|
যুদ্ধপরাধ
তদন্তের জন্য ইসরায়েলের উপর জাতিসংঘ ও অন্যদের চাপ
গাজাতে
বেপরোয়া আগ্রাসনের অভিযোগ তদন্তের জন্য ইসরায়েলের উপর জাতিসংঘের উর্ধ্বতন কর্ম-কর্তা
ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের চাপ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। বিশেষ করে
সাধারণ
ফিলিস্তিনীদের মানব-বর্ম
হিসেবে ব্যবহার ও আবাসিক এলাকায়
নির্বিচারে
বোমা হামলার অভিযোগ এসেছে ইসরায়েলী বাহিনীর বিরুদ্ধে।
সোমবার জাতিসংঘের
মানবাধিকার বিষয়ক
উচ্চ-পর্যায়ের
সভায় গাজার ঘটনাকে ‘মানবাধিকারের
মারত্মক লঙ্ঘন’
হিসেবে বর্ণনা করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব
গৃহীত
হয়।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ
পরিচালিত স্কুলে
আশ্রয় নিয়েও গাজাতে
বাছ-বিচারহীন ইসরায়েলী
আক্রমণের হাত থেকে
ফিলিস্তিনীরা
রক্ষা পায়নি।
ইসরায়েলী বাহিনীর হামলায় স্কুলে আশ্রয়-নেয়া
প্রায় চল্লিশ ব্যক্তি
প্রাণ হারিয়েছেন
বলে রেকর্ড করা হয়েছে।
গাজার ফিলিস্তিনী শরণার্থী এ্যাজেন্সীর প্রধান জন জিং বলেন,
‘আমরা
রায় দেয়ার
দলে যেতে চাইছি না,
কিন্তু এখানে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘিত হওয়া প্রত্যেকটি ঘটনা তদন্ত করা উচিৎ।’
জাতিসংঘ-সূত্রে
জানা যায়, ইসরায়েলী
বাহিনীর বিরুদ্ধে মূলতঃ পাঁচটি অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। সেগুলো হলোঃ বেসামরিক
ব্যক্তির প্রাণহানির
আশঙ্কা বেশি এমন আবাসিক এলাকায় শক্তিশালী গোলা ব্যবহার;
নিষিদ্ধ ঘোষিত
ফসফরাস বোমার ব্যবহার;
মানব-বর্ম
হিসেবে ফিলিস্তিনী পরিবারের
ব্যবহার;
এ্যাম্বুলেন্স লেখা
গাড়িতে আক্রমণের মতো
অপরাধ-
উল্লেখ্য এমন এক হামলায়
বার ব্যক্তি নিহত হন।
এছাড়াও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতায় জড়িত না থাকা বেশ কিছু ফিলিস্তিনী পুলিস
সদস্যদের হত্যার অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। উল্লেখ্য, সতেরো দিনে গাজায় সংঘটিত
ধ্বংসযজ্ঞে এ-পর্যন্ত প্রায় ন'শো
ফিলিস্তিনী প্রাণ হারিয়েছেন।
কয়েকটি মানবাধিকার
সংগঠনের
অভিযোগ,
ইসরায়েলী
নেতৃত্ব থেকে সামরিকবাহিনীর প্রতি আদেশ ছিলো, বেসামরিক ক্ষতি যা-ই হোক না কেনো
সামরিক ক্ষতি যেন নূন্যতম পর্যায়ে রাখা হয়। তাদের মতে, এ-আদেশের
কারণেই ফিলিস্তিনী এলাকায় এ-যাবৎকালের অন্যতম বৃহৎ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ্ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধপরাধের অভিযোগ তদন্তের
উদ্দেশ্যে
একটি কমিশন গঠনের জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা
কাউন্সিলের কাছে দাবী জানিয়েছে। এছাড়া উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তের জন্য ইসরায়েলের দু’টি
মানবাধিকার সংগঠন নিজ-দেশের এ্যাটর্নী জেনারেলের কাছে লিখিত দাবী জানিয়েছে। ইসরায়েলী
সেনাবাহিনীর দ্বারা সংঘটিত বিভিন্ন হামলার বর্ণনা প্রদান করে এ্যাম্নেস্টীর
ডৌনাটেল্লা রৌভেরা বলেন, ‘এ
ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক আইনের পরিষ্কার লঙ্ঘন।’
রৌভেরা যুদ্ধ-বিধ্বস্ত এলাকায় এ্যাম্নেস্টীর পক্ষে তদন্তের কাজে কর্মরত।
তবে কোনো কোনো
পর্যবেক্ষক মনে করেন, পূর্বের মতো এবারেও মার্কিনীদের সমর্থনে তদন্তের কাজে বাধা
দিবে
ইসরায়েল। উল্লেখ্য, মার্কিনীদের পরোক্ষ সমর্থনে ইসরায়েল ইতিপূর্বে
উত্থাপিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের কাজে বাধা প্রদান করেছিলো। এছাড়াও
বিভিন্ন পক্ষ থেকে তদন্তের আহ্বান জানানো হলেও এ-তদন্ত
কিভাবে চলবে তা এখনো পরিষ্কার নয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের যুদ্ধপরাধ
সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তের এক্তিয়ার রয়েছে। তবে ইসরায়েল কাউন্সিলের ইতিপূর্বে নেয়া
পদক্ষেপে বাধা প্রদান করেছিলো। এছাড়াও জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল যুদ্ধপরাধ
তদন্তের আদেশ দিতে পারে ও যুদ্ধপরাধ সংক্রান্ত ট্রাইবুন্যাল গঠন করতে পারে।
পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা জাতিসংঘের পক্ষ থেকে তদন্তের উদ্যোগ গৃহীত হলে তার বিরুদ্ধে
মার্কিনীরা ভিটৌ
প্রদান করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সাথে ব্রিটেইনের পক্ষ থেকেও ইসরায়েলের জন্য
সমর্থন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাজাতে হামলা
সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি জানিয়ে ইসরায়েলী সেনাবাহিনীর
মুখপাত্র বেঞ্জামিন রুটল্যান্ড বলেন, ‘প্রতিটি
পর্যায়ে আমাদের আন্তর্জাতিক আইনজ্ঞ রয়েছেন যারা আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু বিষয়ে
সিদ্ধান্ত প্রদান ও
আক্রমণের নিয়ম-কানুন প্রভৃতি জানেন...
আমরা মনে করি কোনো অবস্থাতেই আমাদের দ্বারা আন্তর্জাতিক আইনের কোনো লঙ্ঘন হয়নি।’
লন্ডনঃ ১৩ জানুয়ারী, ২০০৯
|