|
বাংলাদেশে
নতুন সরকারঃ হাসিনার
নেতৃত্বে ৩২ সদস্যের মন্ত্রীসভা
আওয়ামী
লীগ
প্রধান শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৩২ সদস্যের মন্ত্রীসভা মঙ্গলবার শপথ নিয়েছে বাংলাদেশে।
এবার নিয়ে দ্বিতীয়বার
প্রধানমন্ত্রী হলেন শেখ হাসিনা।
২৩ জন মন্ত্রী এবং আট জন
প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের এই সরকারে।
মন্ত্রীসভার সদস্যদের
অধিকাংশই নতুন।
শেখ হাসিনা ছাড়া কারও বিরুদ্ধেই
দুর্নীতির কোনো মামলা নেই।
বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহমেদ নতুন মন্ত্রীসভার
সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান।
সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় প্রথম
শপথ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এরপর শপথ নেন মন্ত্রীরা।
মন্ত্রীদের পর
প্রতিমন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ হয়।
মতিয়া চৌধুরী ছাড়া
আওয়ামীলীগের কোনো শীর্ষ নেতাই এবার মন্ত্রীসভায় স্থান পাননি।
আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম
সদস্য আবদুর রাজ্জাক,
তোফায়েল আহমেদ,
আমির হোসেন আমু,
সাজেদা চৌধুরী,
সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত,
শেখ ফজলুল করিম সেলিম,
সাধারণ সম্পাদক আব্দুল
জলিল-কেউই শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি।
রাত ৯টা পর্যন্ত নতুন
মন্ত্রিসভার সদস্যদের দপ্তর বন্টন করা হয়নি।
তবে রাতেই দপ্তর বন্টন
হবে বলে জানা গেছে।
শেখ
হাসিনা মন্ত্রীসভায় পূর্ণ-মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন মতিয়া চৌধুরী,
আবুল মাল আব্দুল মুহিত,
একে খন্দকার,
আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী,
ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ,
রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু,
এ্যাডভোকেট
সাহারা খাতুন,
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম,
খোন্দকার মোশাররফ হোসেন,
রেজাউল করিম হীরা,
আবুল কালাম আজাদ,
ডা. আফম রুহুল হক,
ডা. দীপু মনি,
ডা. আফছারুল আমীন,
ড. আব্দুর রাজ্জাক,
এনামুল হক মোস্তফা শহীদ,
নূরুল ইসলাম নাহিদ,
আব্দুল লতিফ বিশ্বাস,
সৈয়দ আবুল হোসেন,
ফারুক খান,
রমেশ চন্দ্র সেন।
মন্ত্রী হিসেবে আরও শপথ
নিয়েছেন জাতীয় পার্টির নেতা জিএম কাদের ও সাম্যবাদী দলের নেতা দিলীপ বড়ুয়া।
শেখ
হাসিনার মন্ত্রীসভায় তার মেয়ে পুতুলের শ্বশুর খোন্দকার মোশাররফ হোসেনের জায়গা পাওয়া
নিয়ে ইতিমধ্যেই ঢাকায় বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে।
আওয়ামীলীগের কোনো
নেতা-কর্মী এই নামটি সম্পর্কে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
তবে মঙ্গলবার বঙ্গভবনের
ভেতরে ও বাইরে ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার যেসব সাংবাদিক শপথ অনুষ্ঠান কাভার
করতে গিয়েছিলেন তারা সবাই এই নামটি নানা ধরনের সমালোচনা করেন।
আওয়ামীলীগ সমর্থিত অনেক
সাংবাদিকদেরও তীব্র ভাষায় সমালোচনা করতে দেখা যায়।
অনেকে মন্তব্য করেন,
শেখ হাসিনার এই
সিদ্ধান্ত মোটেই ঠিক হয়নি।
ঢাকার
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন,
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের
সময় আওয়ামীলীগের যে সব নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল তাদের মন্ত্রীসভায়
স্থান না দিয়ে শেখ হাসিনা যতোটা প্রশংশিত হয়েছেন,
বিয়াই মোশাররফ হোসেনকে
মন্ত্রী করে সে প্রশংসার কিছুটা হলেও খুইয়েছেন।
আওয়ামীলীগ ঘনিষ্ঠ
সূত্রগুলো জানিয়েছে খন্দকার মোশাররফ হোসেন মন্ত্রী হবেন এটা দলে কারো ভাবনাতেই ছিল
না।
মোশাররফ মুক্তিযুদ্ধে শান্তি
কমিটির নেতা ছিলেন বলেও শুনা যায়।
সাম্যবাদী দলের নেতা দিলীপ বড়ুয়াকে টেকনোক্র্যাট কোটায়
মন্ত্রী
বানিয়েও চমক
দেখিয়েছেন শেখ হাসিনা।
আওয়ামীলীগের একটি
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে,
১৪ দলের শরিক দল
ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন ও জাসদের হাসানুল হক ইনুর মত প্রভাবশালী বাম
নেতাদের এড়ানোর জন্য বামদের থেকে দিলীপ বড়ুয়াকে মন্ত্রী করেছেন শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার
শপথ নেয়া প্রতিমন্ত্রীর তালিকায় রয়েছেন
এ্যাডভোকেট মুস্তাফিজার রহমান ফিজার,
দীপঙ্কর তালুকদার,
তাজুল ইসলাম,
তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ,
ড. হাছান মাহমুদ,
মুন্নুজান সুফিয়ান,
আহাদ আলী সরকার ও স্থপতি
ইয়াফেস ওসমান।
এরা সবাই আওয়ামী লীগের নেতা।
২০০১
সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মন্ত্রীসভার সদস্য সংখ্যা ছিল ৬২ জন।
১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগের
মন্ত্রীসভার সদস্য সংখ্যা ছিল ৪৫ জন।
এবার সংখ্যা কমিয়ে ৩২
জনে নামিয়ে আনা হয়েছে।
শপথ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা
করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. আব্দুল আজিজ।
প্রধান উপদেষ্টাসহ
উপদেষ্টারা,
প্রধান বিচারপতি,
প্রধান নির্বাচন কমিশনার,
স্পিকার,
তিন বাহিনী প্রধান,
বিএনপিসহ বিভিন্ন
রাজনৈতিক দলের নেতা,
কূটনীতিকরা শপথ অনুষ্ঠানে যোগ
দেন।
ঢাকা
থেকে আবদুর রহিম হারমাছি
০৬
জানুয়ারি ২০০৯ |