|
গুলী-গ্রেনেইড হামলায় প্রকম্পিত ভারতের মুম্বাইঃ
বহু ব্যক্তি হতাহত
বুধবার
রাতে ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসাবে বিবেচিত মুম্বাই শহরের বিভিন্ন স্থানে গুলী ও
গ্রেনেইড হামলা চালানো হয়েছে।
প্রাথমিক খবরে, এসব
হামলায় আশি
ব্যক্তির প্রাণহানী ও
শতাধিকের কাছাকাছি আহত
হবার সংবাদ পাওয়া গেলেও, উভয় সংখ্যা বেড়ে যাবার আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে বিভিন্ন
মাধ্যম থেকে।
ব্যস্ততম রেইল-স্টেশন, দুইটি
পাঁচ তারকা হৌটেলসহ কমপক্ষে আটটি স্থানে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিরা হামলা পরিচালনা
করেছে বলে জানিয়েছে পুলিস।
খবরে
প্রকাশ, বুধবার স্থানীয় সময় রাত ১০ টা তেত্রিশ মিনিটে মুম্বাইয়ের জনাকীর্ণ রেইল
স্টেশন ছত্রপতি শিবাজী টার্মিনালে (সিএসটি) প্রথম হামলাটি চালানো হয়।
পুলিস জানিয়েছে একে-৪৭
রাইফেল ও গ্রেনেইডে সজ্জিত কমপক্ষে দুইজন সন্ত্রাসী সিএসটির হামলাটি চালায়।
সিএসটিতে গুলী-বর্ষণ ও
গ্রেনেইড বিস্ফোরণের ঘটনায় কমপক্ষে ১০ ব্যক্তি মারা যান।
এছাড়াও কাছাকাছি সময়ে
নগরীর মাজেগাও ডকইয়ার্ড রৌডের উপরে যাত্রীবাহী একটি ট্যাক্সিতে বোমা ফাটিয়ে তিন
ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়।
বিলাস-বহুল তাজ হৌটেলে
পরিচালিত হামলাতেও তিন ব্যক্তির মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে।
এরা সকলে পাঁচতারা
হৌটেলটির কর্মী ছিলেন বলে জানিয়েছে সংবাদ-মাধ্যম।
বুধবার রাতে মুম্বাইয়ের
অপর নামী হৌটেল ওবেরয় আক্রান্ত হলেও, প্রাথমিক খবরে সেখান থেকে কোন প্রাণহানীর
সংবাদ পাওয়া যায়নি।
তবে সেখানে বেশ কিছু লোক
আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এসব স্থান ছাড়াও কোলাবা,
নারিমান পয়েন্ট, পার্লে ও কামা হাসপাতাল এলাকাতে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
বিদেশী পর্যটকদের কাছে
আকর্ষণীয় খাবারের স্থল হিসাবে বিবেচিত লিওপল্ড রেস্টুরেন্টেও হামলা চালানো হয়েছে।
মহারাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ বুধবারের হামলাকে 'সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ' হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
তবে হামলার সাথে জড়িত
কোন সংগঠনের নাম বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।
মুম্বাই জেনারেল রেইলওয়ে
পুলিসের কমিশনার এ কে শর্মা বলেন, সন্ত্রাসবাদীরা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহার করেছে
এবং কয়েকটি স্থানে গ্রেনেইড ছুঁড়েছে।'
খবরে প্রকাশ, একযোগে সহিংস হামলার সাথে-সাথে পুরো মুম্বাইজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং
জন-জীবন স্তব্ধ হয়ে যায়।
পাঁচতারা হৌটেল ও
রেস্টুরেন্ট আক্রান্ত হবার সময় প্রাণভয়ে বিদেশী পর্যটকদের দিক-বিদিক ছুটোছুটি করতে
দেখা যায়।
লন্ডনঃ২৬ নভেম্বর ২০০৮ |