|
ইসরায়েলী গাজা-হামলার সমর্থনে
বুশঃ হামাস-বিরোধী
কড়া অবস্থান
সপ্তাহ-ব্যাপী
চলমান হামলার পরিণতিতে গাজাতে শিশু ও নারী-সহ
সাড়ে চারশোরও বেশি মানুষের প্রাণহানি
দায়ে ইসরায়েল-বিরোধী কোনো প্রতিক্রিয়া প্রদানে ব্যর্থ হয়েছেন
বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ।
শনিবারের বক্তব্যে চলতি
রক্তপাতের জন্য তিনি গাজা নিয়ন্ত্রণকারী
সংগঠন হামাসের উপরে যাবতীয় দায়-দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছেন।
এদিকে ইসরায়েলী হামলার
পরিণতিতে শনিবার
দিনও প্রাণ হারিয়েছেন কয়েকজন ফিলিস্তিনী।
এদের মধ্যে হামাসের
সামরিক শাখার একজন নেতাও আছেন বলে জানা গেছে।
চলমান
পরিস্থিতির ব্যাপারে প্রথমবারের মতো
বক্তব্য দান-কালে সাপ্তাহিক বেতার-ভাষণে
জর্জ বুশ বলেন, গত ১৯ ডিসেম্বরে
হামাসের দিক থেকে অস্ত্র-বিরতি লঙ্ঘিত
হবার কারণেই গাজার উপরে ইসরায়েলী হামলা শুরু হয়েছে।
হামাসের রকেট ও মর্টার
হামলাতে কয়েক-জন বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি
ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন বুশ।
পক্ষন্তরে গাজাতে
ইসরায়েলী হামলায় ফিলিস্তিনীদের প্রাণহানির
কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, হামাসের লোকজন বেসামরিক
ফিলিস্তিনীদের মধ্যে অবস্থান নিয়ে নেয়ার কারণেই এমন ঘটনা হামাসকে সন্ত্রাসবাদী
হিসাবে আখ্যায়িত করে বুশ দাবী করেন, ইরান ও সিরিয়ার পক্ষ
থেকে সংগঠনটিকে মদত দেয়া হচ্ছে।
ইসরায়েলী
হামলার পক্ষে অবস্থান নেয়া ছাড়াও হামাসের উদ্দেশ্যে কড়া হুমকি জারী করেছেন বুশ।
তিনি জানান,
হামাসের হাতে কীভাবে অস্ত্রেরর
চালান এসে পৌঁছায়, তা শনাক্তকরণ ও বন্ধের ব্যবস্থা গৃহীত না
হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরণের অস্ত্র-বিরতি কার্যকর হতে পারে
না।
বুশ
বলেন, হামাসের কাছ
থেকে আসা শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেও কোনো অস্ত্র-বিরতি কার্যকর
হবে না।
উল্লেখ্য,
ইসরায়েলের
কাছ থেকেও ঠিক একই ধরণের
অবস্থান ব্যক্ত করা হয়েছে।
তিনি অবশ্য গাজাতে যে
মানবিক বিপর্যয়
অব্যাহত আছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বেসামরিক প্রাণহানি
ঘটনাকে দুঃখজনক হিসাবেও আখ্যায়িত করেন বুশ।
চলতি মাসের ২০ তারিখে
ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া মার্কিন
প্রেসিডেন্টের মতে রাস্তা-ঘাট,
স্কুল নির্মাণ না করে
রকেট লাঞ্চার কিয়ানার
পেছনে অর্থকড়ি খরচ করার ভিতর দিয়ে হামাস প্রমাণ
করেছে ফিলিস্তিনী জনগণকে সেবা-দান করাটা হামাসের লক্ষ্য নয়।
জর্জ বুশ জানিয়েছেন,
ঘটনা-প্রবাহ সম্পর্কে তিনি প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট বারাক
ওবামাকে অবহিত করবেন।
তবে ওবামা বুশ যতক্ষণ
ক্ষমতায় আছেন, ততক্ষণ তিনি
এ-ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করবেন না।
এদিকে,
ইসরায়েল
শনিবার দিনও গাজার উপরে দফায়-দফায় হামলা অব্যাহত রেখেছে।
বিমান ও গান-শীপগুলোর
হামলায় হামাসের দুটি স্থাপনা ধ্বংস করার খবর দেয়া হয়েছে।
ইসরায়েলী কর্তৃপক্ষ
জানিয়েছে, এ-দুই স্থাপনাতে হামাসের
অস্ত্র-মজুত করা হতো।
শুক্রবার রাতে পরিচালিত
হামলাতে হামাসের শীর্ষ-স্থানীয় সামরিক নেতা আবু আল-জামাল প্রাণ
হারিয়েছে বলে জানা গেছে।
হামাসের পক্ষ থেকেও
শনিবার ইসরায়েলের অভ্যন্তরে কয়েকটি রকেট
ছোঁড়ার খবর দেয়া হয়েছে।
সিরিয়া থেকে দেয়া এক
সতর্ক-বার্তায় সংগঠনের নেতা খালেদ মাশহাল শনিবার জানান,
ইসরায়েলের সেনাবাহিনী যদি গাজাতে প্রবেশ করে, তাহলে তাদেরকে
সমুচিত শাস্তি দেয়া হবে।
উল্লেখ্য,
গত কয়েক দিন ধরে ব্যাপক
সমর-প্রস্তুতি-সহ ইসরায়েলী বাহিনী গাজা সীমানে
অবস্থান গ্রহণ
করে আছে। সর্বশেষ খবরে জানা গেছে যে, ইসরায়েলী বাহিনী
গাজাতে ইতোমধ্যে প্রবেশ করতে শুরু করেছে।
খবরে
প্রকাশ,
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ
আব্বাস-সহ কয়েকজন
আরব বিদেশ-মন্ত্রী চলতি উইক-এন্ডে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন।
তারা হামলার ঘটনার জন্য
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একটি নিন্দা-প্রস্তাব
উত্থাপন ও হামলা বন্ধের জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহবান জানাবেন।
লন্ডনঃ ৩
জানুয়ারী ২০০৯
|