|
মার্কিনীদের কাছ থেকে
বাগদাদের গ্রীন-জৌন বুঝে নিয়েছে ইরাকীরা
নতুন
বছরের প্রথম দিনটিতে মার্কিনীদের হাত থেকে দেশের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ স্থানটির
নিরাপত্তার দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে নিয়েছে ইরাকী বাহিনী।
রাজধানী বাগদাদের
সর্বাপেক্ষা সুরক্ষিত স্থান গ্রীন-জৌনের দায়িত্ব ইরাকী কর্তৃপক্ষের কাছে
হস্তান্তরিত হবার মধ্য দিয়ে ইরাক যে একটি সার্বভৌম দেশ তা প্রমাণিত হয়ে গেছে বলে
দাবী করেছে দেশটিতে অবস্থারত মার্কিন বাহিনী কর্তৃপক্ষ।
খবরে
প্রকাশ, বৃহস্পতিবার নববর্ষের এক অনুষ্ঠান পালনের মধ্য দিয়ে গ্রীন-জৌনের নিরাপত্তার
দায়িত্ব ইরাকীদের হাতে তুলে দেয়া হয়।
এ-সময় ইরাকের সরকারী
কর্মকর্তাবৃনদ ও মার্কিন সামরিক অফিসাররা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সাড়ে পাঁচ
মাইল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত ও দেয়াল-ঘেরা গ্রীন-জৌন হচ্ছে বাগদাদ তথা ইরাকে সবচেয়ে
সুরক্ষিত এলাকা।
এ-জৌনের ভেতরেই ইরাক সরকার ও
মার্কিনীদের প্রধান অফিসগুলো অবস্থিত।
উভয় পক্ষের সর্বোচ্চ
পর্যায়ের লোকজন গ্রীন-জৌনের ভেতরেই বসবাস করেন।
সমগ্র জৌনটি
ব্লাস্ট-ওয়াল ও বিপুল সংখ্যক চেক-পয়েন্ট দ্বারা মূল শহর থেকে বিশেষভাবে বিচ্ছিন্ন।
২০০৩ সালে দখলদারিত্ব
শুরুর পর থেকে এ-পর্যন্ত গ্রীন-জৌনের নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব পালন করেছে মার্কিন
বাহিনী।
গ্রীন-জৌনের দায়িত্ব হস্তান্তরের ব্যাপারটিকে ইরাকী কর্তৃপক্ষের জন্য বড় একটি ঘটনা
হিসাবে আখ্যায়িত করেছে মার্কিন বাহিনীর উর্ধ্বতন মহল।
এতদিন পর্যন্ত জৌনের
নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনকারী ৫০-তম ইনফ্যান্টিণ্ড বিগ্রেইড কমব্যাট টীমের কমান্ডার
কর্নেল স্টিভ ফেরারী এ-প্রসঙ্গে জানান এর মাধ্যমে ইরাক ভবিষ্যতমুখী আরেকটি দায়িত্ব
গ্রহন করেছে।
গ্রীন-জৌনের দায়িত্ব গ্রহনের
মাধ্যমে ইরাক যে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র তা প্রমাণিত হয়েছে তা ইরাকের জনগণ ও
আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের সামনে স্পষ্ট হয়েছে বলেও দাবী করেন কমান্ডার ফেরারী।
ইরাকের
প্রতিরক্ষা-মন্ত্রী মোহাম্মদ আব্দুল কাদের আল ওবায়েদী জানান ইরাকী বাহিনীর
গ্রীন-জৌনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।
উল্লেখ্য, দখলদার
বাহিনীর বিরুদ্ধাচারনকারী গ্রুপগুলো গ্রীন-জৌনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টার্গেট
হিসাবে বিবেচনা করে থাকে।
অতীতে বেশ কয়েকবার জৌনের
আশেপাশের বেশ কিছু হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হবার পর থেকে জৌনের ভেতরে অবস্থিত ভবনগুলোর
কোনটি কার ভাগে দেয়া হবে এবং বাগদাদ শহরের বাকী অংশের সাথে যোগাযোগের জন্য জৌনের
কোন অংশটি ব্যবহার করা হবে - এসব সিদ্ধান্ত গ্রহনের এখতিয়ার ইরাকীদের হাতে থাকবে।
তবে এক্ষেত্রে
মার্কিনীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য-পরামর্শগুলো ব্যবহার করবে ইরাকীরা।
বাগদাদের একটি সরকারী
সূত্র অবশ্য সংবাদকে মাধ্যমকে জানিয়েছে জৌনের ভেতরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা
হিসাবে বিবেচিত রিপাবলিকান প্যালেসকে প্রেসিডেন্ট জালাল তালেবানীর অফিস হিসাবে
ব্যবহার করা হবে।
ভবনটি এখন পর্যন্ত মার্কিন
দূতাবাস হিসাবে ব্যবর্হত হচ্ছে।
আগামী কিছুদিনের
গ্রীন-জৌনের ভেতরেই মার্কিন দূতাবাসটি নতুন একটি ভবনে সরে যাবে বলে জানা গেছে।
সাদ্দাম হোসেন তার
প্রধান অফিস হিসাবে রিপালিকান প্যালেস ব্যবহার করতেন।
লন্ডনঃ ১ জানুয়ারী
২০০৯
|