|
গাজায়
ইসরায়েলী হামলার প্রতিবাদে ব্রিটেইনের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ
ফিলিস্তিনের
গাজাতে ইসরায়েলী সেনাবাহিনীর হামলা চালানোর প্রতিবাদে গত শনিবার লন্ডনের
ট্র্যাফালগার স্কোয়ারে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে ইসরায়েলী হামলার
প্রতি ঘৃণা জানিয়ে তা বন্ধের দাবী জানানো হয়। এছাড়া হামলার প্রতি ঘৃণা প্রকাশ-কালে
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও কার্যালয় ১০ নং ডাউনিং স্ট্রীটের গেইটেও জুতো নিক্ষেপ করা
হয়। একইদিন বিকালে দাঙ্গা-পুলিস হাইড পার্ক আন্ডারগ্রাউন্ড সাবওয়েতে প্রতিবাদ
জানাতে যাওয়া জনতার উপর লাঠিচার্জ করে।
গাজাতে ইসরায়েলী
হামলার প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে এম্বব্যাঙ্কমেন্ট আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশন থেকে
যাত্রা শুরু করে বিক্ষোভকারীরা ওয়াইট হল-ডাউনিং স্ট্রীট হয়ে ট্র্যাফালগার স্কোয়ারে
সমবেত হয়। বিক্ষোভকারীদের সাথে প্রাক্তন লেবার এমপি টনি বেন, কৌতুক অভিনেতা
এালেক্সেই
সায়াল, গায়িকা
এানী
লিনক্স এবং প্রাক্তন মেয়র কেন লিভিংস্টৌন একাত্মতা ঘোষণা করেন।
জুতো নিক্ষেপের
বিষয়ে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজকরা জানায় যে, তারা শান্তিপূর্ণভাবে ঘৃণা প্রকাশের জন্য
ডাউনিং স্ট্রীটের গেইটে জুতো রেখে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ায়
বাধা প্রদান করার কারণে উত্তেজিত বিক্ষোভকারীরা জুতো রেখে আসার পরিবর্তে নিক্ষেপের
পন্থা বেছে নেয়। জুতো নিক্ষেপের সময় প্রতিবাদকারীরা চিৎকার করে জানায়,
‘তোমাদের প্রতি
ঘৃণা জানাচ্ছি, এ-আমার জুতো।’
এছাড়া সমাবেশকারীরা ডাউনিং স্ট্রীট গেইটের কিছু দূরে ইসরায়েলী পতাকা পুড়িয়ে ক্ষোভ
প্রকাশ করে। এদিকে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড জানিয়েছে, জুতো নিক্ষেপের ঘটনায় তাদের
অফিসারদের কোনো সমস্যা হয়নি।
শনিবারের
প্রতিবাদকারীদের অনেকে ফিলিস্তিন, হামাস ও হিযবুল্লাহ্র পতাকা বহন করছে। এছাড়া
বামপন্থী দলগুলোও এ-প্রতিবাদ সমাবেশে অংশগ্রহণ করে। প্রতিবাদে অংশ নেয়া
‘কাউন্সিল ফর
আওয়ার ব্রিটিশ আন্ডারস্ট্যান্ডিং’
সদস্য এমি শালান
বলেন, ‘ফিলিস্তিনীরা
বহু দশক ধরে ভুক্তভোগী, কিন্তু আমি মনে করি ব্রিটেইনের উচিৎ পূর্বে কী হয়েছে, তার
পরিবর্তে বর্তমান পরিস্থিতির দিকে নজর দেয়া।’
পুলিসের ভাষ্য-মতে শনিবারের সমাবেশে আনুমানিক ১২ হাজার লোকের অংশগ্রহণ করেছিলেন।
কিন্তু আয়োজকদের দাবী সমাবেশে উপস্থিত লোকের সংখ্যা ছিলো ৬০ হাজার।
ট্র্যাফালগার
স্কোয়ার ছাড়াও শনিবার লন্ডনের কেনসিংটনে অবস্থিত ইসরায়েলী দুতাবাসের সামনে প্রায় ৫
হাজার ব্রিটিশ তরুণ সমবেত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ক্ষুব্ধ প্রতিবাদকারীদের ছোট্ট
একটি দল দূতাবাস ভবনের দিকে এগিয়ে যেতে চাইলে পুলিস বাধা প্রদান করে এবং দূতাবাস
সংলগ্ন রাস্তাসমূহ বন্ধ করে দেয়। দিনের আলো কমে আসার সাথে-সাথে সমাবেশ এলাকায়
উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এক পর্যায়ে সামগ্রিক পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে।
এদিকে আয়োজকরা জানিয়েছে, তারা শনিবারে সংঘটিত ঘটনার বিষয়ে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের
কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাবে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যানুযায়ী হাইড পার্ক
আন্ডারগ্রাউন্ড সাবওয়েতে দাঙ্গা-পুলিস সমাবেশে যোগ দিতে আসা শিশু-সহ সাধারণ মানুষের
উপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ করেছে।
লন্ডন ছাড়াও শনিবার
ইসরায়েলী হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্লাসগৌ, এক্সটার,
এডিনবারা, ব্রিস্টল, লিভারপুল, নরউইচ, হাল্, টনব্রিজ ওয়েলস্, লীডস্,
ম্যাঞ্চেস্টার, নিউক্যাসেল, সোয়ানসী, ইয়র্ক, সিয়ার্নারফন, ব্র্যাডফৌর্ড ও
শেফীল্ডে। এছাড়া বিশ্বের অন্যান্য স্থান যথা প্যারিস, বার্লিন, রৌম, এথেন্স এবং
এশিয়ার বিভিন্ন শহরেও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
লন্ডনঃ ৪ জানুয়ারী
২০০৯ |