|
বাংলাদেশে শপথ
নতুন সাংসদদেরঃ রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন জিল্লুর রহমান
বাংলাদেশে
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী শেখ হাসিনা-সহ
আওয়ামী লীগের
নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সাংসদরা শনিবার শপথ নিয়েছেন।
বিকালে সংসদ ভবনের শপথ
কক্ষে তারা শপথ নেন।
নব-নির্বাচিত সাংসদদের
শপথ-বাক্য পাঠ
করান স্পীকার ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমিরউদ্দিন সরকার।
জমিরউদ্দিন সরকার এবারের
সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে
পরাজিত হয়েছেন।
শপথ
নেওয়ার পর রাতে আওয়ামী লীগের সংসদ-সদস্যরা
সংসদীয় দলের সভায় মিলিত হন।
আওয়ামী লীগের
সভানেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ-বৈঠকে
সর্বসম্মতিক্রমে শেখ হাসিনাকে সংসদীয় দলের নেতা ও জিল্লুর রহমানকে উপনেতা নির্বাচিত
করা হয়েছে।
বৈঠক শেষে শেখ হাসিনা
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন,
প্রবীণ নেতা জিল্লুর
রহমানকে রাষ্ট্রপতি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ।
জিল্লুর রহমান
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর সংসদ উপনেতা পরিবর্তন করা হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে
নতুন মন্ত্রিসভা আগামী মঙ্গলবার শপথ
নিবে।
প্রধানমন্ত্রী-সহ
প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথ একই দিনে একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক
ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ নতুন মন্ত্রীসভার
সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।
শপথ অনুষ্ঠান হবে
বঙ্গভবনের দরবার হলে।
তবে কারা মন্ত্রীসভায়
থাকবেন, তা নিয়ে ঢাকায় বিভিন্ন-জনের
নাম শোনা গেলেও এখন পর্যন্ত কিছুই ঠিক হয়নি বলে আওয়ামী
লীগের এক শীর্ষ নেতা ইউকেবেঙ্গলিকে জানিয়েছেন।
সংসদ
ভবনের শপথ কক্ষে আসন সংখ্যা কম থাকার কারণে শনিবার তিন পর্বে মহাজোটের সংসদ
সদস্যদের শপথ গ্রহণ
অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
বিকেল সাড়ে ৩ টায় প্রথম
পর্বে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সাংসদদের একাংশ শপথ নেন।
এর পর আওয়ামীলীগের
প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী ও আমির হোসেন আমুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের বাকী
সাংসদ এবং ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন।
এরপর হুসেইন মুহাম্মদ
এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করার
স্পীকার।
রাতে চার জন
স্বতন্ত্র
সংসদ-সদস্যও
শপথ নিয়েছেন।
রোববার বিকেল ৩ টার
বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ
অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
আওয়ামী
লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বিকাল ৩টার দিকে শপথ কক্ষে আসেন।
অপর সাংসদরা দুপুরের পর
থেকেই সংসদ ভবনে আসতে শুরু করেন।
সংসদ ভবনে আসার আগে
যুদ্ধাহত এক দল মুক্তিযোদ্ধা শেখ হাসিনার সঙ্গে সুধা সদনে দেখা করেন।
এইচএম এরশাদের নেতৃত্বে
জাতীয় পার্টি,
হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বে জাসদ
এবং রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে ওয়ার্কার্স পার্টির সাংসদরা দুপুরের পরপরই সংসদ ভবনে
আসেন।
এবার
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট ২৬২টি আসনে বিজয়ী হয়।
এর মধ্যে আওয়ামী লীগ
একাই পায় ২৩০টি আসন।
কিন্তু শপথ কক্ষের ধারণ
ক্ষমতা ১৮০ জন হওয়ায় দু-দফায়
শপথ অনুষ্ঠান কয়েক পর্বে করার ব্যবস্থা হয় বলে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান।
শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র
করে সংসদ ভবনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
নিরাপত্তা বাহিনীর
সদস্যরা মেটাল ডিক্টেটর দিয়ে শপথ কক্ষ-সহ
আশপাশের এলাকায় তল্লাশি
চালায়।
ডগ
স্কৌয়াড
দিয়েও তল্লাশি
চলে।
শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে আওয়ামী লীগের
বিভিন্ন পর্যায়ের পাঁচ শতাধিক নেতা সংসদ ভবনে জড়ো হয়।
রোববার
বিকাল ৩টায় শপথ নিবেন
বিএনপি,
জামায়াতে ইসলামী,
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি
(বিজেপি),
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি
(এলডিপি) ও স্বতন্ত্র
সদস্যরা।
বাংলাদেশের সংবিধান
অনুযায়ী,
নির্বাচনের ফলাফলের
গ্যাজেট প্রকাশের পর ৩০
দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন শুরুর বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৯
ডিসেম্বর)
নবম সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের
গ্যাজেট প্রকাশ হয়।
অন্যদিকে
বিগত সরকারে থাকা চারদলীয় জোটের বিএনপি ও তার মিত্ররা পেয়েছে ৩২টি আসন।
এর মধ্যে বিএনপির আসন
সংখ্যা ২৯টি।
অন্য শরীক
জামায়াতে ইসলামী ২টি ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ১টি আসন পেয়েছে।
এছাড়া লিবারেল
ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ১টি ও
স্বতন্ত্র
প্রার্থীরা ৪টি আসন পেয়েছেন।
আগামী ২৪
ডিসেম্বর
নবম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন
বসবে বলে সংসদ সচিবালয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে।
ঢাকা থেকে
আবদুর রহিম হারমাছি
৩ জানুয়ারী
২০০৯
|