|
অভিবাসন নিয়ে শ্বেতাঙ্গ-শ্রমজীবীদের আশঙ্কা
অবহেলিতঃ
হেজেল
অভিবাসনের
প্রভাব সম্পর্কে
শ্বেতাঙ্গ সম্প্রদায়ের শ্রমজীবী মানুষ-জনের দুর্ভাবনাগুলোকে
তেমনভাবে গুরুত্বের সাথে নেয়া হচ্ছে
না বলে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন ব্রিটেইনের কমিউনিটিজ এ্যান্ড
লৌক্যাল গভর্নমেন্ট সেক্রেটারী হেজেল ব্লিয়ার্স।
তিনি মনে করেন,
রাজনীতিকদের উচিত অভিবাসন সংক্রান্ত
ব্যাপারটিতে দুশ্চিন্তার
মধ্যে থাকা শ্রমজীবী শ্বেতাঙ্গদের সাথে যোগযোগ পুনঃস্থাপনের কাজটিতে হাত দেয়া।
অভিবাসনের প্রভাব সম্পর্কে
নিজ-মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত একটি
প্রতিবেদনের ব্যাপারে তথ্য পরিবেশনকালে বৃহস্পতিবার ব্লিয়ার্স
জানান, অভিবাসন সংক্রান্ত
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে
ইংল্যান্ডের শ্রমজীবী শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে ব্যাপক-মাত্রায় অসন্তোষ
বিরাজ করছে।
অভিবাসনের প্রভাবে এরা
নিজেদেরকে বৈষম্যমূলক
পরিস্থিতির শিকার মনে করছেন এবং তাদের মধ্যে ক্ষমতাহীন হয়ে পড়ার অনুভূতি কাজ করছে
বলেও জানিয়েছেন ব্লিয়ার্স।
তিনি এ-প্রসঙ্গে বলেন,
এস্টেটগুলোতে বসবাকারী শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবীদের কখনও-কখনও মনে হয় কেউ
তাদের কথা শুনছেন না বা তাদের পক্ষ হয়ে কেউ কোন কথা বলছেন না।
তিনি আরও বলেন,
‘যদি
তারা সরাসরি অভিবাসন প্রক্রিয়ার প্রভাব অনুভব নাও করেন, এ-সম্পর্কে
তাদের অনুভূতি অত্যন্ত
বিষম হয়ে উঠেছে।’
উল্লেখ্য,
বার্মিংহ্যাম,
মিল্টন কীনস, থেটফৌর্ড, রানকৌর্ন ও উইডনেসের
এস্টেটগুলোতে বসবাসরত শ্রমজীবীদের সাক্ষাতকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরী করা
হয়েছে কমিউনিটিজ এ্যান্ড লৌক্যাল গভর্নমেন্ট
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।
যে-এস্টেটগুলো সবচেয়ে
বেশি বঞ্চিত,
সে-সব এস্টেটে শ্রমজীবী শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি
অভিবাসন-বিরোধী মনোভাব লক্ষ্য করা গেছে।
প্রতিবেদনে প্রকাশ,
শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবীদের অনেকেই মনে করেন,
কয়েক প্রজন্ম ধরে এলাকাতে বসবাস করলেও রিফিউজীরা এবং
সিঙ্গেল মাদারেরা কাউন্সিলের বাসা-বাড়ী পাবার ক্ষেত্রে
তাদের চেয়ে অনেকরা এগিয়ে থাকেন।
প্রতিবেদন প্রস্তুত
প্রক্রিয়ার অংশ হিসাব আয়োজিত ফৌকাস গ্রুপ আলোচনাতে অংশগ্রহণ-কালে
শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবীদের অনেকে অভিযোগ করে জানান, নিজেদের
অভিযোগ জানাতে গেলে তাদের বলা হয়েছে পুরো-প্রক্রিয়া বেশ ভালোভাবেই চলছে।
এছাড়াও তাদের
অভিযোগগুলোকে বর্ণবাদী
হিসাবে চিহ্নিত করা হয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
ব্লিয়ার্স
জানান, কট্টর ডানন্থীদের
প্রচার-প্রচারণার ফলে অভিবাসন সম্পর্কে যে-ধরণের মীথ গড়ে
উঠেছে, তা চ্যালেইঞ্জ করার জন্য
শ্রমজীবী শ্বেতাঙ্গ মানুষের কাছে পৌঁছানোর দায়িত্বটি
রাজনীতিকদের।
ব্লিয়ার্স
মনে করেন, এ-ধরণের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে
কমিউনিটিগুলোর মধ্যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি ও অনিশ্চয়তা জন্ম
নিতে পারে।
বিদ্যমান অবস্থা থেকে
উত্তরণ পাবার জন্য পুরো পরিস্থিতি
স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে বুঝানোর উপরে জোর দেন তিনি।
রাজনীতিকদের পক্ষ থেকে
‘খোলামেলা
ও সৎ আলোচনা’র
অভাব থাকার কারণেই উগ্র-ডানপন্থীদের
পক্ষে অভিবাসনের ব্যাপারে মন-গড়া ধারণার জন্ম দেয়ার উর্বর
ক্ষেত্র তৈরী হয়েছে।
পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ
ঘটানোর জন্য অভিবাসন প্রশ্নে উদ্বেগের মধ্যে থাকা শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবী বক্তব্য
শোনা এবং
সে-সম্পর্কে রাজনীতিক ও নেতাদের প্রতিক্রিয়া জানানোর উপরে গুরুত্বারোপ
করেন ব্লিয়ার্স।
ব্লিয়ার্স
আরও জানিয়েছেন প্রতিবেদনে দেখা যায় ইংল্যান্ডের শ্বেতাঙ্গ
শ্রমজীবীদের অনেকেই নিজেদেরকে
‘প্রতারণার
শিকার’
মনে করছেন।
এরা আরও মনে করেন,
রাজনীতিকরা তাদের ব্যাপারে সব-ধরণের দায়-দায়িত্ব পরিত্যাগ করেছেন।
আলোচ্য গ্রুপের
মানুষ-জনের মধ্যে যে-ধরণের অভিযোগমূলক
মানসিকতা জন্ম দিয়েছে তাকে
‘বর্ণবাদী’
লেবেল দেয়ার ব্যাপারেও
তিনি সতর্কতা
ব্যক্ত করেছেন।
ব্লিয়ার্স
মনে করে, যারা কয়েক প্রজন্ম ধরে কোনো
একটি এস্টেইটে বসবাস করছেন,
এস্টেইটের ভিতরে,
রাস্তা-ঘাটে
কিংবা নেইবারহুডে কোথায় কী ঘটছে তা জানার পুরো হক তাদের আছে।
সরকার-পক্ষ জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষের
সাথে শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবীদের মধ্যে যে-দূরত্ব তৈরী হয়েছে,
তা মিটিয়ে ফেলার জন্য করণীয় প্রসঙ্গে পরামর্শ
লাভের জন্য সামনের সপ্তাহগুলোতে সরকারের বিভিন্ন বিভাগ,
কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ এবং বিশেষজ্ঞদের
অংশগ্রহণে একটি সেমিনার আয়োজন করা হবে।
লন্ডনঃ ৯
জানুয়ারী ২০০৯ |