|
পাকিস্তানী গোয়েন্দা-প্রধান
ভারত যাবেন নাঃ সম্পর্ক অবনতির আশঙ্কা
পাকিস্তানের
গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের ভারত যাওয়া ও না যাওয়া নিয়ে দু-দেশের মধ্যেকার সম্পর্ক
নতুন দিকে মোড় নিতে শুরু করেছে।
উল্লেখ্য,
মুম্বাই-হামলার তদন্তের ব্যাপারে সহযোগিতা-দানের জন্য সরকারী গোয়েন্দা সংস্থা
ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টিলিজেন্স (আইএসআই) এর প্রধানকে ভারত পাঠানোর ঘোষণাটি শনিবার
প্রত্যাহার করে নিয়েছে পাকিস্তান।
শুক্রবার ভারতের
প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের সাথে টেলিফৌনে আলাপ-কালে আইএসআই ডাইরেক্টার জেনারেলকে
ভারত পাঠানোর অঙ্গীকার করেছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানী।
আইএসআই-প্রধানের
ভারত-সফর সংক্রান্ত সিদ্ধান্তটিকে ঘিরে দু-দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটার আশঙ্কা করা
হচ্ছে।
শনিবার
পাক-কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মুম্বাইয়ের সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনার তদন্তে
সহায়তা-দানের জন্য আইএসআইর ডাইরেক্টার জেনারেল লেফট্যানান্ট জেনারেল আহমদ সুজা
পাশার পরিবর্তে সংস্থার একজন প্রতিনিধিকে ভারত পাঠানো হবে।
পাক-ক্যাবিনেটের বিশেষ
এক সভা থেকে সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করা হয়েছে।
কোনো-কোনো পর্যবেক্ষকদের
মতে, পাশাকে ভারত প্রেরণের সিদ্ধান্ত প্রচার হবার পরে আইএসআই-সহ ক্ষমতাবান বিভিন্ন
মহল থেকে যে-ধরণের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছে, তার ভিত্তিতেই ভারতীয়
প্রধানমন্ত্রীর কাছে করা অঙ্গীকারটি পরিবর্তন করেছে পাক-সরকার।
চব্বিশ ঘন্টারও কম সময়ের
মধ্যে পাক-পক্ষের বাচন-ভঙ্গীর পরিবর্তনের দিকেও নজর রাখছেন বিশ্লেষকরা।
প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি শনিবার জানান, মুম্বাইয়ের হামলাতে কোনো পাকিস্তানী
ব্যক্তি বা গ্রুপের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সারা বিশ্বের চোখের সামনে
এ-ব্যাপারে কঠৌরতম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভারত-ভিত্তিক
সিএনএন-আইবিএন টিভির সাথে সাক্ষাত দান-কালে তিনি আরও বলেন,
ভারতের জনগণ ও ভারতের
বিরুদ্ধে হিংস্র ও নির্দয় আঘাতটির জন্য যারাই দায়ী হোন না কেনো,
তারা এর বিরুদ্ধে কী
প্রতিক্রিয়া হয় তা দেখতে চাইছেন।
জারদারির মতে এক্ষেত্রে
অতি-প্রতিক্রিয়া দেখানো থেকে সংযত থাকাটাই ভারত ও পাকিস্তান-সহ সারা বিশ্বের জন্য
সমীচিন হবে।
উল্লেখ্য,
ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও
বিদেশমন্ত্রী-সহ প্রভাবশালী বেশ কিছু মিডিয়া মুম্বাইয়ে হামলার সাথে পাকিস্তানের
জড়িত থাকার ব্যাপারে শুরু থেকে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উক্তি করা হচ্ছে।
শনিবার সর্বশেষ এক খবরে
হামলার সাথে কাশ্মীরে ভারতীয় শাসন-বিরোধী গ্রুপ লস্কর-ই-তৈয়বার যুক্ত থাকার অভিযোগ
আনা হয়েছে।
গ্রুপটি পাকিস্তান থেকে তাদের
কার্যক্রম পরিচালনা করে।
তৈয়বার পক্ষ থেকে
মুম্বাইয়ে হামলার দায়-দায়িত্ব অস্বীকার করা হয়েছে।
সংবাদ-মাধ্যম সূত্রে
প্রকাশ,
ভারতের পক্ষ থেকে মুম্বাই
হামলার ব্যাপারে পাকিস্তানের জড়িত থাকার ব্যাপারে পুণঃপুণঃ অভিযোগের মুখে সর্বশেষ
পরিস্থিতি বিচার-বিবেচনার জন্য বৈঠকে করছেন জারদারি,
গিলানী ও সেনা-প্রধান
জেনারেল আশফাক পারভেজ কিয়ানী।
এছাড়াও হামলার সাথে কে
বা কারা জড়িত ছিলেন, সে-ব্যাপারে তদন্ত শেষ হবার আগে কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছার
ব্যাপারে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক পাক-প্রধানমন্ত্রী নাওয়াজ শরীফ।
এছাড়াও,
তার ভাষায়,
সন্ত্রাসবাদ মূলোৎপাটনের
জন্য পাকিস্তানের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য ভারতের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তিনি।
পাকিস্তানের অপর বিরোধী দলের মুসলিম লীগের (কিউ) নেতা পারভেজ এলাহীর পক্ষ থেকেও
ভারতের প্রতি কড়া উক্তি করা হয়েছে শনিবার।
তিনি জানান,
সঙ্কটময় এ-মুহূর্তটিতে
ভারতীয় নেতৃত্বকে পরিপক্কতার প্রমাণ দিতে হবে।
এদিকে,
গোয়েন্দা প্রধানকে
পাঠানোর ব্যাপারে সম্মতি জ্ঞাপন ও স্বল্প সময়ের মধ্যে সে-সম্মতি থেকে সরে যাওয়ার
ব্যাপারটি নিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরী হবার সংবাদ পাওয়া
গেছে।
কোনো-কোনো পর্যবেক্ষকের মতে,
আইএসআই-এর প্রধানকে না
পাঠানো সংক্রান্ত ইসলামাবাদের সিদ্ধান্তটিকে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের জন্য
এক-ধরণের অসম্মান হিসাবে বিবেচনা করতে পারে নয়াদিল্লী।
আবার নিম্ম-পদস্থ একজন
কর্মকর্তার আগমনের ব্যাপারে সম্মতি-দানে ব্যর্থ হলে আইএসআইর পক্ষ থেকে তদন্ত-কার্যে
সহায়তা লাভের আশাটুকু বাদ দিতে হবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে।
এছাড়াও বুধবার হামলা
শুরুর পর থেকেই হিন্দুত্ববাদী বিজেপির পক্ষ থেকে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোট-সরকারের
কড়া সমালোচনা করা হচ্ছে।
দলটির পক্ষ থেকে এতো বড়ো
সন্ত্রাসী হামলার ব্যাপারে আগে থেকে কোনো তথ্য-লাভে সমর্থ না হবার জন্য প্রশাসনের
ব্যর্থতাকে দায়ী করা হচ্ছে।
প্রাদেশিক পরিষদগুলোর
নির্বাচন-সহ কেন্দ্রের ক্ষমতায় যাবার ব্যাপারে উন্মুখ বিজেপির পক্ষ থেকে দেশের
পরিস্থিতিকে 'যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি' হিসাব বর্ণনা করা হচ্ছে।
প্রায়
দুশো মানুষের প্রাণনাশকারী মুম্বাই-হামলার ঘটনাকে ঘিরে ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি
নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কারও-কারও মধ্যে বড়ো ধরণের আশঙ্কা তৈরী হয়েছে।
ভারতীয় গোয়েন্দা-সংস্থা
র'র সাবেক প্রধান বি রমন সংবাদ-মাধ্যমে জানান, সন্ত্রাসীদের হামলার মুখে ভারত দিনকে
দিন পাকিস্তানের মতো 'অসহায়' হয়ে পড়েছে।
এছাড়াও সন্ত্রাসী
তৎপরতার মুখে পরমাণু-অস্ত্র সম্ভার রক্ষায় ভারত কতটা সমর্থ, সে-ব্যাপারেও সন্দেহ
পোষণ করেছে রমন।
মুম্বাইয়ে হামলা ও হামলা-পরবর্তী অভ্যন্তরীণ ও দ্বিপাক্ষিক প্রতিক্রিয়াকে ঘিরে
পরমাণু শক্তিধর দু-দেশের মধ্যেকার সম্পর্কের অবনতি হবার আশঙ্কার মধ্যে আছেন
বিশ্লেষকরা।
লন্ডনঃ ২৯
নভেম্বর ২০০৮
|