|
যুক্তরাষ্ট্র-ইরাক
নিরাপত্তা চুক্তি অনুমোদনঃ
সাদর-পন্থীদের
ক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বহুল বিতর্কিত নিরাপত্তা চুক্তিটি অনুমোদন করেছে ইরাকী
পার্লামেন্টে।
বৃহস্পতিবার পাস হওয়া চুক্তির
বলে মার্কিন সেনাদের জন্য আরও তিন বছর ইরাকে অবস্থানের সুযোগ তৈরী হয়ে গেলো।
অবশ্য এ-চুক্তির বদৌলতে
শুধুমাত্র ইরাকে মার্কিন সেনা অবস্থান নয়, বরং উভয় দেশের মধ্যে অর্থনীতিক ও
রাজনীতিক বিষয়-সহ বেশ কিছু বিষয়ে সমঝোতা হবে বলেও জানা গেছে।
শিয়া রাজনীতিক সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরাক সরকারের পক্ষ থেকে
চুক্তিটিকে দেশের স্বার্থের
অনুকূল হিসাবে দাবী করা হলেও, পার্লামেন্টের ভিতরে ও বাইরে শিয়া ধর্মগুরু মুক্তাদার
আল সাদরের অনুসারীর চুক্তির বিরুদ্ধে কড়া ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
খবরে
প্রকাশ, বৃহস্পতিবারের ভৌটে উপস্থিত ১৯৮ জন পার্লামেন্ট-সদস্যের মধ্যে ১৪৪ জন
চুক্তির পক্ষে ভৌট দেন।
ইরাকী পার্লামেন্টের
সর্বমোট আসন সংখ্যা ২৭৫টি।
চুক্তি অনুসারে, আগামী
বছরের ৩০ জুনের মধ্যে ইরাকের শহরগুলো থেকে মার্কিন সেনাবাহিনী সরে যাবে, তবে তারা
২০১২ সালের ১ জানুয়ারী পর্যন্ত ইরাকে থেকে যাবে।
ইরাকী জোট সরকারের
সমর্থক শিয়া ও কুর্দী পার্লামেন্টারীয়ানরা ছাড়াও সুন্নী আরব পার্লামেন্টারীয়ানরাও
চুক্তির পক্ষে ভৌট দিয়েছেন।
আগামী ৩১ ডিসেম্বর নাগাদ
ইরাকে মার্কিন সেনাদের অবস্থান সংক্রান্ত জাতিসংঘ-ম্যান্ডেইট শেষ হয়ে যাবার পর থেকে
সদ্য-সাক্ষরিত চুক্তিটি কার্যকর হবে।
বর্তমানে
জাতিসংঘ-ম্যান্ডেইটের বলে ইরাক-জুড়ে চারশো ঘাঁটিতে লাখ দেড়েক মার্কিন সেনা অবস্থান
করছে।
বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে
অনুমোদন পাওয়া চুক্তিটি এক সপ্তাহ আগেই ইরাকী ক্যাবিনেটের অনুমোদন পাওয়া গেছে।
তথ্য-মতে, চুক্তিটি
বাস্তবায়িত হলে মার্কিনীদের যে-কোনো অপারেশনের ব্যাপারে ইরাকী কর্তৃপক্ষ চাইলে ভিটো
প্রদান করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, গত এগারো মাস ধরে চুক্তির ধারা-উপধারা নিয়ে ওয়াশিংটন ও বাগদাদের মধ্যে
ব্যাপক টানা-পোড়েন চলছিলো।
ইরাকী প্রশাসনের দাবী, চুক্তিতে দেশের
স্বার্থ অধিক পরিমাণে
সংরক্ষিত হয়েছে।
ইরাকী বাহিনী কর্তৃক
মার্কিন সামরিক কার্গৌ তল্লাশীর ক্ষমতা থাকা এবং ঘাঁটির বাইরে থাকা অবস্থাতে কোনো
অপরাধ করলে একজন মার্কিন সেনাকে ইরাকী আইনের মুখোমুখি করার বিধানটিকে বেশ বড়ো অর্জন
হিসাবে দেখাতে চাইছে মালিকি প্রশাসন।
এছাড়াও চুক্তি-মোতাবেক
অন্য দেশের উপরে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরাকী ভূমি ব্যবহারের উপরেও যুক্তরাষ্ট্রের
উপরে বিধি-নিষেধ জারী করা হয়েছে।
কোনো-কোনো পর্যবেক্ষক
মনে করেন, ইরান বা সিরিয়ার মতো দেশের উপরে যুক্তরাষ্ট্র যদি কখনও হামলা চালায়,
সেক্ষেত্রে ইরাককে যাতে দায়ের ভাগী হতে না হয়, সে-দিকটিতে সতর্ক থেকেই চুক্তিতে
এ-ধারাটি যোগ করার ব্যাপারে সচেষ্ট থেকেছে মালিকি প্রশাসন।
তবে বিভিন্ন মহল
জানিয়েছে, আঠারো-পৃষ্ঠা ব্যাপী চুক্তি-পত্রটি আরবী ও ইংরেজী ভার্সান নিয়ে ভবিষ্যতে
উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিতে পারে।
সংবাদ-মাধ্যম জানিয়েছে, পার্লামেন্টের সুন্নী রাজনীতিক দলগুলোর সাথে শেষ মুহূর্তের
সমঝোতার পর-পরই আলোচ্য চুক্তিটিকে ভোটের জন্য পার্লামেন্টে তোলা হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে
রাজনৈতিক সংস্কারের প্যাকেইজ-সহ ২০১০ সালের মাঝামাঝিতে চুক্তির ব্যাপারে গণভৌট
আয়োজনের অঙ্গীকার করার কারণেই সুন্নী পার্লামেন্টারীয়ানরা শেষ পর্যন্ত শিয়া
সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারের প্রস্তাবে রাজী হয়েছে।
ইরাকের জন্য একটি
যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা অনুসরণের অঙ্গীকারের কারণে কুর্দী পার্লামেন্টারীয়ানরাও
শেষ পর্যন্ত চুক্তির পক্ষে নিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
বছর-ব্যাপী টানা-পোড়েনের পরে বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টের
অনুমোদনের কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইরাকে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রায়ান ক্রুকার ও
সেনা কমান্ডার রে ঔডীর্নৌ,
ইরাকী কর্তৃপক্ষকে অভিনন্দিত করে যৌথ বিবৃতি প্রদান করেন।
বিবৃতিতে তারা আরও জানান, দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ফলে
প্রতিরক্ষা, রাজনীতিক সম্পর্ক, অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা,
আইনের শাসন, স্বাস্থ্য-সেবা ও
পরিবেশ-সহ বিজ্ঞান-প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিষয়াদিতে উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির
একটি ফ্রেইমওয়ার্ক গড়ে উঠবে।
এদিকে,
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরাকের চুক্তিটির পার্লামেন্টারী অনুমোদনের শেষ মুহূর্তটিতেও
এ-ব্যাপারে বিরোধিতা অক্ষুন্ন রেখেছেন শিয়া ধর্ম-গুরু মুক্তাদার আল সাদরের
অনুসারীরা।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন থেকেই
সাদর অনুসারীরা রাজধানী বাগদাদ-সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চুক্তি বিরোধী নানান ধরণের
কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন।
বৃহস্পতিবার
পার্লামেন্টের ভোটাভূটির সময়টিতে সাদরপন্থী এমপিরা সমহৃরে চুক্তি-বিরোধী স্লৌগান
দিতে থাকেন।
ভোট শেষ হয়ে যাবার পরপর
সাদরপন্থীরা পার্লামেন্ট ভবনেই একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন।
উপস্থিত সাংবাদিকদের
সামনে লিখিত এক বিবৃতিতে সাদরপন্থীরা জানান বৃহস্পতিবারের চুক্তিটি অবৈধ পন্থায়
অনুমোদন করানো হয়েছে।
তাদের মতে, চুক্তির
পক্ষে ভৌট দেয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করা হয়েছে এবং পার্লামেন্টের অনেক সদস্যের উপরে
চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে।
লন্ডনঃ ২৭
নভেম্বর, ২০০৮
|