|
মুম্বাই হামলাকারীদের ব্রিটিশ
সংযোগ থাকার সম্ভাবনা নিয়ে কথা-বার্তা
মুম্বাইয়ে
হামলাতে জড়িত জঙ্গীদের ব্রিটিশ-সংযোগ থাকার ব্যাপারে নানা ধরণের তথ্য পাওয়া গেছে
শুক্রবার।
লন্ডনের দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকা
জানিয়েছে উন্নততর প্রযুক্তি হাতে থাকার কারণে হামলা-স্থলগুলোর ভিতরে বিদ্যুৎ
সংযোগহীন অবস্থাতেই ব্রিটেইন-সহ সারা দুনিয়ার সংবাদ-মাধ্যমের সর্বক্ষণিক খবরাখবার
রাখতে সক্ষম হয়েছেন হামলাকারীরা।
প্রধানমন্ত্রী গর্ডন
ব্রাউন অবশ্য ব্রিটেইনের সাথে হামলাকারীরা কোনো ধরণের সংযোগ থাকা সংক্রান্ত কোনো
তথ্য কাছে তার হাতে নেই বলে সংবাদ-মাধ্যমকে জানিয়েছেন।
হামলাকারীদের হঠিয়ে দেয়ার লড়াইয়ে নিয়োজিত ভারতের ব্ল্যাক ক্যাট কমান্ডৌ ইউনিটের
একটি অনির্দিষ্ট সূত্রকে উদ্ধৃত করে দ্য টেলিগ্রাফ জানায়,
সন্ত্রাসী গ্রুপটির হাতে
এমন সব প্রযুক্তি আছে,
যার মাধ্যমে তারা
বিদ্যুৎ সংযোগ-হীন
অবস্থাতেও সর্বক্ষণিকভাবে ব্রিটেইন-সহ বিশ্ব-মিডিয়ার প্রতিক্রিয়ার দিকে নজর রাখতে
সক্ষম হচ্ছে।
মুম্বাইয়ের কয়েকটি হামলা-স্থল
থেকে সন্ত্রাসীদের হঠিয়ে দেয়ার পরে কমপক্ষে পাঁচটি ব্ল্যাকবেরী
মৌবাইল ফৌন উদ্ধার করার পরে ব্ল্যাক-ক্যাটের পক্ষ থেকে এ-তথ্য দেয়া
হয়েছে।
কমান্ডৌদের একজন কমান্ডার
শুক্রবার কোনো এক সময়ে অভিযান পরিচালনারত অবস্থাতে জানান,
ব্ল্যাকবেরীগুলো ঘেঁটে
বিভিন্ন ইংলিশ মিডিয়া সাইট ভিজিটের ব্যাপক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান,
শুধু ইংলিশ সাইট নয়,
ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে বিভিন্ন মহলের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় উর্দূ ও আরবী কিছু সাইটও
জঙ্গীরা ভিজিট করেছেন।
ব্ল্যাক-ক্যাট কমান্ডার জানিয়েছেন,
তারা প্রাপ্ত তথ্যাদি
নিশ্চিতভাবেই স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের কাছে হস্তান্তর করবেন।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের
অনেকের মতে উন্নতি প্রযুক্তি হস্তগত থাকার হামলাকারীরা ঘটনা-প্রবাহের দিকে স্পষ্ট
নজর রাখতে সক্ষম হয়েছেন জঙ্গীরা।
আর এ-কারণেই তাজ-ওবেরয়
হৌটেল ও ইহুদী সম্প্রদায়ের একটি উপাসনালয়ে জিম্মি-নাটক দীর্ঘায়িত করতে সক্ষম হয়েছেন
তারা।
ভারতের একটি বেসরকারী টিভি
চ্যানেলের পক্ষ থেকে পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিকরা মুম্বাই হামলাতে জড়িত
বলে দাবী করা হয়েছে।
স্মরণ
করা যেতে পারে,
বুধবার রাতে ভারতের বাণিজ্য ও
বিনোদন রাজধানী মুম্বাইয়ের বেশ কয়টি স্থানে একযোগে হামলা চালানো হয়।
শুক্রবার শেষ খবর পাওয়া
পর্যন্ত হাসপাতাল,
রেল স্টেইশন,
ধর্মশালা,
হৌটেল,
রেস্টুরেন্ট ও যানবাহনের
উপরে পরিচালিত নির্বিচার হামলার ঘটনায় দেড় শতাধিক প্রাণহানির সংবাদ নিশ্চিত করা
হয়েছে।
মৃতে সংখ্যা আরও বাড়বে বলে
আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুক্রবার রাত পর্যন্ত
তাজ হৌটেল জঙ্গীদের দখল থেকে মুক্ত হয়নি।
জঙ্গীদের গুলি ও
গ্রেনেইড হামলাতে বেসামরিক নাগরিকদের সাথে-সাথে বেশ কয়জন বিদেশী নাগরিক ও কমপক্ষে
একজন ইহুদী ধর্মগুরু ও তার স্ত্রী প্রাণ হারিয়েছেন।
এছাড়াও পারস্পরিক গুলি
বিনিময়ে কয়েকজন জঙ্গী ও নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন।
মুম্বাইয়ের জঙ্গীদের সাথে ব্রিটেইনের সংযোগ নিয়ে খোদ ব্রিটেইনের পত্রিকাতেই লেখা
ছাপা হলেও ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ অবশ্য এ-বিষয়ে তাদের হাতে কোনো তথ্য না থাকার দাবী
করেছেন।
ভারতের ব্রিটিশ হাই কমিশনের
একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন নয়াদিল্লীর পক্ষ থেকে তাদেরকে এ-ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে
কোনো কিছু জানানো হয়নি।
আর সে-কারণে জঙ্গীদের
ব্রিটেইন-সংযোগের ব্যাপারটিকে উড়ো-খবর হিসাবে চিহ্নিত করেছেন মুখপাত্রটি।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
গর্ডন ব্রাউন জানিয়েছেন মুম্বাই জঙ্গীদের ব্যাপারে যেসব কথাবার্তা শুনা যাচ্ছে
সেগুলোর ব্যাপারে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের সঙ্গে কথা বলবেন।
সন্ত্রাসী হামলার
পরবর্তী সহযোগিতা প্রদানের জন্য মেট্রৌপলিটন পুলিসের লোকজন ইতোমধ্যে ভারত পৌঁছে
গেছে বলে জানিয়েছে ব্রাউন।
হামলাকারীদের সাথে
ব্রিটেইনের সংযোগ থাকার ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলাটা যৌক্তিক হবে না মর্মে
মত প্রকাশ করেন তিনি।
স্কাই নিউজের সাথে আলাপে
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জানান,
প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য
আরও সময় লাগবে।
তবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড
মোকাবেলার ক্ষেত্রে ভারত ও ব্রিটেইনের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার ব্যাপারে
গুরুত্বারোপ করেছেন ব্রিটেইন।
ভারতীয়
কর্তৃপক্ষ অবশ্য মুম্বাই জঙ্গীদের ব্রিটেইন-সংযোগের ব্যাপারে প্রকাশ্য কোনো মন্তব্য
করেনি।
প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ ও
বিদেশ-মন্ত্রী প্রণব মুখার্জীর পক্ষ থেকে মুম্বাই হামলার ব্যাপারে পাকিস্তানের
যুক্ত থাকার ব্যাপারে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট
আসিফ আলি জারদারি অবশ্য হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা,
মুম্বাই হামলাকে ঘিরে পাক-ভারত শান্তি প্রক্রিয়ার আরেক প্রস্থ অবনিত ঘটবে।
লন্ডনঃ
২৮ নভেম্বর
২০০৮
|