|
অভিবাসন সংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের দায়ে
টৌরী
এমপি গ্রেফতার ব্রিটেইনে

মিডিয়ার
কাছে অভিবাসন সংক্রান্ত সরকারী তথ্য ফাঁসের দায়ের প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ
পার্টির প্রভাবশালী এমপি ড্যামিয়েন গ্রীনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ব্রিটেইনে।
খবরে প্রকাশ,
বৃহস্পতিবার কাউন্টার-টেরৌরিজম পুলিসের একটি দল তাকে থেকে গ্রেফতার করে।
টৌরীদের নেতা ডেইভিড
ক্যামেরৌনের পক্ষ থেকে গ্রীনের গ্রেফতারের ঘটনাকে 'স্ট্যালিনীয়' হিসাবে চিহ্নিত করে
সরকারের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে।
খবরে
প্রকাশ, বৃহস্পতিবার বেলা একটা পঞ্চাশ মিনিটে গ্রীনকে তার এ্যাশফৌর্ডের বাসভবন থেকে
গ্রেফতার করে সেন্ট্রাল লন্ডনের একটি পুলিস স্টেশনে আনা হয়। রাত সাড়ে আটটায় দলের
পক্ষ থেকে গ্রেফতারের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করা পর্যন্ত গ্রীনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা
হচ্ছিলো বলে জানা গেছে।
তথ্য-মতে,
কাউন্টার-টেরৌরিজম বিভাগের অফিসাররা গ্রীনের খোঁজে তার নির্বাচনী এলাকার অফিস,
কমন্স সভার অফিস ও লন্ডনের বাসভবনে তল্লাশী চালান।
জানা
গেছে, সরকারের ভিতরে একটি সূত্র থেকে অভিবাসন সংক্রান্ত চারটি গুরুত্বপূর্ণ
ডকুমেন্ট গ্রীনের কাছে ফাঁস করে দেন।
পরে গ্রীন আবার তা
সংবাদ-মাধ্যমের কাছে ফাঁস করে দেন।
সরকারের ভিতরের লোকটিকে
দিন দশেক আগে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত বছরের ১৩ নভেম্বর
ডেইলী মেইলে ফাঁস হয়ে যাওয়া সরকারী একটি মেমৌতে দেখা যায়, ওয়াইটহলের সিকিউরিটী
সংক্রান্ত কাজকর্মে হাজার-হাজার অবৈধ অভিবাসীরা অনুমতি প্রাপ্তির ব্যাপারে হৌম
সেক্রেট্যারী জ্যাকী স্মিথকে চার মাস আগেই সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।
মেইলের সংবাদের মাত্র ১
দিন আগে সানডে মিরর জানায় ওয়াইট হলের বিভিন্ন স্থানে কাজ করার ব্যাপারে কমপক্ষে ৫
হাজার অবৈধ অভিবাসীকে সিকিউরিটী ইন্ডাস্টী্র অথৌরিটীর পক্ষ থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।
এ-বছরের
১০ ফেব্রুয়ারীতে সানডে টেলিগ্রাফে ফাঁস হওয়া এক মেমৌতে দেখা যায়, পার্লামেন্টের
কোনো একটি শাখাতে কাজ যোগাড়ের ক্ষেত্রে ব্রাজিল থেকে আগত একজন অবৈধ অভিবাসী তার
আইডি জালিয়াতে সক্ষম হবার ব্যাপারটি সে-সময়কার হৌম অফিস মিনিস্টার লিয়ান ব্রাইন
অবগত ছিলেন।
এ-বছরের ২০ এপ্রিল তারিখে সানডে
টাইমসে প্রকাশিত এক খবরে জামিন-বিহীন আটকাদেশের মেয়াদ বিয়াল্লিশ দিন করার বিরুদ্ধে
লেবার পার্টির যেসব এমপি বিদ্রোহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাদের নাম ফাঁস করে
দেয়া হয়।
পয়লা সেপ্টেম্বরে গার্ডিয়ানে
একটি চিঠি ছাপা হয়, যাতে দেখা যায় অর্থনীতিক মন্দাজনিত কারণে ব্রিটেইন-জুড়ে অপরাধ
প্রবণতা বৃদ্ধি পাবার ব্যাপারে জ্যাকী স্মিথের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী গর্ডন
ব্রাউনকে সতর্ক করে দিচ্ছেন।
এসব খবর ফাঁস হয়ে যাবার
ব্যাপারে গ্রীনের যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
গ্রীনের
গ্রেফতারের ব্যাপারে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে দেয়া এক বিবৃতিতে টৌরী দল জানায়,
শ্যাডৌ ইমিগ্রেশন মিনিস্টার হিসাবে আইনগতভাবেই এমন সব তথ্য প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছেন,
যা হৌম অফিস কোনোভাবেই প্রকাশ্যে আনার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন না।
দলটি আরও জানিয়েছে,
গ্রীন যেসব কাজ করেছেন তা জনস্বার্থেই করেছেন।
গ্রীন নিজেও অবৈধ কোনো
কাজ করার কথা অস্বীকার করেছেন।
দলনেতা ডেইভিড ক্যামেরৌন
ঘটনার ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ-কালে প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের দিকে ইঙ্গিত করে
জানান, এ-ব্যাপারে নিশ্চিতভাবেই সর্বোচ্চ মহলের সম্মতি আছে।
টৌরীরা গ্রীনের
গ্রেফতারকে 'স্ট্যালিনীয়' আচরণ হিসাবে সমালোচনা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমা
বিশ্বে জৌসেফ স্ট্যালিনকে অত্যন্ত নির্দয় ও ঘৃণ্য এক চরিত্র হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়।
লন্ডনঃ ২৭
নভেম্বর, ২০০৮ |