|
ক্রেডিট ক্র্যাঞ্চে
বিয়ে-বিচ্ছেদঃ আইনজীবীদের
ব্যস্ততা বেড়ে গেছে
ক্রেডিট
ক্র্যাঞ্চের ঝক্কি আর ক্রিসমাসের ছুটি-কালীন অশান্তি মিলে চলতি সপ্তাহটিতে
ব্রিটেইনে বিয়ে-বিচ্ছেদের হার সাংঘাতিক রকমের বেড়ে যাবার আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন
আইনজীবীরা।
খবর সোমবারের।
বিয়ে-বিচ্ছেদ সংক্রান্ত আইনজীবীর উদ্ধৃত করে সংবাদ-মাধ্যম জানিয়েছে অর্থনীতিক
সমস্যার পরিণতিতে প্রতি চারজনে একজন ব্রিটিশ নাগরিক বর্তমানে তার সাথীর সঙ্গে
সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে সমস্যায় ভুগছেন।
এছাড়াও ইনসাইড ডিভৌর্স
নামের একটি সংস্থার জরীপে ১১ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন নিতান্ত অর্থনীতিক কারণেই
তারা সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়া সত্ত্বেও এক-ছাদের নিচে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
এরা জানিয়েছেন অর্থনীতিক
অবস্থা এখন এতোটাই খারাপ যে, তাদের পক্ষে এখন পরস্পরকে ছেড়ে যাবার খরচ বহন করা
সম্ভব নয়।
উপরোক্ত
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, বর্তমানে ব্রিটেইনে কমপক্ষে ২ মিলিয়ন দম্পতি বৈবাহিক জীবনে
সমস্যাতে ভুগছেন।
এছাড়াও ১ দশমিক তিন মিলিয়ন
মানুষ বিবাহ বিচ্ছেদের ব্যাপারটি নিয়ে সক্রিয় ভাবনায় আছেন।
জরীপে অংশগ্রহণকারীদের
মধ্যে যারা ইতোমধ্যে বিয়ে-বিচ্ছেদের পথে হেঁটেছেন তাদের মধ্যে ১৭ শতাংশ এজন্য
অর্থনৈতিক সমস্যাটিকে প্রধান কারণ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অর্থনীতিক দুর্গতির ব্যাপারটি ক্রিসমাসের বন্ধের সময়ে এসে আর
খারাপ দিকে মোড় নিয়েছে।
ডিভৌর্স লইয়্যার জেইমস
স্টুয়ার্ট মনে করেন, ক্রেডিট ক্র্যাঞ্চ ও ক্রিসমাসের সময়টি মিলে এবারের জানুয়ারী
মাসের প্রথম সপ্তাহটি হবে বিয়ে-বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে অন্যতম ব্যস্ততম একটি সপ্তাহ।
আইনজীবীর বক্তব্যের
সমর্থনে তথ্য পাওয়া গেছে রিলেইট নামের একটি সংস্থার হিসাব থেকে।
ব্রিটেইনের সর্ববৃহৎ
রিলেশন্সশিপ-সাপৌর্ট বিষয়ক সংগঠনটি জানিয়েছে এবারের ক্রিসমাসের বন্ধে গতবারের
তুলনায় তাদের কাছে ৫৯ শতাংশ বেশি টেলিফৌন কল এসেছে।
ইনসাইড
ডিভৌর্সের জরীপে প্রকাশ বৈবাহিক সম্পর্ক ভেঙ্গে যাবার ক্ষেত্রে পুরোপুরিভাবে
শারীরিক সম্পর্কহীন থাকা (১৭ শতাংশ), সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বাসঘাতকতা (৩৪ শতাংশ),
সাথীর ব্যাপারে একঘেয়েমী (২৯ শতাংশ) তৈরী হয়ে যাবার মতো ব্যাপারগুলোকে চিহ্নিত
করেছেন উত্তরদাতারা।
লন্ডনঃ ৫ জানুয়ারী ২০০৯
|