|
দু-দিনের মধ্যে ভৌটার না হলে নির্বাচন
করা হবে না
খালেদা
জিয়ার

বাংলাদেশে
নির্বাচনী হাওয়া এখন তুঙ্গে।
সেখানে
সব-কিছুই এখন নির্বাচন-মুখী।
দেশটির
অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ ইতোমধ্যে তিনশো আসনের দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত
করেছে।
এখন
মহাজোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে জোর তৎপরতা চলছে।
অপর
প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া শুরু করেছে।
একই
সঙ্গে চলছে চারদলীয় জোটের শরীকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির কাজ।
ছোটো-ছোটো রাজনৈতিক দলগুলোও এখন মহাব্যস্ত নির্বাচন নিয়ে।
আগামী ২৯
ডিসেম্বর বহু-প্রতীক্ষিত এ-জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশে উৎসব শুরু হলেও এখনও
ভৌটার হননি বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
আগামী
দু-দিনের মধ্যে (শুক্র ও শনিবার) ভৌটার না হলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য ভৌটার তালিকা-ভুক্ত হতে খালেদা জিয়ার হাতে সময় আছে আর
মাত্র দু-দিন।
এর
মধ্যে তাকে জানাতে হবে তিনি কবে, কোন্ ঠিকানায় ভৌটার হতে চান।
বৃহস্পতিবারও
খালেদা জিয়া ভৌটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করারনি।
এমনকি
কবে, কোনো ঠিকানায় ভৌটার হবেন, সে-ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে কিছু জানাননি।
তবে
ভৌটার না হলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দেশটির বিভিন্ন এলাকা থেকে তার নামে ৫টি
আসনের দলীয় মনোনয়ন-পত্র তোলা হয়েছে।
তবে
শেষ পর্যন্ত তিনি কয়টি আসনে নির্বাচন করবেন, সে-ব্যাপারে এখনও কিছু জানা যায়নি।
জেলা নির্বাচন
কর্মকর্তা ফয়সাল কাদের বৃহস্পতিবার রাতে ইউকেবেঙ্গলির এ-প্রতিবেদককে টেলিফৌনে
জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনকে ভৌটার হিসাবে নিবন্ধিত করতে তার ব্যক্তিগত সচিব শিমুল
বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিনি (খালেদা জিয়া) ভৌটার হননি।
ভৌটার
হওয়ার জন্য কবে নাম নিবন্ধন করবেন, সে-ব্যাপারেও দলীয় বা পরিবারের পক্ষ থেকে
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আমাদের কিছু জানানো হয়নি বলে ফয়সল কাদের জানান।
২ নভেম্বর
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৩ নভেম্বর ছিলো মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন।
এরপর
আরও দু-দফা তফসিলে পরিবর্তন এলেও, এতো-দিন ভৌটার হওয়ার ব্যাপারে কোনো সাড়া দেননি
খালেদা জিয়া।
কারাবন্দী থাকা অবস্থায় খালেদাকে বেশ কয়েকবার ভৌটার হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের
পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়।
তবে
সে-সময় তিনি ভৌটার হতে অসম্মতি জানান।
নির্বাচন কমিশনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা যোগাযোগ করলেও পরেও তার সঙ্গে কোনো সাড়া
পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা কারাবন্দী অবস্থায়ই গত জুনে ভৌটার হন।
সর্বশেষ
রোববার নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সোমবার খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সচিবের সঙ্গে
যোগাযোগ করা হয়।
পুনর্নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৯ ডিসেম্বরএ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, আর
মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়-সীমা ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।
নির্বাচন কমিশনের উপসচিব (নির্বাচন) মিহির সারওয়ার মোর্শেদ বৃহস্পতিবার রাতে
ইউকেবেঙ্গলিকে বলেন, নির্বাচনে অংশ নিতে হলে খালেদা জিয়াকে মনোনয়ন দাখিলের
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবশ্যই ভৌটার হতে হবে।
নির্বাচন কমিশন 'বিশেষ ক্ষমতায়' তাকে ভৌটার তালিকাভুক্ত করতে পারেন।
তিনি
জানান, নবম সংসদের জন্য পরিবর্তিত সময়সূচি অনুযায়ী তাকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই ভৌটার
হতে হবে।
সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী প্রার্থী হতে হলে সংশিষ্ট প্রার্থীর ভৌটার
হওয়া বাধ্যতামূলক।
ঢাকা থেকে
আবদুর রহিম হারমাছি
২৭ নভেম্বর ২০০৮ |