|
১
মাসে পাঁচ লক্ষ তেত্রিশ হাজার চাকুরী উধাও
যুক্তরাষ্ট্রেঃ ওবামা চাপে
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক মহাদুর্গতির আরেক দফা প্রমান পাওয়া গেছে।
শুক্রবারের খবরে প্রকাশ
গত নভেম্বর মাসের ত্রিশ দিনেই দেশটিতে সর্বমোট পাঁচ লক্ষ তেত্রিশ হাজার কর্মহানী
হয়েছে।
১৯৭৪ সাল থেকে ধরলে কর্মহানীর
এ-হারে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ।
এদিকে পর্যবেক্ষকরা মনে
করছেন ভয়াবহ পরিস্থিতির সর্বশেষ খবরটিকে ঘিরে বারাক ওবামার উপরে নতুন করে আরেক দফা
প্রত্যাশার চাপ তৈরী হয়ে যাচ্ছে।
হিসাবমতে
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মহীনতার বর্তমান হার ৬ দশমিক সাত শতাংশ।
১৯৯৩ সালের পরে
কর্মহীনতার এ-হার সর্বোচ্চ।
অক্টৌবর মাসে
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মহীনতার হার ছিলো সাড়ে ৬ শতাংশ।
সর্বশেষ হিসাবটিকে ধরলে
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বমোট ১৫৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন ওয়ার্কফৌর্সের মধ্যে ১০ দশমিক তিন
মিলিয়ন মানুষ এখন কর্মহীন অবস্থাতে আছেন।
আগামী দুই বছরে
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মহীনতার হার ৮ দশমিক সাত শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে
যাবার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে অর্থনীতিবিদদের পক্ষ থেকে।
আগামী ১৬ তারিখে সুুদের
হার সংক্রান্ত ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আলোচনাতে কর্মহানীর বর্তমান হারটি সবিশেষ
গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেনদ্রীয়
ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে সুদের হার বর্তমানের ১ শতাংশের চেয়েও কমিয়ে ফেলা হতে পারে বলে
মনে করা হচ্ছে।
পরিস্থিতির ব্যাপারে উক্তিকালে আইএইচএস গ্লৌবাল ইনসাইটের যুক্তরাষ্ট্র-বিষয়ক প্রধান
অর্থনীতিবিদ নাইজেল গল্ট সংবাদ-মাধ্যমে জানান যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বর্তমানে
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীকালের সবচেয়ে ভয়াবহ মন্দা পরিস্থিতির ভিতর দিয়ে যাচ্ছে।
কর্মহীনতা বেড়ে যাওয়া
সংক্রান্ত এ-হিসাবটি বিশেষজ্ঞদের সকল ধারণাকে ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে মিডিয়া।
কর্মহানীর সর্বোচ্চ
সংখ্যা ৫ লক্ষ পর্যন্ত উঠতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিলো,
যা সদ্য-প্রকাশিত
সংখ্যার চেয়ে ৩৩ হাজার কম।
হিসাবে
দেখা যাচ্ছে,
কর্মহানীর ঝড় সবচেয়ে জোরে আঘাত
হেনেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেবাখাতে।
নভেম্বর মাসে সর্বমোট ৩
লক্ষ সত্তর হাজার ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে,
খুচরা-ব্যবসা খাতটিতে
ছাঁটাই হয়েছে ৯১ হাজার।
আর প্রফেশনাল ও বিজনেস
সার্ভিসগুলোতে চাকুরী চলে যাবার ঘটনা ঘটেছে ১ লক্ষ ৩৬ হাজারটি।
নির্মান শিল্প ও
ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে নভেম্বরে কর্মহানীর সংখ্যা যথাক্রমে ৮২ হাজার ও ৮৫ হাজার।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা,
কর্মহানীর সর্বশেষ
হিসাবটি প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট বারাক ওবামার উপরে আরেক দফা প্রত্যাশার চাপ তৈরী করবে।
ইতিমধ্যেই অনেক
বিশেষজ্ঞের পক্ষ থেকে নিমজ্জমান মার্কিন অর্থনীতিকে টেনে তোলার লক্ষ্যে কমপক্ষে ৭শ
বিলিয়ন ডলার রাষ্ট্রীয় অর্থ প্রবেশ করানোর জন্য ওবামার প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।
ওবামা সামনের মাসের ২০
তারিখে প্রেসিডেন্ট পদের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
এদিকে পরিস্থিতির
গুরুত্ব মোকাবেলার ব্যাপারে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করলে,
শুক্রবার ওবামা
জানিয়েছেন,
পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের
সহজ-সাধ্য কোন উপায় তার হাতে নেই।
উল্লেখ্য,
কয়েক সপ্তাহ আগে ওবামা
জানিয়েছিলেন অর্থনীতির চাকা সচল করার লক্ষ্যে দায়িত্ব গ্রহণ পরবর্তী দুই বছর
সময়কালে দেশজুড়ে আড়াই মিলিয়ন নতুন কর্ম-সংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
তবে ঠিক কিভাবে তিনি
ডুবতে থাকা অর্থনীতিকে টেনে তুলে আনবেন সে-ব্যাপারে অন্যান্য দিনের মত শুক্রবারের
বক্তব্যেও বিস্তৃত কোন ধারণা উপস্থাপন করেননি ওবামা।
তবে তিনি দাবী করেন
চলমান সঙ্কটের ভেতর দিয়ে মার্কিন অর্থনীতিতে একটি রূপান্তর সংগঠনের একটি সুযোগ তৈরী
হয়েছে।
কর্মহানী
ও কর্মহীনতার হার বিষয়ক হিসাবটি এমন এক সময়ে পাওয়া গেলো যখন সাধারণ মানুষজনের মধ্যে
খরচ করবার সামর্থ ভয়াবহভাবে কমে যাওয়া খবর দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন খাত থেকে।
খুচরা-ব্যবসা খাতের
হিসাবে দেখা যাচ্ছে নভেম্বর মাসে এ-খাতে বিক্রির পরিমানে পূর্ববর্তী মাসের তুলনায়
১০ শতাংশ কমে গেছে।
ন্যাশনাল ব্যুরৌ অফ
ইকৌনমিক রিসার্চের ক্ষেত্রে সেপ্টেম্বর ও অক্টৌবরের মাসের ক্ষেত্রে যথাক্রমে ২ লক্ষ
৮৪ হাজার ও ২ লক্ষ ৪০ হাজার কর্মহানীর ভবিষ্যতবাণী করা হলে,
প্রকৃত-প্রস্তাবে এই দুই
মাসে যথাক্রমে ৪ লক্ষ ৩ হাজার ও ৩ লক্ষ ২০ হাজার কর্মহানীর ঘটনা ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ইউরৌপের ধনী দেশগুলোর মত করে রাষ্ট্রের
পক্ষ থেকে জনগণের জন্য তেমন কোন কল্যাণমূলক নিরাপত্তা-জাল না থাকার কারণে
যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি ভয়াবহ দিকে মোড় নিতে পারে।
শুক্রবারের মিডিয়াতে
একাধিক বিশেষজ্ঞ দেশটিতে দারিদ্র ও বিশৃঙ্খলা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবার আশঙ্কা ব্যক্ত
করেছেন।
লন্ডন:
০৫ ডিসেম্বর ২০০৮ |