|
শেষ
সংবাদ-সম্মেলন
প্রেসিডেন্ট
জর্জ
বুশঃ
শেষ-সময়েও
রুদ্র-মূর্তি
প্রেসিডেন্ট
হিসাবে শেষ সংবাদ সম্মেলনটিতে অংশ নিয়ে ফেললেন জর্জ বুশ।
ওয়াইট
হাউসে আয়োজিত সোমবারের পর্বটিতে আট বছর-ব্যাপী শাসন-কালে গৃহীত অভ্যন্তরীন ও
আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তগুলোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি।
এছাড়াও
তার শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের ইমেজ নষ্ট হয়ে যাওয়া সংক্রান্ত পর্যবেক্ষনের জবাবে
সাংবাদিকদের সাথে বেশ রূঢ় আচরণও করেছেন আগামী ২০ তারিখ ক্ষমতা ছাড়তে যাওয়া মার্কিন
প্রেসিডেন্ট।
গাজাতে চলমান
সঙ্কটের সমাধান প্রসঙ্গে বুশ জানান, হামাসের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে রকেট
নিক্ষেপ বন্ধের ঘোষণা দেয়া ছাড়া অস্ত্র-বিরতির আশা করা যায় না।
তিনি
বলেন, 'হামাসকেই তার পছন্দ ঠিক করতে হবে।'
এবার শুরু থেকেই হামাসের হামলার বন্ধের যৌক্তিকতার যুক্তি দেখিয়ে ইসরায়েলী হামলার
পক্ষে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন বুশ।
এমনকি
ইসরায়েলী হামলার পরিণতিতে শিশু-হত্যার ঘটনাতেও ইসরায়েলের সমালোচনায় ব্যর্থ হয়েছেন
তিনি।
সোমবার
বুশ সাংবাদিকদের জানান, নিরাপরাধ মানুষ-জনের প্রাণহানির ব্যাপারে ইসরায়েলকে সতর্ক
থাকতে হবে।
এছাড়া
তিনি মনে করেন, গাজাতে অস্ত্র চোরাচালান রোধের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে মিশরের সাথে
কাজ করতে হবে।
উল্লেখ্য, ১৩৯ বর্গ-মাইল আয়তন-বিশিষ্ট গাজা অঞ্চলের সাথে মিশরের মোটামুটি দীর্ঘ
একটি সীমান্ত আছে।
ইসরায়েল
ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ মিশর সীমান্ত দিয়ে গাজা নিয়ন্ত্রণকারী হামাসের হাতে অবৈধ
অস্ত্রের চালান আসে।
ইরাকে
আগ্রাসনের ব্যাপারেও কোনো ধরণের অনুশোচনা না থাকার কথা জানিয়েছেন বুশ।
এছাড়াও
২০০৭ সালে সেখানে নতুন করে ৩০ হাজার সেনা পাঠানোর ব্যাপারটির জন্যে ইতিহাস তাকে
ইতিবাচকভাবেই বিচার করবে বলে দাবী করেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট।
মার্কিন
প্রশাসনের দাবী, নতুন করে সেনা পাঠানোর কারণেই ইরাকে বিভিন্ন গ্রুপগুলোর মধ্যে
সহিংসতা বন্ধ করে দেয়া সম্ভব হয়েছে।
তবে
ইরাকে হামলার ক্ষেত্রে যে-অজুহাত ব্যবহার করা হয়েছিলো, অর্থাৎ গণ-বিধ্বংসী অস্ত্রের
কোনো খোঁজ না পাবার ব্যাপারটিকে 'গুরুত্বপূর্ণ এক হতাশা' হিসাবে বর্ণনা করেন বুশ।
আবু
গারিব কারাগারে মার্কিন সেনাদের হাতে ইরাকী বন্দী নির্যাতনের ঘটনাকেও 'হতাশাকর'
হিসাবে আখ্যায়িত করেন তিনি।
অভিযান
শুরুর কিছু-দিনের মাথায় ২০০৩ সালের মে মাসে সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাতের পর-পর একটি
মার্কিন বিমানে 'মিশন এ্যাকমপ্লিশড' ব্যানার লাগিয়ে দেয়ার ঘটনাকেও 'ভুল' হিসাবে
বর্ণনা করেন বুশ।
তিনি
জানান, এর মধ্য দিয়ে 'একটি ভুল বার্তা পরিবেশিত হয়েছিলো।'
বুশ এ-প্রসঙ্গে আরও বলেন, কোনো সন্দেহ নেই, আমার কিছু-কিছু শব্দের ব্যবহার ছিলো ভুল।
অভ্যন্তরীন
বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর-দানের এক-পর্যায়ে নিজ-দল রিপাবলিকান পার্টির
ব্যাপারেও কথা-বার্তা বলেন বুশ।
তিনি
মনে করেন, তার দল আবারও ক্ষমতার দৌড়ে ফিরে আসবে।
উল্লেখ্য, গত নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমৌক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী
বারাক ওবামার কাছে জন ম্যাককেইনের পরাজয় ছাড়াও সেনিট ও হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভসেও
সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে ফেলেছে রিপাবলিকান পর্টি।
দলের
পুণঃর্জীবন প্রসঙ্গে বুশ বলেন, দলের ভিতরে ভিন্নমতগুলোকে জায়গা করে দেয়াটা প্রয়োজন।
এছাড়াও
অভিবাসন প্রসঙ্গে দলের ইমেজ উন্নত করার উপরে জোর দেন তিনি।
বুশ মনে
করেন অভিবাসীদের অপছন্দ করে এমন একটি দল হিসাবে পরিচিতি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে তা
দলের জন্য সমূহ বিপদ নিয়ে আসবে।
গত আট-বছরে
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি মাত্র ২ শতাংশ অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করলেও, সোমবারের সাংবাদিক
সম্মেলনে জর্জ বুশ এক্ষেত্রে সাফল্যের দাবী করেন।
এক্ষেত্রে প্রথম মেয়াদে ধনী মার্কিনীদের ব্যাপক কর-রেয়াত দেয়ার প্রসঙ্গটি উল্লেখ
করেন তিনি।
চলমান
অর্থনৈতিক মন্দা প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে বিষয়টি 'পূর্বসূরীর' কাছ থেকে প্রাপ্ত
বলে দাবী করেন বুশ।
প্রেসিডেন্ট
পদে আসীন থাকা অবস্থাতে শেষ সাংবাদিক সম্মেলনটিতে বক্তব্য প্রদান-কালে সাংবাদিকদের
সাথে তর্কে লিপ্ত হবার ক্ষেত্রেও পিছ-পা হননি বুশ।
তার
শাসনামলে বিশ্ব-অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মর্মে
মত-প্রকাশের কারণে একজন সাংবাদিকের উপরে ক্ষেপে যান তিনি।
পাল্টা-জবাবে বুশ বলেন, 'কিছু এলিটের কাছে এমনটি মনে হতে পারে, কিন্তু জনগণ এখন
পর্যন্ত এটা বুঝতে পারে যে, আমেরিকার স্বাধীনতার জন্যই দাঁড়িয়ে আছে।'
তিনি আরও জানান, 'ইউরৌপের একটি অংশের কাছে' জাতিসংঘের সম্মতি ছাড়া ইরাকে অভিযান
শুরুর ব্যাপারে আপত্তি থাকতে পারে, কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল যুক্তরাষ্ট্রের
অবদান ঠিকই স্বীকার করে নেয়।
সাংবাদিকটিকে উদ্দেশ্য করে বুশ এ-প্রসঙ্গে আরও বলেন, 'আপনি আফ্রিকাতে যান, আমেরিকার
সহৃদয়তা প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করে দেখুন।'
যুক্তরাষ্ট্রকে
ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিন্যাল কৌর্টের সদস্য করা এবং পরিবেশ-বিষয়ক কিয়েটৌ চুক্তি
স্বাক্ষর করার মাধ্যমে ইউরৌপীয় দেশগুলোর মন জয় করে নেয়া সম্ভব ছিলো বলে দাবী করে
বুশ জানান, তিনি অন্য কিছু নয় বরং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রতি প্রধান গুরুত্ব
দেন।
ক্ষুব্ধ
বুশ বলেন, 'আমার মতে পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষ আমেরিকাকে সম্মান করে এবং কিছু মানুষ
আমাকে পছন্দ করে না।'
তার মতে অপছন্দকারীদের মধ্যে আছেন শুধুই কিছু লেখক আর মত-প্রদানকারী।
দু-বছর আগে
হ্যারিকেন ক্যাটারিনা প্রসঙ্গে কথা বলার সময়ও অসহিষ্ণু মনোভাবের পরিচয় দেন জর্জ বুশ।
তার
দাবী, ২০০৫ সালে লুসিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নিউ অর্লিয়্যান্সে ভয়াবহ আঘাত-হানা হ্যারিকেন
ক্যাটারিনার সময় তার প্রশাসন ব্যর্থতার পরিচয় দেয়নি।
উল্লেখ্য, ক্যাটারিনার আঘাতে কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত অঞ্চলটিতে বেশ কিছু মানুষ প্রান
হারান।
এছাড়াও
ঘরবাড়ী-হারা হন হাজার-হাজার মানুষ।
২০ তারিখে পদ
ছেড়ে দেয়ার পরে লোকচক্ষুর সামনে থেকে বিদায় নিয়ে যাবার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন
জর্জ বুশ।
লন্ডনঃ ১২ জানুয়ারী ২০০৯ |