|
১৯৫৯-২০০৯ সালঃ বিপ্লবের
পঞ্চাশ বছর উদযাপন করছে কিউবা
সমাজতান্ত্রিক
বিপ্লবের পঞ্চাশ বছর উদযাপন করছে কিউবা।
১৯৫৯ সালের পয়লা
জানুয়ারী একনায়ক ফুলজেনসিও বাতিস্তা সরকারের পতন ঘটান ফিদেল ক্যাস্ত্রো ও কমরেডেরা।
এরপর থেকে নিকটতম প্রতিবেশী ও বিশ্বের শীর্ষ শক্তিমান দেশ যুক্তরাষ্ট্রের
নিরবিচ্ছিন্ন বিরোধিতা সত্ত্বেও বহাল তবিয়তে টিকে আছে কিউবা।
খবরে
প্রকাশ, বিপ্লবের অর্ধ-শত বার্ষিকী পূর্ণ হওয়া উপলক্ষ্যে সান্তিয়াগো শহরের ঐতিহাসিক
ব্যালকৌনীতে দাঁড়িয়ে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ত্রো।
সান্তিয়াগোর এ-ব্যালকৌনী
থেকে বিজয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন ফিদেল ক্যাস্ত্রো।
বিশেষ এ-দিনটি উপলক্ষ্যে
কিউবার সকল স্থান-জুড়ে নাচ-গান-সহ নানান ধরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
তবে সদ্য-সমাপ্ত বছরটিতে
একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ-জনিত দুর্বিপাক ও বিশ্ব অর্থনীতির চলতি দুরাবস্থার
প্রভাবে দেশের অর্থনীতির টালমাটাল পরিস্থিতির কারণে বার্ষিকী উদযাপনের ক্ষেত্রে
তেমন কোনো আধিক্যের প্রকাশ না ঘটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বিপ্লবের
অর্ধ-শত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেয়া এক বিবৃতিতে বিপ্লবের নেতা ফিদেল ক্যাস্ত্রো আপামর
কিউবাবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
গ্রানমা পত্রিকাতে
প্রকাশিত বিবৃতিতে কিউবার জনগণকে তিনি 'বীর জনগণ' হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।
বুধবার বিপ্লব-বার্ষিকীর
প্রাক্কালে দেয়া এক ভাষণে রাউল ক্যাস্ত্রো জানান, কিউবার সামনে অনেকগুলো ইতিবাচক
বিষয় অপেক্ষা করে আছে।
তবে একই সাথে সামনের
দিনগুলোতে যেসব নতুন সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে সেসব ব্যাপারে জনগণের উদ্দেশ্যে আগাম
সতর্কতা ব্যক্ত করেন রাউল।
উল্লেখ্য, বিপ্লবের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন কিউবার উপরে পূর্ণ-মাত্রার
অর্থনীতিক অবরোধ জারী করে রেখেছে।
হাতেগোণা দুয়েটি দেশ
বাদে বিশ্বের প্রায় সবগুলো দেশের পক্ষ থেকে যুগের পর যুগ ধরে অবরোধ তুলে নেয়ার
আহবান জানানো হলেও তাতে কখনও কর্ণপাত করেনি মার্কিন প্রশাসন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ
থেকে আসা অবরোধের শিকার হলেও ১৯৯১ সাল পর্যন্ত সৌভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে
নানা-ধরণের সহায়তা অব্যাহত ছিলো কিউবার জন্য।
অবরোধের মাধ্যমে পঙ্গু
করে দেয়ার চেষ্টা ছাড়াও গত পাঁচ দশকে দেশটির পক্ষ থেকে ফিদেল ক্যাস্ত্রোকে হত্যা
করার অসংখ্য চেষ্টা চালানো হয়েছে।
মার্কিন
অবরোধের পাশাপাশি সদ্য-সমাপ্ত বছরটিতে তিনটি বড়ো ধরণের হ্যারিকেনের আঘাত করেছে
কিউবাকে।
হ্যারিকেনগুলোর আঘাতে কমপক্ষে
১০ বিলিয়ন ডলার ক্ষয়ক্ষতির বিবরন প্রকাশ করেছে কিউবা।
এছাড়াও দেশটির অর্থনীতি
বর্তমানে বিশ্ব-অর্থনীতির দুর্যোগপূর্ণ অবস্থা দ্বারাও নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, জন্ম-লগ্ন থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ ধনতান্ত্রিক দেশগুলোর
প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ বিরোধিতার মধ্যে থাকলেও সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শকে সম্বল করে
মানব-উন্নয়নের সূচকগুলোতে বিস্ময়কর অগ্রগতি দেখাতে সক্ষম হয়েছে কিউবা।
বিশেষ-করে শিক্ষা,
চিকিৎসা, আবাসন ও ক্রীড়া-ক্ষেত্রে কিউবা বিশ্ব-মানের সাফল্য প্রদর্শন করে চলেছে।
লাতিন আমেরিকাতে বলিভিয়া
ও ভেনিজুয়েলা-সহ অন্য অনেক দেশেই শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে কিউবা গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করছে।
আর কিউবার হাজার-হাজার
চিকিৎসক সারা বিশ্ব-জুড়েই প্রয়োজন-মতো দুর্গত মানবতার সেবায় নিয়োজিত হচ্ছেন।
লন্ডনঃ ১
জানুয়ারী ২০০৯ |