হাজারে-হাজার ফিলিস্তিনীর বিক্ষোভঃ ইসরায়েলী হামলা অব্যাহত
বৃহস্পতিবারের
হামলায় প্রাণ হারানো হামাস নেতার শেষকৃত্যানুষ্ঠানের দিনটিকে ইসরায়েলী
জায়নবাদ-বিরোধী গণ-বিক্ষোভে পরিণত করেছেন ফিলিস্তিনীরা।
তবে
সপ্তাহ-ব্যাপী হামলার প্রতিবাদে হাজার-হাজার ফিলিস্তিনীর রাস্তায় নেমে আসার
ব্যাপারটিকে অগ্রাহ্য করেই শুক্রবার গাজার উপরে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল।
এদিকে,
হামলা
বন্ধের ব্যাপারে কাজ করে যাবার দাবীর সাথে-সাথে হামাস বিরোধী কড়া বক্তব্যও করা
হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
খবরে প্রকাশ,
শুক্রবার পুরো গাজা-জুড়ে হাজার-হাজার ফিলিস্তিনী হামাস নেতা নিজার রায়ানের (৫১)
জন্য শোক-প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন।
হামাসের
অন্যতম শীর্ষ-নেতা রায়ান বৃহস্পতিবার ইসরায়েলী বিমান হামলায় প্রাণ হারান।
একই
হামলার ঘটনায় রায়ানের চারজন স্ত্রী ও ১০ জন সন্তান নিহত হন।
শুক্রবার গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে রায়ানের শেষ-কৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।
হামাস
জানিয়েছে, রায়ানের রক্ত-দান কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেয়া হবে না।
সংবাদ-মাধ্যম
জানিয়েছে, হাজার-হাজার ফিলিস্তিনী রাস্তায় নেমে বিক্ষোভের ঘটনার দ্বারা ইসরায়েলী
হামলার প্রকোপ হ্রাস পায়নি।
জানা
গেছে, শুক্রবার ইসরায়েলী বিমানগুলো গাজার কমপক্ষে ২০টি অবস্থানের উপরে বোমা ফেলেছে।
সাতদিন
ব্যাপী হামলার পরিণতিতে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কমপক্ষে ৪২৮ জন ফিলিস্তিনী প্রাণ
হারিয়েছেন।
এছাড়াও
আহতের সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার ছুঁয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবারের হামলাতে কমপক্ষে তিনটি শিশু নিহত হয়েছে।
এসব
শিশু বিমান-হামলার সময়টিতে ঘরের বাইরে খেলাধূলা করছিলো।
পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, হামাসকে সমূলে বিনাশ করার লক্ষ্য দ্বারা পরিচালিত ইসরায়েলী
বাহিনীর পক্ষ থেকে বিমান হামলার সাথে-সাথে গাজার অভ্যন্তরে যে-কোনো মুহূর্তে
সেনা-অভিযান শুরু করা হতে পারে।
সীমান্তের ঠিক পাশের এলাকাজুড়ে বিমান-হামলা জোরদার করার কারণে সেনা-অভিযানের
ব্যাপারটি অনেকটা চূড়ান্ত বলেই ধরে নেয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য,
সীমান্ত সংলগ্ন বিস্তৃত এলাকা-জুড়ে অসংখ্য স্থল-মাইন পেতে রাখা হয়েছে।
হামলা
অব্যাহত রাখার কারণ হিসাবে হামাসের রকেট হামলাকে দায়ী করে চলেছে ইসরায়েল।
বার্তা-সংস্থা জানিয়েছে, ইসরায়েলী হামলার জবাব হিসাবে হামাসের পক্ষ থেকে সাতটি রকেট
ছোঁড়া হয়েছে শুক্রবার।
এর
মধ্যে সীমান্ত থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরবর্তী আশদদ শহরে কমপক্ষে এক-ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
এদিকে,
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে একটি 'টিকসই ও শক্তিশালী অস্ত্র-বিরতি' কার্যকর করার লক্ষ্যে
কাজ করে চলেছে।
তবে
মার্কিন সেক্রেট্যারী অফ স্টেইট কন্ডৌলিৎসা রাইস আরও জানান, অস্ত্র-বিরতি কার্যকর
হলেও গাজার ক্ষেত্রে আর কোনোভাবেই পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবার ব্যাপারটি মেনে নেয়া হবে
না।
অস্ত্র-বিরতি লঙ্ঘনে দায়েও তিনি হামাসের কড়া সমালোচনা করেছেন।
রাইসের
দাবী, হামাস গাজার জনগণকে নিজেদের স্বার্থে জিম্মি করে রেখেছে।
লন্ডনঃ
২
জানুয়ারী ২০০৯
|