|
আশ্রয়প্রার্থী-সংক্রান্ত
জেনেভা কনভেনশন সংশোধনের আহ্বানে
ফিল্
কার্যকারিতা
নষ্ট হয়ে যাবার অভিযোগ এনে এ্যাসাইলাম সংক্রান্ত
জেনেভা কনভেনশন সংশোধনের
আহবান জানিয়েছে ব্রিটিশ ইমিগ্রেশন মিনিস্টার ফিল উল্যাস।
শনিবার ব্রিটিশ মিডিয়ার সাথে একাধিক আলাপে তিনি জানান আটান্ন বছর আগে যে-উদ্দেশ্য
থেকে জেনেভা কনভেনশন নামে পরিচিত ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অন রিফিউজিস চালু করা
হয়েছিলো বর্তমানে তা অনেকাংশেই মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে ব্রিটেইন অভিবাসনের
সুযোগ লাভের একটি উপায়ে পরিণত হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা উল্যাসের
পক্ষ থেকে আসা সর্বশেষ আহ্বানটির ফলে সাবেক হৌম সেক্রেটারী জ্যাক স্ট্র এর পক্ষ
থেকে আসা এ্যাসাইলাম সংক্রান্ত
একটি প্রস্তাবনা নতুন
করে আলোচনায় উঠে আসতে পারে।
এছাড়াও অর্থনৈতিক মন্দা
উদ্ভূত অস্থির সময়ে ব্রিটেইনে অভিবাসী সংক্রান্ত
বিতর্ক নতুন করে চাঙ্গা
হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শনিবার বিবিসির বিওন্ড
ওয়েস্টমিনিস্টার অনুষ্ঠানে আলাপকালে উল্যাস জানান,
নিপীড়ণের হাত থেকে
ব্যক্তিকে রক্ষা করাই ছিলো এ্যাসাইলাম প্রদান সংক্রান্ত
জেনেভা কনভেশনটি চালু
করার মূল লক্ষ্য।
কিন্তু এখন আবেদনকারীদের বড়
একটি অংশই নিপীড়ণের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জায়গাটি থেকে নয় বরং অর্থনৈতিক কারণ থেকে
এ্যাসাইলাম প্রাপ্তির আবেদন করছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
পরবর্তীতে ১৯৫১ সালের ২৮ জুলাই সহিংসা-নিপীড়ন থেকে ব্যক্তিকে রক্ষা দেয়ার লক্ষ্যে
জাতিসংঘের উদ্যোগে আলোচ্য কনভেনশনটি চালু করা হয়েছিলো।
প্রথমে ইউরৌপীয় দেশগুলোর
নিজেদের মধ্যেই শরণার্থীদের সুরক্ষা দানের লক্ষ্যে কনভেনশনটি চালু হয়।
১৯৬৭ সালে এক সংশোধনীতে
কনভেশনটিকে সারা বিশ্বের জন্য প্রযোজ্য হিসাবে ঘোষণা করা হয়।
উক্ত সংশোধনীতে জাতি,
ধর্ম,
বর্ণ,
গোত্র বা রাজনৈতিক
মতামত-জনিত কারণে রাষ্ট্রীয় সহিংসার ঝুঁকির মধ্যে থাকা ব্যক্তিকে আশ্রয়দানের নীতি
ঘোষণা করা হয়।
উল্যাস তার বক্তব্য প্রসঙ্গে
আরও বলেন, আমি মনে করি [জেনেভা কনভেনশনের] নির্মান-কাঠামোটির দিকে আমাদের ফিরে
তাকানো দরকার,
বাস্তবিক পক্ষে যা
ইউরৌপের অন্যান্য দেশে করা হচ্ছে।
উল্যাসের অভিযোগ মতে,
জেনেভা কনভেশনের সুযোগে ব্রিটেইনে এ্যাসাইলাম ব্যবস্থার অপব্যবহার হচ্ছে।
নিজের বক্তব্যের সমর্থনে তথ্য
দানকালে উল্যাস জানান এ্যাসাইলাম সংক্রান্ত
আবেদন সময়-সীমার দিকে
ফিরে তাকানোটা প্রয়োজন।
তিনি বলেন,
কিছু লোককে দেখা যায়
কয়েক বছর ধরে বৈধভাবে অভিবাসন লাভের চেষ্টা করে [ব্যর্থ হবার পরে] এ্যাসাইলামের
জন্য আবেদন করছেন।
ইমিগ্রেশন মিনিস্টার
জানান প্রদত্ত বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি কোনভাবেই নিপীড়ন-সহিংসার হাত থেকে একজন
ভিনদেশীকে সুরক্ষা দানের দায়িত্ব থেকে ব্রিটেইনের সরে যাবার প্রস্তাব উত্থাপন করছেন
না।
উল্যাস জানান তিনি বরং তার
বক্তব্যের ভেতর দিয়ে একটি জাতিকে [ব্রিটেইন] অর্থনৈতিক অভিবাসনের স্রোত থেকে রক্ষা
দেয়ার পদ্ধতি নিয়ে কথা বলতে চাইছেন।
উল্যাসের শনিবারের আহ্বানটির
মধ্য দিয়ে আট বছর আগের একটি প্রস্তাবনা নতুন করে সামনে চলে আসতে পারে বলে ধারণা করা
হচ্ছে।
২০০০ সালে এক প্রস্তাবনাতে
তৎকালীন হৌম সেক্রেটারী জ্যাক স্ট্র-এর পক্ষ থেকে ব্রিটেইনে এ্যাসাইলাম লাভের
নিয়মের ক্ষেত্রে বড় ধরণের পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছিলো।
স্ট্র-এর মতে এ্যাসাইলাম
লাভে আগ্রহী একজন ব্যক্তি যে-দেশটি ছেড়ে পালিয়ে আসতে চাইবেন তাকে সে-দেশ থেকে অথবা
পাশ্ববর্তী কোন দেশ থেকে এ্যাসাইলামের জন্য আবেদন করতে হবে।
সমালোচক ও মানবাধিকার
সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে তখন স্ট্র-এর কড়া সমালোচনা করা হয়েছিলো।
তাদের মতে যে-ব্যক্তি
নিপীড়ণ-সহিংসা থেকে রেহাই পাবার জন্য কোন দেশ ছাড়তে চাইছেন তাকে সে-দেশে বসেই
ব্রিটেইনে এ্যাসাইলামের জন্য আবেদন করতে বলাটা অবাস্তব এক প্রস্তাবনা।
এছাড়াও ইউরৌপিয়ান
ইউনিয়নের যেসব দেশ এ্যাসাইলাম প্রদান করে তাদের মধ্যে একটি বার্ষিক কৌটা পদ্ধতি গড়ে
তোলার প্রস্তাব করেছিলেন স্ট্র।
শনিবার গার্ডিয়ান
পত্রিকার সাথে আলাপে উল্যাস জানান তিনি স্ট্র-এর প্রস্তাবনাগুলো মনোনিবেশ সহকারে
পাঠ করে যাচ্ছেন।
লক্ষনীয় বিষয় এই যে সাম্প্রতিক
মাসগুলোতে অর্থনৈতিক মন্দাজনিত পরিস্থিতির মুখে ব্রিটেইনের মূলধারা,
বিশেষ করে শ্রমজীবী
শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এ্যাসাইলাম-ইমিগ্রেশন বিষয়ে বিতৃষ্ণার মনোভাব বেড়ে গেছে।
সরকারী পর্যায়ের গবেষণা
থেকেও এ-সংক্রান্ত
প্রমান পাওয়া গেছে।
অভিবাসন-জনিত কারণে
নিজেদের বঞ্চিত ভাবার যে-মানসিকতা শ্রমজীবী শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে দিনকে দিন প্রবল হয়ে
উঠছে - তা স্বচ্ছ ও সংবেদনশীল উপায়ে নিরসনের জন্য রাজনীতিকদের প্রতি আহ্বানও
জানিয়েছেন কমিউনিটিজ এন্ড লৌক্যাল গভর্মেন্ট সেক্রেটারী হেজেল ব্লিয়াস-।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে
উল্যাসের পক্ষ থেকে আসা আহবানটি বিএনপির মত ইমিগ্রেশন-এ্যাসাইলাম বিরোধী উগ্র
ডানপন্থী দলের প্রচার-প্রচারণার হাতিয়ার হয়ে যায় কিনা সে-ব্যাপারে আশঙ্কায় আছেন
অনেক পর্যবেক্ষক।
অভ্যন্তরীন বাস্তবতা ছাড়াও
প্রতিবেশী দেশগুলোতে গৃহীত সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন উদ্যোগ দ্বারাও জেনেভা কনভেনশন
সংশোধন সংক্রান্ত
উল্যাসের শনিবারের আহ্বানটি
প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য,
সম্প্রতি ফরাসী
প্রেসিডেন্ট নিকৌলাস সারকৌজির পক্ষ থেকে এ্যাসাইলাম সংক্রান্ত
জেনেভা কনভেশনটিতে
পুনর্মূল্যায়নের ডাক দেয়া হয়েছে।
ইউরৌপিয়ান ইউনিয়নের পক্ষ
থেকেও বর্তমানে বহুলালোচিত
'এ্যাসাইলাম শপিং'
বন্ধ করার জন্য একটি
কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য,
ইইউ-ভূক্ত কোন একটি দেশে
এ্যাসাইলাম লাভের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়া মাত্রই অন্য কোন সদস্য রাষ্ট্রের
এ্যাসাইলাম লাভের চেষ্টা-চরিত্র শুরু করে দেয়ার চেষ্টাটিকে
'এ্যাসাইলাম
শপিং'
নাম দেয়া হয়েছে।
ব্রিটেইন মনে করে ইইউ
যে-ধরণের পদ্ধতির কথা ভাবছে তা চালু হলে ভবিষ্যতে ব্যর্থ এ্যাসাইলাম আবেদনকারী
নিজ-দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়ার আগে পর্যন্ত
ডিটেনশন সেন্টারে আটক
করে রাখার বিধানটি উঠে যেতে পারে।
উল্যাস জানিয়েছেন
শুধুমাত্র তার মৃতদেহের উপর দিয়ে এ-রকম কোন একটি নিয়ম ব্রিটেইনে চালু হতে পারে।
কয়েক মাস আগে ইমিগ্রেশন
মিনিস্টার পদে এর স্থলাভিষিক্ত হবার পর থেকেই এ্যাসাইলাম-ইমিগ্রেশন বিষয়ে কড়া
বক্তব্য উপস্থাপন করছেন ফিল উল্যাস।
তিনি কিছ দিন আগে জানান
অভিবাসনের তোড়ে ব্রিটেইনের জনসংখ্যা ৭০ মিলিয়নে গিয়ে ঠেকার মত বাস্তবতা তিনি তৈরী
হতে দেবেন না।
এছাড়াও তার অভিযোগ কিছু-কিছু
রিফিউজি এডভাইজ গ্রুপ এ্যাসাইলাম ইস্যুটিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ব্যবহার করছে।
উল্যাসের পক্ষ থেকে আসা
সর্বশেষ আহ্বানটি ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির বেশ কিছু ব্যাক-বেঞ্চার এমপির সমর্থন
পাবে বলে জানিয়েছে মিডিয়া।
লন্ডনঃ ১০ জানুয়ারী ২০০৯ |