|
গাজা থেকে হামাসকে উচ্ছেদ করতে হবেঃ
বিনিয়ামিন
নেতানিয়াহু
গাজা
থেকে হামাসকে উচ্ছেদ করার হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের বিরোধী-দলীয় নেতা বিনিয়ামিন
নেতানিয়াহু।
মঙ্গলবারের জেরুজালেম নগরীতে এক
সাংবাদিক-সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের 'স্পষ্ট বিজয়ের
প্রয়োজনীয়তার' উপরেও গুরুত্বারোপ করেন কট্টর ডানপন্থী এ-নেতা।
নেতানিয়াহুর কাছ থেকে
আসা সর্বশেষ দফা বক্তব্যকে সামনের দিনগুলোতে শান্তি-প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে এক
অশনি-সঙ্কেত হিসাবেই মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য,
আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য
সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষ্যে পরিচালিত সাম্প্রতিক জরীপগুলোতে এগিয়ে আছেন তিনি।
মঙ্গলবার
নেতিনিয়াহু জানান হামাসের উপরে এমন এক বিজয় অর্জন করতে হবে, যা সংগঠনটির 'হামলা
চালানোর সামর্থকে পঙ্গু' করে দিবে।
তিনি বলেন, 'কমপক্ষে
[হামাসের]
রকেট নিক্ষেপ করার ব্যাপারটি অবশ্যই বন্ধ হতে হবে এবং যে-সীমান্ত দিয়ে হামাস গাজাতে
হাজার-হাজার রকেট চোরাচালান করে নিয়ে আসে, তা অবশ্যই বন্ধ করে দিতে হবে।'
নেতানিয়াহুর দাবী, ইসরায়েলে গাজাতে একটি 'ন্যায়যুদ্ধে' অবতীর্ণ হয়েছে।
নেতানিয়াহু জানান, নির্বাচিত হতে পারলে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি স্থগিত করাটা হবে
তার প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার।
তিনি জানান, গাজাতে
হামাস হচ্ছে ইরানী শাসক-চক্রের একটি প্রক্সি মাত্র।
হামাসের সাথে
অস্ত্র-বিরতির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে নেতানিয়াহু আরও জানান, 'সন্ত্রাসের পথ থেকে
মুক্ত' হলেই হামাসকে বৈধতা দিবে ইসরায়েল।
জায়নবাদী অবস্থান থেকে
নেতানিয়াহু জানান, ১৯৬৭ সালে দখল করে নেয়া গোলান মালভূমি ও পশ্চিম তীর থেকে সরে
আসবে না ইসরায়েল।
এমনকি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার
ব্যাপারেও বেশ কিছু দিন ধরে ফয়সালা হয়ে থাকা বিষয়টি নিয়ে সন্দেহজনক উক্তি করেছেন
নেতানিয়াহু।
তার মতে, ফিলিস্তিনকে
পূর্ণ-সার্বভৌমত্ব প্রদান করা ছাড়াও অন্য মডেলের কথাও ভাবা যেতে পারে।
নেতানিয়াহু
বলেন,'ফিলিস্তিনীরা যাতে নিজেদেরকে নিজেরাই শাসন করতে পারে, তা নিশ্চিত করবো কিন্তু
ইসরায়েলের অস্তিত্বকে যাতে তারা হুমকির মধ্যে ফেলতে না পারে, তাও আমি দেখবো।'
১৯৯৬ সাল
থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা নেতানিয়াহুর কাছ থেকে আসা
মঙ্গলবারের কথা-বার্তাকে সামনের দিনগুলোতে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি-প্রক্রিয়ার
ক্ষেত্রে আগাম এক অশনি-সঙ্কেত হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৮ দিন আগে
গাজাতে হামলা শুরুর পর থেকে জনমত জরীপগুলোতে নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থনের কিছুটা
কমতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
পক্ষান্তরের ক্ষমতাসীন
জোটের বিদেশ-মনত্রী তিজিপি লিভনি ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারাকের পক্ষে জন-সমর্থন
কিছুটা হলেও বাড়তে থাকার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।
এরা দুজনেই এবার সরকার
গঠনের আশা-সহ নির্বাচনে নেমেছেন।
অবশ্য লিভিনী ও বারাকের
তুলনায় নেতানিয়াহু এখন পর্যন্ত কিছুটা এগিয়ে আছেন।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা,
গাজাতে শেষ পর্যন্ত কোন্ ধরণের পরিনতি তৈরী হয়, তার উপরেই প্রধান তিন-প্রার্থীর
ভবিষ্যত বহুলাংশে নির্ভর করবে।
মোটাদাগে বলতে গেলে,
ইসরায়েলীদের মধ্যে হামাসের রকেট হামলার বিরুদ্ধে তীব্র মনোভাব বিরাজ করছে।
লন্ডনঃ
১৪ জানুয়ারী ২০০৯ |