|
মুক্তি-পণের
তিন মিলিয়ন ডলার-সহ
সোমালী দস্যুদের সলিল-সমাধি
একটি
সৌদী তেল-ভর্তি সুপার ট্যাঙ্কার ছিনতাইকারী পাঁচজন সোমালীয় জলদস্যুর
সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু হয়েছে শুক্রবার।
খবরটি জানাজানি হয়েছে
শনিবার।
খবরে প্রকাশ, সলিল-সমাধিত
এ-দস্যুদের সাথে ছিলো মুক্তিপণের ৩
মিলিয়ন মার্কিন ডলার,
যা তারা লোক-জন সমেত সৌদী সুপার ট্যাঙ্কারটির মুক্তি দেয়ার বিনিময়ে লাভ করেছিলো।
স্মরণ
করা যেতে পারে, মাস দু-আগে সাইরাস স্টার নামের সৌদী মালিকানাধীন সুপার
ট্যাঙ্কারটিকে এডেন উপসাগরে ছিনতাই করা হয়েছিলো।
এরপর থেকে নানান
আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বিলিয়ন ডলার মূল্যের বিপুলাকার এ-ট্যাঙ্কারটিকে
এতোদিন পর্যন্ত
জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্ত করা
সম্ভব হয়নি।
সর্বশেষ শুক্রবার ৩ মিলিয়ন ডলার
মুক্তিপণের বিনিময়ে বিশ্ব-ব্যাপী আলোচিত ছিনতাই-পর্বটির সমাপ্তি হয়।
টিভির পর্দায় অজ্ঞাত-পরিচয় একটি পক্ষ থেকে প্যারাসুটের মাধ্যমে ডলার-ভর্তি ব্যাগ ট্যাঙ্কার উপরে
নামতে দেখা যায়।
দস্যুদলটির সাথে সম্পৃক্ত দাউদ নূর নামের এক ব্যক্তি শনিবার সংবাদ-মাধ্যমকে জানান, ডলার-ভর্তি ব্যাগ নিয়ে সাইরাস স্টার ছেড়ে আসার সময় সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়ে
তারা।
জানা যায় প্রবল ঝড়ের মধ্যে পড়ে
কূল থেকে বেশ দূরে থাকা অবস্থাতেই আটজন জলদস্যু ও ডলারের ব্যাগে ভর্তি ক্ষুদে
নৌকাটি সাগর-বক্ষে ডুবে যায়।
এদের মধ্যে তিনজন
কোনো-ক্রমে কয়েক ঘন্টা ধরে সাঁতার কেটে কূলে পৌঁছাতে সক্ষম হলেও বাকী
পাঁচজনের কোনো
সন্ধান পাওয়া যায়নি। নূর
সংবাদ-মাধ্যমকে জানিয়েছেন,
পেশায় তিনি জলদস্যু হলেও সাইরাস স্টার ছিনতাইয়ের ঘটনার
সাথে যুক্ত ছিলেন না।
উল্লেখ্য,
সোমালিয়ার হারাধের
শহরের পার্শ্ববর্তী সমুদ্রে এতোদিন পর্যন্ত
সৌদী ট্যাঙ্কারটিকে আটক
রাখা হয়েছিলো।
শহরের কিছু লোক-জনের সাথে আলাপ
করেও নৌকাডুবিতে
প্রাণহানি
ও ডলার হারানোর খবরটির
সত্যতা পেয়েছে মিডিয়া।
এদিকে নাবিকদল-সহ
সুপার ট্যাঙ্কার সাইরাস স্টারের ছাড়া
পাবার খবর সৌদী মালিক-পক্ষ ভিলা ইন্টারন্যাশনালের
তরফ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত ২৫ নভেম্বর থেকে
সশস্ত্র
জলদস্যুদের হাতে বন্দী-থাকা ২৫
জন নাবিকের সকলেই সুস্থ ও দৃঢ় মনোবলে আছেন বলেও জানিয়েছে ভিলা
ইন্টারন্যাশনাল।
জানা যায়, আটক হবার সময় ট্যাঙ্কারটিতে
কমপক্ষে ১০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের তেল ছিলো।
বার্তা-সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সাইরাস স্টার ছাড়া শুক্রবার সোমালীয় জলদস্যুরা একটি
ভাড়া-করা ইরানী কার্গৌ-শিপও ছেড়ে দিয়েছে।
এ-ক্ষেত্রে কোনো
মুক্তিপণ দেয়া হয়েছে কি-না, তা জানা যায়নি।
নভেম্বরের ১৮ তারিখে এডেন
উপসাগর থেকে কার্গৌ-শিপটি ছিনতাই করা হয়েছিলো।
মাত্র ৩৬ টন গম নিয়ে
কার্গৌটি ইরানের দিকে যাচ্ছিলো।
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী,
সোমালিয়ার বিভিন্ন জলদস্যু দলগুলোর হাতে এখন পর্যন্ত শতাধিক-সহ
এক ডজনের বেশি জাহাজ আটকাবস্থায় আছেন।
লন্ডনঃ ১১ জানুয়ারী ২০০৯ |