|
বাংলাদেশে সার-ডিজেল-কেরোসিনের দাম কমেছেঃ
দ্রব্যমূল্যও কমছে
কৃষি-পণ্যের
উৎপাদন খরচ যথাসম্ভব কমিয়ে আনার লক্ষ্যে দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় বুধবার
বাংলাদেশে চাষাবাদের অন্যতম উপকরণ সারের দাম কমিয়েছে সরকার।
এর আগে গত সোমবার ডিজেল
ও কেরোসিনের দাম কমানোর
ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
এছাড়া শেখ হাসিনার সরকার
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে চাল,
ডাল,
আটা,
ভোজ্যতেলসহ প্রয়োজনীয়
কিছু পণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে।
বুধবার
৫৫ শতাংশ ভর্তুকি দিয়ে নন-ইউরিয়া সারের মূল্য প্রায় ৫০ ভাগ হ্রাসের ঘোষণা দিয়েছেন
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।
প্রতি কেজি ট্রিপল সুপার
ফসফেট (টিএসপি) ৪০,
মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) ৩৫ টাকা
এবং ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফটের (ডিএপি) দাম ৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এতোদিন প্রতি কেজি
টিএসপি সারের বিক্রয় মূল্য ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা,
এমওপি ৬৯ থেকে ৭০ টাকা
এবং ডিএপি ৮৭ থেকে ৯০ টাকা।
ইউরিয়া সারের দাম প্রতি
কেজি ১২ টাকাই রাখা হয়েছে।
সারের
দাম কমানো প্রসঙ্গে মতিয়া চৌধুরী ইউকেবেঙ্গলির এ-প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন,
'Avgiv আমাদের নির্বাচনী
ইশতেহারে কৃষকদের কাছে অঙ্গীকার করেছিলাম তাদের হাতে কম দামে সার ও ডিজেল পৌছে দেবো।
সে প্রতিশ্রুতি
c~i‡ণi
অংশ হিসেবেই আমরা ডিজেল
ও সারের দাম Kwg‡qwQ|'
এর ফলে কৃষি পণ্যের
উৎপাদন খরচ অনেক কম হবে ও কৃষকরা কৃষি-পণ্য উৎপাদনে উৎসাহিত হবেন বলে তিনি জানান।
মতিয়া চৌধুরী জানান,
ইউরিয়া সার বর্তমানের ১২
টাকা কেজি দরেই বিক্রি হবে।
এরফলে ইউরিয়াতে বছরে
৪২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।
মতিয়া
চৌধুরী বলেন,
মূল্য হ্রাসের ফলে সরকারকে
নন-ইউরিয়া খাতে ২ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।
দাম কমানোর আগে ভর্তুকির
পরিমাণ ছিল ৬০০ কোটি টাকা।
তিনি মনে করেন, সরকারী
ঘোষণার ফলে বোরো মওসুমে কৃষক
¯^w¯—i
নি:শ্বাস ফেলবে।
দেশে সারের মজুদ
সম্পর্কে কৃষি-মন্ত্রী বক্তব্য,
'আমাদের যে মজুদ আছে সেটা
আগে খালি করতে চাই।
আমি তো এটা পানিতে ফেলে
দিতে পারি না।
যেই এনে থাকুক না কেন তারা তো
খারাপ উদ্দেশ্যে আনেননি।
তখন প্রয়োজন ছিল তারা
এনেছেন।
পরবর্তীতে ১৫ শতাংশ ভর্তুকি
দেওয়ার পরও কৃষক নিতে পারছেন না।
তাই আমরা কষ্ট হলেও এটা
দিয়ে দিবো।'
কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা
জানান,
বোরো মওসুমে ইউরিয়ার চাহিদা
হচ্ছে ১২ লাখ ১০ হাজার টন।
টিএসপি ৩ লাখ ৭৫ হাজার
টন,
এমওপি ২ লাখ ৫০ হাজার টন এবং
ডিএপি ১ লাখ টনের মতো।
উলেলখ্য
সোমবার একই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সেচ-কাজে ব্যবহারের জন্য ডিজেলের দামও কমিয়েছে নতুন
সরকার।
প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ৪৬
টাকা থেকে কমিয়ে ৪৪ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে।
কেরোসিন তেলের দামের
ক্ষেত্রেও একই ধরণের পদক্ষেপ
গ্রnণ
করেছে বাংলাদেশ সরকার।
প্রতি লিটার কেরোসিনের
দাম ৪৬ টাকা থেকে কমিয়ে ৪৪ টাকা করা হয়েছে।
নতুন
সরকার গঠিত হবার পরে গত কয়েক দিনে খাদ্য-দ্রব্যের দামের ক্ষেত্রেও নিম্মগতি লক্ষ্য
করা hv‡চ্ছ|
আন্তর্জাতিক বাজার ও
সিডর-বন্যার পাশাপাশি বাজার সিন্ডিকেটের কারণে বাংলাদেশে এক পর্যায়ে মোটা চালের
কেজি ৩৫ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।
মোটা চাল এখন ২৪ থেকে ২৪
টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নির্বাচনের এক দিন আগেও
(২৮ wW‡m¤^i)
প্রিত লিটার সয়াবিন তেলের দাম
ছিল ১২০ টাকা।
সয়াবিন তেলের দাম এক লাফে ৮৫
টাকায় (প্রতি লিটার) নেমে এসেছে।
আটা-ময়দা,
ডালসহ অন্যান্য কিছু
পণ্যের দামও কমেছে।
মজুদদারী সিন্ডিটেক
ভেঙ্গে দেয়া গেলে আগামীতে পণ্যের দাম আরও কমবে বলে ধারনা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
উলেলখ্য আওয়ামীলীগ
নির্বাচনী ইশতেহারে চালসহ সব-ধরনের পণ্যের দাম কমিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছিলো।
বিএনপি-জামায়াত জোট
সরকার ও সেনা-নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাত বছর দ্রব্যমূল্য সর্বদা ছিলো
উর্ধ্বমুখী।
ঢাকা
থেকে আবদুর রহিম হারমাছি
আপলৌডঃ
১৪ জানুয়ারি ২০০৯ |