যান্ড প্রেজেন্ট ড্যাঞ্জার’ নামে এক ব্যানারের নিচে জড়ো হওয়া মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানায়, চলমান সংঘাতের ফলশ্রুতিতে যুদ্ধ সংক্রান্ত আইনগুলোর ন্যক্কারজনক লঙ্ঘন ঘটেছে এবং যুদ্ধপরাধ সংঘটিত হবার সন্দেহ জাগিয়ে তুলেছে ইসরায়েলী মানবাধিকার সংগঠনগুলো মনে  করে, যেহেতু যুদ্ধপরাধের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, সেহেতু এ-ব্যাপারে একটি তদন্তের আয়োজন করাই বিধেয়

প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারাক ও উর্ধ্বতন সেনা কর্ম-কর্তাদের বরাবরে যৌথভাবে লিখিত এক চিঠিতে সংগঠনগুলো জানায় হামলার পরিতিতে গাজার বেসামরিক মানুষের জীবন ভয়াবহ এক মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে গেছেসংগঠনগুলোর বক্তব্যে গাজার বেসামরিক মানুষ-জনের জীবনে সৃষ্ট যাতনাকে ‘নজিরবিহীন’ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে গাজাতে প্রাণঘাতী অস্ত্রের বাছ-বিচারহীন ব্যবহারের মাধ্যমে কোনো কিছুর সাথে জড়িত নয় এমন শতো-শতো মানুষের প্রাণহানির জন্য নিজেদের সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে ইসরায়েলী সংগঠনগুলোউল্লেখ্য, এবারের সংঘাতে গাজাতে প্রাণহানির সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে বুধবারনিহত ফিলিস্তিনীদের মধ্যে কমপক্ষে ৩১৫টি শিশু ও ১০০ জন নারীপক্ষান্তরে সংঘাত শুরুর পর থেকে এ-পর্যন্ত হামাসের হামলায় ১০ সেনা ও ৩ বেসামরিক ইসরায়েলীর প্রাণহানির সংবাদ পাওয়া গেছে

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে পরিস্থিতি এমনই যে, প্রাণ বাঁচানোর জন্য পালিয়ে যাবার মতো কোনো স্থানও বেসামরিক নাগরিকদের জন্য অবশিষ্ট নেইতাদের অধিযোগ গাজাবাসীরা এখন ভীতি আর সন্ত্রাসের মধ্যে আটকে-পড়া দুর্বিসহ এক জীবনে আটকা পড়ে আছেনয় সংগঠন আরও জানায় ইসরায়েলী বাহিনীর পক্ষ থেকে চিকিৎসা-দানকারী সংস্থাগুলোকে বাধা দেয়া হচ্ছে অথবা তাদের কাজ করার ক্ষেত্রে বিলম্ব ঘটিয়ে দেয়া হচ্ছেএ-ধরণের তৎপরতার কারণে অনেক মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে বলে চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে নিজ দেশের সরকারের প্রতি বেশ কয়েকটি দাবী উত্থাপন করা হয়েছে যুদ্ধাপরাধের অপরাধ তদন্তের সাথে-সাথে সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে গাজাতে বেসামরিক নাগরিকদের সীমাহীন দুর্গতির অবসান ঘটানো, সংঘাতময় এলাকা ত্যাগ করার জন্য সুযোগ তৈরী করে দেয়া, মেডিক্যাল টীমগুলোকে বিনা-বাধায় কাজ করতে দেয়া-সহ পানীয় জল, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা চালু রাখার দাবী জানানো হয়ছেগাজাতে যুদ্ধপরাধের অভিযোগ তদন্তের দাবী জানানো মানবাধিকার সংস্থাগুলো হচ্ছে বিটসেলেম, পাবলিক কমিটী এ্যাগেইনস্ট টর্চার ইন ইসরায়েল, ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস ইসরায়েল, ইয়েশ দিন ও এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ইসরায়েল শাখা

এদিকে ইসরায়েলী মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অফ দ্য রেডক্রসের পক্ষ থেকেও গাজা পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছেবুধবার জেরুজালেমে এক সাংবাদিক-সম্মেলনে সংস্থার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব কেলেনবার্জার জানিয়েছেন, গাজার বাসিন্দার শোচনীয় পরিস্থিতির মধ্যে জীবন-যাপনে বাধ্য হচ্ছেগাজার হাসপাতালগুলোতে দিন-রাত কাজ করা সত্ত্বে ও ডাক্তার ব্যাপক সংখ্যক আহত মানুষকে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বড়ো ধরণের সমস্যার মধ্যে পড়ে যাচ্ছেনবিদ্যমান পরিস্থিতি বুঝার জন্য মঙ্গলবার গাজা গিয়েছিলেন কেলেনবার্জার গাজা পরিস্থিতি বর্ণনা-কালে কেলেনবার্জার আরও জানান তিনি সেখানে ইসরায়েলী বাহিনী কর্তৃক ওয়াইট ফসফরাস ব্যবহারের কোনো প্রমাদেখতে পাননি উল্লেখ্য, ইসরায়েলীরা হামাসের বিরুদ্ধে হামলায় এ-বিপজ্জনক রাসায়নিকটি ব্যবহার করছে বলে কয়েক দিন আগে অভিযোগ এসেছিলো হামাসের পক্ষ থেকেসাংবাদিকদের সাথে আলাপ-কালে রেডক্রস প্রধান জানান বেসামরিক নাগরিকদের উদ্ধার তৎপরতার ক্ষেত্রে গত সপ্তাহে তুলনায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে

সর্বশেষ খবরে প্রকাশ, জাতিসংঘ-সহ বিভিন্ন মহলের কূটনীতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে আগামী পাঁচ-ছয় দিনের মধ্যে ইসরায়েল ও হামাস একটি অস্থায়ী অস্ত্র-বিরতিতে রাজী হয়ে যেতে পারে

লন্ডনঃ জানুয়ারী ২০০৯

 

আজকের প্রধান খবর8

জুলাই আর্কাইভ 8

আর্কাইভ8

 
 

© 2007 Confidence Services Ltd.