|
মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী ঘটনা বিষয়ে
পাকিস্তানী গোয়েন্দা-প্রধান ভারত যাবেন
মুম্বাইতে
বিধ্বংসী জঙ্গী হামলার ব্যাপারে সহায়তা-দানের লক্ষ্যে ভারত যাচ্ছেন পাকিস্তান
গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টিলিজেন্স (আইএসআই) এর প্রধান লেফট্যানান্ট
জেনারেল আহমেদ সুজা পাশা।
হামলার সাথে পাকিস্তানের
যুক্ত থাকার ব্যাপারে ভারত সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বক্তব্য আসার পর-পর আইসিএস
প্রধানের সফরের ঘোষণাটিকে গুরুত্বের সাথে নিচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা।
উল্লেখ্য,
সর্বশেষ খবর পর্যন্ত দেড়
শতাধিক বেসামরিক মানুষের প্রাণহরণকারী হামলাটির সাথে পাকিস্তানের যুক্ততার ব্যাপারে
অভিযোগ এনেছেন স্বয়ং ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব
মুখার্জীর কাছ থেকে একই ধরণের অভিযোগ এসেছে।
অবশ্য জঙ্গী হামলার সাথে
পাক-সরকারের যুক্ততা থাকা বা না থাকা নিয়ে কোনো উক্তি করেননি এরা।
খবরে
প্রকাশ,
মুম্বাই হামলার ব্যাপারে নিন্দা
জানানোর লক্ষ্যে মনমোহন সিংহের সাথে টেলিফৌনে আলাপ-কালে আইএসআই প্রধানকে ভারত
প্রেরণের আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানী।
মুম্বাইতে জঙ্গী হামলার
নিন্দা জানানোর জন্য শুক্রবার বেলা এগারোটার দিকে মনমোহনকে ফৌন করেন গিলানী।
ইসলামাবাদ জানিয়েছে,
ফৌনালাপ-কালে
সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার ক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও দ্বিপাক্ষিক কৌশল উদ্ভাবনের
ব্যাপারে জোর দেন মনমোহন।
তার পক্ষ থেকেই আইসিআইর
মহাপরিচালককে তদন্ত-কাজে সহায়তার জন্য ভারত প্রেরণের অনুরোধ জানানো হয় বলে
জানিয়েছেন গিলানীর মুখপাত্র আহমেদ বশির।
তবে ঠিক কবে বা কখন
পাশাকে ভারত পাঠানো হবে,
তা জানাননি বশির।
এ-ব্যাপারে তথ্য
দান-কালে মুখপাত্র জানান কর্মপন্থা ঠিক হয়ে যাওয়া মাত্রই পাশাকে ভারত পাঠানো হবে।
ইসলামাবাদ জানিয়েছে মুম্বাই হামলার আনুষ্ঠানিক নিন্দা জানানোর লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট
আসিফ আলি জারদারিরও ফৌনে কথা বলেছেন মনমোহনের সঙ্গে।
জারদারির এক মুখপাত্র
জানান,
হামলার সাথে যুক্ত 'কালপ্রিট' ও
'মাস্টারমাইন্ডদের' পাকড়াও করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা-দানের ব্যাপারে মনমোহনের কাছে
অঙ্গীকার করেছেন জারদারি।
এদিকে,
সংবাদ-মাধ্যমগুলোর পক্ষ
থেকে পাক-সরকারের সর্বশেষ উদ্যোগের ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে আইএসআইর কয়েকজন সাবেক
প্রধান কোনো ধরণের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে রাজী হননি।
তবে আসাদ দুররানি নামের
একজন সাবেক প্রধান তার বক্তব্যে দু-দেশের মধ্যে সহযোগিতার ব্যাপারটিকে স্বাগত
জানালেও,
খোদ আইএসআই-প্রধানকে ভারত
প্রেরণের ঘোষণার ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছেন।
দুররানি বলেন,
তদন্তে সহায়তার জন্য
আমার শুরুতে একটি টেকনিক্যাল টীম পাঠাতে পারি।
উল্লেখ্য,
পাকিস্তানের সূচনা থেকেই
অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালনকারী সংগঠন আইএসআইর বর্তমান প্রধান জেনারেল পাশাকে
গত সেপ্টেম্বর মাসে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
তিনি ইতিপূর্বে
সেনাবাহিনীর ডাইরেক্টর জেনারেল হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
গত কিছু দিন ধরে আইএসআইর
ভূমিকা কমানোর লক্ষ্যে জারদারি-গিলানীদের দুয়েকটি উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে।
সাবেক
প্রধানের পক্ষ থেকে উৎসাহ-ব্যঞ্জক মনোভাব ব্যক্ত করা না হলেও,
পাক মিডিয়ার পক্ষ থেকে
পাশাকে ভারত প্রেরণের ঘোষণাকে মোটামুটি স্বাগত জানানো হয়েছে।
প্রভাবশালী ইংরেজী দৈনিক
দ্য ডনের পক্ষ থেকে সর্বশেষ ঘোষণাটি ব্যতিক্রমধর্মী সিদ্ধান্ত হিসাবে সাধুবাদ
জানানো হয়েছে।
পত্রিকাটির মতে এতে করে মুম্বাই
হামলার ব্যাপারে ভারতের অবস্থাটিকে পাকিস্তান কতটা গুরুত্ব দেয়,
তা প্রমাণিত হবে।
এছাড়াও এ-ঘটনাকে ঘিরে
দু-দেশের মধ্যে আরেকবার যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরী হয়ে যাবার বাস্তবতা এড়ানো সম্ভব
হবে।
ডন মনে করে,
মুম্বাই হামলার ব্যাপারে
সরাসরি কোনো যোগশাসজ প্রমাণ করতে পারার ব্যাপারে ভারত ব্যর্থ হবে বলেই মনে করছে পাক
সেনা-বাহিনী।
উল্লেখ্য,
বৃহস্পতিবার মনমোহন সিংহ
ও শুক্রবার প্রণব মুখার্জীর পক্ষ থেকে মুম্বাই হামলার ব্যাপারে পাকিস্তানের কোনো না
কোনো মহলের যুক্ততার ব্যাপারে সরাসরি বক্তব্য আসার পর থেকেই আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে
পাক-ভারত সম্পর্ক অবনতির আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে।
ইসলামবাদের পক্ষ থেকে
আসা ঘোষণাটির ফলে সে-আশঙ্কা কিছু হলেও প্রশমিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লন্ডনঃ
২৮
নভেম্বর ২০০৮ |