|
যেখানেই থাকি বাংলাই হবে আমার
বাড়ীঃ বললেন তসলিমা নাসরীন
ধর্ম
বিষয়ক সমালোচনার কারণে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের হুমকির মুখে সরকারী নিষ্ক্রিয়তার মাঝে
দেশত্যাগে বাধ্য হওয়া লেখক তসলিমা নাসরীন জানিয়েছেন পৃথিবীর যে-প্রান্তেই তিনি
থাকুন না কেনো, বাংলাই হচ্ছে তার বাড়ী।
প্যারিসে আবাস স্থাপন
প্রসঙ্গে গত শনিবার থেকে সংবাদ-মাধ্যমে প্রকাশিত খবরা-খবর প্রসঙ্গে মত প্রদান-কালে
সোমবার উপরের উক্তিটি করেছেন ১৯৯৪ সাল থেকে দেশে ফিরতে না পারা এ-লেখক।
প্যারিসে
আবাস স্থাপন প্রসঙ্গে সোমবার তসলিমা সংবাদ-মাধ্যমকে বলেন,
‘যদি
আমি বারবার বাংলাদেশ ও ভারত সরকার কর্তৃক প্রত্যাখাত হতেই থাকি, তাহলে-তো আমাকে
স্থায়ী হবার জন্য একটি জায়গা বেছে নিতেই হচ্ছে।‘
দেশ ছাড়াতে বাধ্য হবার পর থেকে যে-সব দেশ আশ্রয় দিয়েছে, সে-সব দেশকেও ধন্যবাদ
জানিয়েছেন তিনি।
অজ্ঞাত-অবস্থান থেকে দেয়া
বক্তব্যে তসলিমা আরও বলেন,
‘কিন্তু আমি যেখানেই বাস
করি না কেনো, আমি সব-সময় বাড়ী ফিরে যাবার অপেক্ষায় থাকবো।
বাংলা হচ্ছে আমার বাড়ী।‘
উল্লেখ্য, শনিবার প্যারিস মিউনিসিপ্যালিটীর পক্ষ থেকে তসলিমার জন্য শহরে একটি
বাসস্থান ঠিক করার খবর প্রকাশ করা হয়েছে।
গত জুলাইতে তাকে
প্যারিসের সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছে।
স্মরণ
করা যেতে পারে, ১৯৯৪ সালে দেশত্যাগে বাধ্য হবার পরে সুইডেনে আশ্রয় লাভ করেন তসলিমা।
১৯৯৫ ও ১৯৯৬ সালে তিনি
জার্মানীতে অবস্থান করেন।
১৯৯৭ সালে তসলিমা আবার
সুইডেন চলে যান।
১৯৯৮ সালে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে
তাকে পলিটিক্যাল রিফিউজী হিসাবে বিশেষ ট্র্যাভেল ডকুমেন্ট সরবরাহ করা হয়।
সে-বছর তিনি বসবাসের
জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চলে যান।
১৯৯৯-২০০০ সালে ঘর-হার
তসলিমা বাসের জন্য চলে যান ফ্রান্স।
২০০১-২০০২ সাল থেকে তিনি
আবার চলে যান সুইডেন।
এ-সময়-কালে তিনি টুরিস্ট
ভিসা নিয়ে দীর্ঘ সময় ভারতে থাকেন।
এ-সময় অসুস্থ মাকে দেখতে
দেশ যাবার অনুমতি লাভের জন্য একাধিকবার বাংলাদেশ সরকারের বরাবরে আবেদন জানান তসলিমা।
২০০৩
সালে তিনি ভারতে থাকার রেসিডেন্ট পারমিট দেয়া হয় তাকে।
ভারতে ধর্মীয় উগ্রবাদীরা
এ-সময় তার বিরুদ্ধে ফতোয়া জারী করে।
২০০৫ সালে তসলিমা
কোলকাতাতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করলেও স্বস্তিতে থাকতে পারেননি।
সে-বছর তার বিরুদ্ধে
আরেক দফা ফতোয়া জারী করে ধর্মীয় উগ্রবাদীরা।
২০০৭ সালে হায়দ্রাবাদে
মৌলবাদীদের দ্বারা আক্রান্ত তসলিমা।
এ-সময় তাকে মেরে ফেলার
জন্য পুরষ্কার ঘোষণা করা হয়।
মৌলবাদীদের তাণ্ডবের
মুখে এক পর্যায়ে কোলকাতা থেকে তসলিমাকে জোর করে সরিয়ে দেন ক্ষমতাসীন বামফ্রন্ট
সরকার।
এর পরে বেশ কিছুদিন রাষ্ট্রীয়
নিরাপত্তায় অজ্ঞাতবাসে থাকতে বাধ্য হন তিনি।
ভারতে থাকার অনুমতি না
পেয়ে গত বছরের মার্চ মাসে সুইডেন চলে যান তসলিমা নাসরীন।
লন্ডনঃ ৫
জানুয়ারী ২০০৯
|