|
শেষ পর্যন্ত নির্বাসিত লেখক
তসলিমা নাসরীন ঠাঁই
পেলেন প্যারিসে
ধর্ম-বিরুদ্ধ
মত-প্রকাশের কারণে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত লেখক তসলিমা নাসরিকে আশ্রয়-দানের ঘোষণা
দিয়েছে প্যারিস মিউনিসিপ্যাল কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশে ধর্মবাদীদের হুমকি ও সরকারী
নিষ্ক্রিয়তার মুখে ১৯৯৪ সালে মাতৃভূমি বাংলাদেশ ত্যাগে বাধ্য হওয়া নাসরীন ইউরৌপের
বিভিন্ন দেশ-সহ যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন।
শনিবার তসলিমা
নাসরিনকে আশ্রয়-দানের ঘোষণা-কালে প্যারিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহরের পূর্বদিক ১০ নং
আরোনসিসেমেন্ত এলাকাতে বসবাসের জন্য একটি বড়ো আকারের স্টুডিও দেয়া হবে।
যে-স্টুডিওতে তসলিমা থাকবেন, শুরুতে কিছুদিন তার ভাড়াও পরিশোধ করবে প্যারিস
মিউনিসিপ্যালিটী। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের জুলাই মাসে তসলিমাকে প্যারিসের পক্ষ থেকে
সম্মান-সূচক নাগরিকত্ব দেয়া হয়। তিনি ছয় সপ্তাহ আগে এ-শহরে একটি বাসস্থানের জন্য
আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছিলেন। তসলিমা নাসরীন ফেব্রুয়ারী থেকে প্যারিসে থাকতে শুরু
করবেন বলেও জানানো হয়েছে।
তসলিমাকে নাগরিকত্ব
দানের ঘোষণা-কালে মেয়র বাট্রান্ড ডেলেনো বলেছেন, আপনি এখানে আপনার বাড়ীতে আছেন। এটা
এমন এক শহর, যার ঘোষণা হচ্ছে মানুষ জন্মে স্বাধীন হয়ে আর স্বাধীন সত্ত্বা হিসেবেই
বেঁচে থাকে এবং কোনো মানুষকেই তার বিশ্বাসের জন্য অভিযুক্ত করা যায় না।
তসলিমা নাসরীন ২০০৪
সাল থেকে মোটামুটি ভারতে আবাস গাড়লেও ২০০৭ সালের শেষ দিক থেকে ধর্মবাদীদের তৎপরতার
মুখে গত বছরের মার্চ মাসে সুইডেন চলে যেতে বাধ্য হন। শনিবারের ঘোষণা প্রসঙ্গে কোনো
প্রতিক্রিয়া জানাতে রাজী হননি সুইডেনে তসলিমার মুখপাত্র মারিয়া মোডিগ। তসলিমা এখন
সুইডেনে আছেন কি-না, সে-ব্যাপারেও কিছু জানাতে চাননি মারিয়া।
লন্ডনঃ ৩ জানুয়ারী
২০০৮ |