|
গাজা সঙ্কটে 'গভীরভাবে উদ্বিগ্ন' ওবামাঃ তবু চাইছেন
নীরব থাকতে
শেষ
পর্যন্ত গাজা সঙ্কটের ব্যাপারে খানিকটা হলেও মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট
বারাক ওবামা।
জাতিসংঘ পরিচালিত একটি
স্কুলে আশ্রয় নেয়া কমপক্ষে চল্লিশ ফিলিস্তিনীর প্রাণহানি এবং বেশ কয়েক ডজন লোকের
আহত হবার সংবাদ আসার পরে বহুল সমালোচিত নীরবতা খানিকটা ভঙ্গ করলেন তিনি।
তবে ওবামা জানিয়েছেন,
ক্ষমতায় বসার আগে গাজার ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত কোনো কথা বলতে চান না।
অনেক বিশ্লেষকের মতে
ওবামার এহেন অবস্থান কুশলী এক রাজনীতিক সুবিধাবাদ ছাড়া আর কিছুই নয়।
বুধবার
ওবামা জানিয়েছেন, চলমান সংঘাতের পরিণতিতে গাজা ও ইসরায়েলে বেসামরিক মানুষ-জনের
প্রাণহানির ঘটনায় তিনি 'গভীরভাবে উদ্বিগ্ন'।
উল্লেখ্য, হামাসের সাথে
ইসরায়েলের সংঘাত শুরু হবার পর থেকে ইসরায়েলী হামলাতে এ-পর্যন্ত পৌনে পাঁচশোর মতো
ফিলিস্তিনী প্রাণ হারিয়েছেন।
পক্ষান্তরে হামাসের
ছোঁড়া রকেটের আঘাতে হাতে-গোণা কয়েক জন ইসরায়েলীর মৃত্যু হয়েছে।
গাজা
সঙ্কটের ব্যাপারে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেও এক্ষেত্রে পূর্ব-অবস্থানের পুনরুক্তি
ঘটিয়েছেন ওবামা।
তিনি জানান, আগামী ২০ তারিখে
প্রেসিডেন্ট পদে অভিষিক্ত হবার আগে পর্যন্ত এ-ব্যাপারে বিস্তারিত মনোভাব ব্যক্ত করা
সমীচিন হবে না।
ওবামার মতে, প্রেসিডেন্ট পদের
শেষ সময়টুকু পর্যন্ত জর্জ বুশই এ-ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কথা বলবেন।
উল্লেখ্য, বুশ গাজাতে
ইসরায়েলী হামলার একজন সোচ্চার সমর্থক।
ওবামা
বলেন, 'জানুয়ারীর ২০ তারিখের পরে আমি এ-ইস্যুতে বিস্তারিত কথাবার্তা বলতে যাচ্ছি।
মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট
নিরসনের ব্যাপারে তার প্রশাসন 'কার্যকর' ও 'অবিরাম প্রচেষ্টা' চালিয়ে যাবেন বলেও
জানান ওবামা।
এটি তারা নির্বাচনী
প্রচারণা-কালীন অঙ্গীকার ছিলো বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে
গাজার ব্যাপারে ওবামার প্রথমবারের বক্তব্যটিকে সমালোচনার দৃষ্টিতে দেখছেন অনেক
বিশ্লেষক।
সংবাদ-বিশ্লেষক রড রীনৌল্ডসের
শপথ নেয়া পর্যন্ত ওবামা অপেক্ষা করতে থাকতে-থাকতে গাজাতে আরও অনেক বেসামরিক
ফিলিস্তিনীর প্রাণহানি হয়ে যাবে।
অনেকের ধারণা, শপথ নেয়ার
আগের সময়টিতে গাজা প্রসঙ্গে কোনো কথা বলে ইসরায়েলের বিরাগভাজন হতে চাইছেন না ওবামা।
আর এ-কারণেই তিনি
বিদায়ের প্রেসিডেন্টের হাতে দায়িত্ব চাপিয়ে রেখে নীরব থাকার কৌশল গ্রহণ করেছেন।
এদিকে
গাজা ইস্যুতে বারাক ওবামার আংশিক নীরবতা-ভঙ্গের দিনটিতে পুরোদমে সক্রিয় থেকেছে
যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘে ভাষণ
দান-কালে সেক্রেটারী অফ স্টেইট কন্ডৌলিৎসা রাইস জানিয়েছেন, গাজাতে সংঘাত নিরসন ও
স্বাভাবিক জীবন-যাত্রা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে মার্কিন প্রশাসন রাত-দিন কাজ করে চলেছে।
গাজা প্রসঙ্গে ওয়াইট
হাউসের মুখপাত্র ডানা পেরিনো জানান, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে যে-অভিযান চালানো হচ্ছে তা
যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করছেন।
তবে বেসামরিক
ফিলিস্তিনীদের প্রাণহানির ব্যাপারে 'অত্যন্ত সতর্ক' থাকার ব্যাপারে মার্কিন প্রশাসন
ইসরায়েলের প্রতি আহবান জানিয়েছে বলে তথ্য দেন পেরিনো।
হামাসের
ব্যাপারেও বুধবার যুক্তরাষ্ট্র তার পূর্ব-অবস্থান পুর্নব্যক্ত করেছে।
বুশ প্রশাসন জানিয়েছে,
গাজাতে হিংসা বন্ধের ব্যাপারে পূর্ণ মাত্রায় চেষ্টা অব্যাহত রাখার সাথে-সাথে হামাস
যাতে নতুন করে সামরিক শক্তি সঞ্চয় করতে না পারে, সেদিকটি নিশ্চিত করতে হবে।
লন্ডনঃ ৮
জানুয়ারী ২০০৯ |