|
পুত্র হ্যারীর পরে পিতা
প্রিন্স চার্লস
বর্ণবাদী নাম
ডাকায়
সমালোচিত
পাকিস্তান
থেকে আসা সহকর্মী ক্যাডেটকে 'পাকি' নামে ডাকার ভিডিও ফাঁস হয়ে যাবার পরিণতিতে পুত্র
হ্যারীর দুর্ভোগের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বর্ণবাদের দায়ের অভিযুক্ত হয়েছেন
ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্স চার্লস।
তিনি একজন এশীয় বন্ধুকে
দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি পাপেট ও কার্টুন চরিত্রের নামে ডেকে চলেছেন বলে
খবর বেরিয়েছে মঙ্গলবার।
জানা গেছে, তার
সাথে-সাথে দু-পুত্র প্রিন্স উইলিয়াম এবং প্রিন্স হ্যারীও পিতার বন্ধুটিকে একই নামে
ডেকে থাকেন।
তবে বন্ধুটি জানিয়েছেন,
প্রীতিমূলক সর্ম্পকের কারণেই চালর্স ও পুত্রদ্বয় তাকে এমন ডাক-নামে ডেকে থাকেন।
খবরে
প্রকাশ, পশ্চিম ইংল্যান্ডের ক্রিনচেস্টার পৌলো ক্লাবে খেলাধূলা করার সময় চার্লস ও
তার পুত্ররা ভারতীয় বংশোদ্ভূত ধনাঢ্য ব্যবসায়ী কলিন ধীলনকে (৫৮) মজা করে 'সুটি'
নামে ডেকে থাকেন।
উল্লেখ্য, গত শতকের পঞ্চাশ দশক
থেকেই ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড-সহ বেশ কয়েকটি দেশের
শিশু-কিশোরদের কাছে 'সুটি' হচ্ছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি পাপেট ও কার্টুন চরিত্র।
ব্রিটেইনে সর্বাধিক সময়
ধরে প্রদর্শিত শিশুতোষ অনুষ্ঠানের চরিত্র হিসাবে 'সুটি'র নাম গিনেস বুক অফ
ওয়ার্ল্ডে স্থান পেয়েছে।
সংবাদ-মাধ্যম জানিয়েছে,
ক্রিনচেস্টার পৌলৌ ক্লাবটি চার্লসের বাড়ী হাইগ্রৌভ এস্টেইটের কাছাকাছি স্থানে
অবস্থিত।
সেখানে পৌলৌ খেলতে-খেলতেই
চালর্সদের সাথে ধীলনদের আলাপ-পরিচয় ঘটে।
ধীলন স্কুলস এ্যান্ড
ইউনিভার্সিটিস পৌলৌ এ্যাসৌসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান।
তার পুত্র সাটনাম
ইংল্যান্ড পৌলৌ দলের সদস্য।
এই দু-পরিবারের সদস্যরা
একসাথে ক্লাবে খেলাধূলা করেন।
গায়ের রংয়ের কারণেই
ধীলনকে 'সুটি' নামে ডাকা হতো বলে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
এদিকে,
আলোচনার কেন্দ্রে থাকা ধীলন জানিয়েছেন, ভিন্ন-বর্ণের ব্যাপারে চালর্সের মধ্যে
নূন্যতম কোনো 'প্রেজুডিস' নেই।
প্রীতি-মূলক সম্পর্কের
কারণেই চালর্স ও পুত্ররা তাকে 'সুটি' নামে ডাকেন বলে জানিয়েছেন ধীলন।
এর মধ্যে অবমাননা-সূচক
কোনো কিছু জড়িত নেই বলে জানিয়েছেন ধনাঢ্য এ-ব্যবসায়ী।
মঙ্গলবার
প্রকাশিত খবরটির ব্যাপারে চার্লসের ব্যক্তিগত অফিস ক্ল্যারেন্স হাউসের পক্ষ থেকে
বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
তবে অফিস থেকে দেয়া এক
বিবৃতিতে বলা হয়ঃ প্রিন্সকে বর্ণবাদী হিসাবে ধরে নেয়াটা বিরক্তি-উদ্রেককর।
ব্রিটেইনের অন্যতম
শীর্ষ-স্থানীয় এশীয় ব্যবসায়ী স্যার গোলাম নুনও এগিয়ে এসেছেন প্রিন্স চালর্সের
সমর্থনে।
বিবিসির সাথে আলাপে তিনি বলেন,
'[ব্রিটেইনে]
রাজনৈতিক শুদ্ধতার ব্যাপারটি একটু বেশি বাড়াবাড়ি দিকে চলে যাচ্ছে।'
নুন জানান, তিনি ২০ বছর ধরে
চালর্সের
সাথে কাজকর্ম করছেন।
চালর্স প্রত্যেকটি এশীয়
কমিউনিটীকে সমানভাবে সম্মান দেখান বলেও দাবী করেছেন নুন।
লন্ডনঃ
১৪ জানুয়ারী ২০০৯ |