|
অবিলম্বে
গাজাতে ইসরায়েলী হামলা বন্ধের দাবীতে লন্ডনে বিক্ষোভ
গাজাতে
টানা তৃতীয় সপ্তাহ ধরে চলা ইসরায়েলী হামলা অবিলম্বে বন্ধের দাবীতে গত শনিবার লন্ডনে
এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশটি শান্তিপূর্ণ ভাবে শুরু হলেও পরবর্তী
পর্যায়ে পুলিসের সাথে সংঘর্ষের রূপ নেয়। সমাবেশ-স্থল থেকে
পনেরো
বিক্ষোভ-কর্মীকে গ্রেফতার
করা হয়েছে।
স্টপ দ্য ওয়ার
কোয়ালিশন, দ্য ব্রিটিশ মুসলিম ইনিশিয়েটিভ্স্,
দ্য প্যালেস্টাইন
সলিডারিটী ক্যাম্পেইন-সহ অন্যান্য সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশ থেকে অবিলম্বে ইসরায়েলী হামলা
বন্ধের দাবী জানানো হয়। পুলিসের তথ্যানুযায়ী, সমাবেশে প্রায় ২০ হাজার লোক উপস্থিত
ছিলো। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে এ-সংখ্যা প্রায়
দ্বিগুণ। কেনসিংটনে অবস্থিত
ইসরায়েলী দূতাবাসের গেইট থেকে বিক্ষোভকারীদের পুলিস সরিয়ে দিতে চাইলে সেখানে
সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। সংঘর্ষের কারণে দূতাবাসের কাছেই অবস্থিত
একটি স্টারবাক্স কফীশপের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বিক্ষোভকারীদের ছোঁড়া
মিসাইলে তিন
পুলিস কর্মকর্তা
আহত হয়েছেন।
মেট্রোপলিটন পুলিস
কমান্ডার বব ব্রডহার্স্ট বলেন,
'যারা বাধা অপসারণের চেষ্টা করেছে এবং আমাদের প্রতি বিভিন্ন বস্তু ছুঁড়ে মেরেছে, তাদের
কারণে আমরা খুবই আশাহত।'
সংঘর্ষের সময় দূতাবাস এলাকায় থাকা প্রায়
দু'শো
বিক্ষোভকারীকে পুলিস প্রথমে ঘিরে ফেলে ও পরে এক-এক করে
তাদেরকে ঘেরাও স্থল থেকে বের হওয়ার
অনুমতি দেয়। এ-সময়ে পুলিস কয়েক
বিক্ষোভকারীকে সনাক্ত করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের
জন্য গ্রেফাতার করে নিয়ে যায়। সহিংস আচরণের জন্য
বারো, পুলিসকে আঘাত করার কারণে
দুই এবং আইন অমান্য করে দূতাবাস এলাকায় প্রবেশের জন্য এক-সহ মোট
পনেরো ব্যক্তিকে
পুলিস আটক করেছে। লন্ডন ছাড়াও এডিনবরা,
এ্যাবারডীন, বেলফ্যাস্ট, নিউক্যাসেল ও
সাউথহ্যাম্পটনে একই উদ্দেশ্যে প্রতিবাদ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এডিনবারায়
বিক্ষোভকারীরা মার্কিন দূতাবাসে প্রায় তিনশো জুতা
ছুঁড়েছে। ছোঁড়া জুতায় তিন পুলিস
কর্ম-কর্তা অল্প আহত হয়েছেন।
প্রতিবাদকারীদের
সমর্থনে মিছিলে শিল্পী ব্রায়ান ইনো,
এ্যানী লেনক্স, প্রক্তন মেয়র কেন লিভিংস্টৌন
ও শেরী ব্লেয়ারের সৎ-বোন লরেন বুথ অংশগ্রহণ করেন। ইসরায়েলকে হামলা বন্ধের জন্য বাধ্য
করা উচিত জানিয়ে লিভিংস্টৌন এক বিবৃতিতে বলেন,
'এ-হত্যাযজ্ঞ বন্ধের অর্থনৈতিক শক্তি ব্রিটিশ সরকার ও ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের রয়েছে।'
গাজার স্বাস্থ্য-কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের হামলায় এ-পর্যন্ত প্রায় আটশো
ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। পক্ষান্তরে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ
তেরো ইসরায়েলীর মৃত্যুর
সংবাদ নিশ্চিত করেছে।
এদিকে
রোববার ব্রিটেইনের একটি ইহুদী সংগঠন অবিলম্বে গাজায় হামলা বন্ধের জন্য
ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে
। সংগঠনটি
আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, ইসরায়েল হামলা বন্ধ না করলে তা
মৌলবাদকে
উষ্কে দিবে, মধ্যপ্রাচ্যকে
আরও
অস্থিতিশীল করে তুলবে এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীন সমস্যার আরও
অবনতি ঘটাবে। উল্লেখ্য,
ব্রিটেইনে
বসবাসরত গুরুত্বপূর্ণ ইহুদী ব্যক্তিত্বরা হলেন সংগঠনটির সদস্য। নিজেদের ইসরায়েলের
একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে বর্ণনা করে সংগঠনটি হামাসের আক্রমণ থেকে ইসরায়েলের
আত্মরক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন। কিন্তু
তারা মনে করেন, আত্মরক্ষার বর্তমান কৌশল ইসরায়েলের প্রতি
অন্যান্যদের সমর্থন হ্রাস করছে।
লন্ডনঃ
১২
জানুয়ারী
২০০৯ |