|
আল-কায়দার
হুমকি কমে এসেছে ব্রিটেইনেঃ এমআই ফাইভ প্রধান
গোয়েন্দা-সংস্থা
এমআই ফাইভ প্রধান জনাথন ইভান্স (৫০) জানিয়েছেন, আল-কায়দার হামলায় ব্রিটেইনের
আক্রান্ত হবার আশু কোনো আশঙ্কা আপাততঃ নেই।
তবে তিনি মনে করেন,
অধুনা কিছুটা নির্জীব হয়ে থাকলেও বিভিন্ন কারণেই সংগঠনটি নতুন করে সক্রিয় উঠতে পারে
ব্রিটেইনের অভ্যন্তরে।
শীর্ষ-গোয়েন্দা মনে করেন
ব্রিটেইনে আল কায়দার প্রতি অনুরুক্ত প্রচুর সংখ্যক লোকজন আছেন, যারা এখন পর্যন্ত
বিভিন্ন পন্থায় সাহায্য-সহযোগিতা করে চলেছেন।
এমআই
ফাইভের শত-বর্ষ উপলক্ষ্যে ডেইলী মিরর পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাতকারে ইভান্স জানান, গত
কিছুদিনে বেশ কিছু অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার হয়ে যাবার ব্যাপারটি ব্রিটেইনে আল কায়দা
উদ্বুদ্ধ লোকজনের মধ্যে একটি 'হিম-শীতল' বার্তা-প্রেরণে সক্ষম হয়েছে, যার
ফলশ্রুতিতে তারা এখন দারুন হতাশায় ভুগছেন।
এ-প্রসঙ্গে তিনি জানান,
২০০৭ সালের জানুয়ারী থেকে এ-পর্যন্ত সর্বমোট ৮৬টি মামলা আদালতে উঠেছে, আর এ-সব
মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ব্যক্তি অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন।
হামলার
ঝুঁকি কমে আসার ব্যাপারে তথ্য দিলেও ইভান্স জানান, বিদ্যমান পরিস্থিতি সত্ত্বেও আল
কায়দার পক্ষ থেকে এখনও ব্রিটেইনে হামলা চালানোর চেষ্টা চালানো হতে পারে।
আর হামলার চালানোর মতো
লোকজন ব্রিটেইনের ভিতরেই আছে বলেও তথ্য দেন ইভান্স।
এমআই ফাইভ ডাইরেক্টর
জেনারেল জানান, গাজাতে চলমান ইসরায়েলী হামলার থেকে ব্রিটেইনের জঙ্গীবাদীদের
'আদর্শিক গোলা-বারুদের' আরও যোগান পাবেন।
আফগানিস্তানে সংঘাত এবং
তার ফলাফল ও বিশ্ব-অর্থনীতির চলমান দুর্গতি সাথে ব্রিটেইনের অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা
ব্যবস্থার সরাসরি সম্পর্ক আছে বলেও জানান ইভান্স।
ইভান্সের
মতে ব্রিটিশ জাতীয়তার অথনা ব্রিটেইনের বাসিন্দাদের ব্যবহারের মাধ্যমে ব্রিটেইনের
উপরে হামলা পরিচালনার ব্যাপারটিকে কৌশলগত স্বার্থের দিক থেকে লাভজনক মনে করে আল
কায়দা।
এক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে সহানুভূতি
সম্পন্ন লোকের সংখ্যা ব্রিটেইনে প্রচুর বলে জানান তিনি।
আল কায়দার সমর্থকদের
বর্ণনা দান-কালে ইভান্স বলেন, তারা ফান্ড-রাইজিং থেকে শুরু করে মানুষকে
আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও সোমালিয়া যাবার ক্ষেত্রে সহায়তা দান করে চলেছেন।
কখনও কখনও তারা
সাজ-সরঞ্জাম ও সাহায্য-সহযোগিতার যোগান দিচ্ছেন এবং প্রচার-প্রচারণা করে চলেছেন।
বক্তব্যের সমর্থনে তিনি জানান, গত আঠারো মাসে 'বড়-ধরণের' হামলার পরিকল্পনা
সংক্রান্ত কোনো আলামত তাদের নজরে আসেনি।
তবে ইভান্স জানান,
আপাততঃ খানিকটা নির্জীব অবস্থা লক্ষ্য করা গেলেও হামলা পরিচালনার ব্যাপারে আল কায়দা
উদ্দীপ্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত দূরভিসন্ধি কাজ করেছে।
ক্ষমতার পরিধি বুঝাতে
যেয়ে তিনি জানান, হামলার চালানোর ব্যাপারে প্রথমবার কথাবার্তার সময় থেকে মাত্র কয়েক
সপ্তাহের ব্যবধানে একটি হামলা পরিচালনা করে ফেলা এদের পক্ষে সম্ভব হতে পারে।
ব্রিটেইনে সন্ত্রাসবাদী হামলাগুলোর সাথে পাকিস্তানের যুক্ত থাকার ব্যাপারটিকেও
আলোচনায় টেনেছেন জনাথন ইভান্স।
তার দেয়া তথ্য-মতে, আল
কায়দা ও ইসলামপন্থীদের দ্বারা ব্রিটেইনে পরিচালিত প্রতি চারটি সন্ত্রাসবাদী হামলার
মধ্যে তিনটির সাথে পাকিস্তানের সংযোগ আছে।
নভেম্বর মাসে মুম্বাই
হামলাকারীদের ব্রিটেইন-সংযোগ থাকার ব্যাপারটি অস্বীকার করে এমআই ফাইভ প্রধান জানান
এ-ধরণের কোনো প্রমাণ-পত্র তার সংস্থার হাতে নেই।
লক্ষ্য
করার বিষয়, এমআই ফাইভের প্রধান ব্রিটেইনে সন্ত্রাসবাদী হামলার আশঙ্কার ব্যাপারে
বুধবার যে-সব কথাবার্তা বলেছেন, তা গত কয়েক মাসে ক্যাবিনেট সদস্য ও প্রশাসনের কাছ
থেকে আসা বক্তব্যের বিপরীত।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে
সরকার ব্রিটেইনের উপরে হামলার আশঙ্কাকে 'ক্রিটিক্যাল' পর্যায়ের হিসাবে চিহ্নিত
করেছিলো।
লন্ডনঃ ৮
জানুয়ারী ২০০৯ |