|
আফগানিস্তান-ইরাকে ব্রিটেইনের
যুদ্ধ
ব্যয়
১৩
বিলিয়ন পাঃ ছাড়িয়েছে
আফগানিস্তান
ও ইরাকে সামরিক অভিযান পরিচালনা বাবদ এ-পর্যন্ত ব্রিটেইনের ব্যয় তেরো বিলিয়ন পাউন্ড
ছাড়িয়ে গেছে।
মিনিস্ট্রী অফ ডিফেন্স থেকে
দেয়া সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে এ-তথ্য।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে
এ-বছরের অভিযান পরিচালনার জন্য সরকারী তহবিল থেকে যত দ্রুত সম্ভব ৩ দশমিক সাত
বিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ দেয়ার জন্যও আহবান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবারের খবরে প্রকাশ, চলতি অর্থ-বছর শেষ হবার আগেই আলোচ্য দেশ দুটোতে অভিযান
পরিচালনার জন্য উপরে উল্লেখিত প্রায় পৌনে চার বিলিয়ন পাউন্ডের মধ্যে ১ দশমিক চার
বিলিয়ন পাউন্ড ইরাকে ও ২ দশমিক তিন বিলিয়ন পাউন্ড আফগানিস্তানের সামরিক অভিযান
অক্ষুন্ন রাখার পিছনে ব্যয় হবে।
উল্লেখ্য, ইরাক থেকে সরে
এসে আফগানিস্তানে অভিযান পরিচালনার ব্যাপারে ব্রিটেইনের আগ্রহ অধিক।
খবরে
প্রকাশ, আলোচ্য পৌনে চার বিলিয়নের বাইরেও চলতি অর্থ-বছরেই অনির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ
ব্যয় করতে হবে ব্রিটেইনকে।
ডিফেন্স সেক্রেটারী জন
হাটন কমন্স সভার উদ্দেশ্যে দেয়া এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
সর্বশেষ হিসাব থেকে দেখা
যাচ্ছে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে ইরাক
ও
আফগানিস্তানে সমর-ব্যয় গত বছরের
তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
শুধুমাত্র আফগানিস্তানের
পিছনেই সামরিক ব্যয় এক বছরে ৮শো
মিলিয়ন পাউন্ড বেড়ে গেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আফগানিস্তানে অবস্থানরত ব্রিটিশ সেনাদের জন্য নতুন ও উন্নতর
সরঞ্জাম কেনার পিছনেই সবচেয়ে বেশী খরচ পড়ে গেছে।
এ-খরচের মধ্যে রৌড-সাইড
বোমার আঘাত সামাল দেয়ার মত শক্তপোক্ত সাঁজোয়া যানের জন্য খরচ হয়েছে ৭শ মিলিয়ন
পাউন্ড।
তালেবানের রকেট হামলায় ভূপাতিত
হওয়া ঠেকানোর লক্ষ্যে সামরিক হেলিকপ্টার ও ফিক্সড-উইং এয়ারক্রাফটের সরঞ্জাম, এয়ার
ক্রুদের যোগাযোগ প্রযুক্তি আর ভূমিতে অবস্থানরত সেনাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নততর
করার জন্যেও প্রচুর অর্থ খরচ করতে হবে ব্রিটেইনকে।
উল্লেখ্য, ইরাক ও আফগানিস্তানে ব্রিটিশ সেনাদের প্রাণহানীর তদন্তকারী বিচারকদের
পক্ষ থেকে ব্রিটিশ বাহিনীর ব্যবহৃত সাজ-সরঞ্জামের নিম্ন-মানের কড়া সমালোচনা করা
হয়েছে একাধিকবার।
আফগানিস্তান ও ইরাকে এ-পর্যন্ত
যথাক্রমে ১২৬ ও ১৭৬ জন ব্রিটিশ সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।
২০১০
সালের শুরুর দিকে ইরাক থেকে ব্রিটিশ সেনা প্রায়-প্রত্যাহার হয়ে গেলে, এক্ষেত্রে
খরচের অঙ্ক অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে আফগানিস্তানে খরচের
অঙ্ক সামনের দিনগুলোতে আরও বেড়ে যাবার আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে বিশ্লেষকদের পক্ষ
থেকে।
এক্ষেত্রে শুধু ব্রিটিশ
কর্তৃপক্ষের আগ্রহ নয় বরং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের
পক্ষ থেকেও আফগানিস্তানে নতুন করে সেনা পাঠানোর জন্য লন্ডনের উপরে চাপ আসতে পারে
বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লন্ডনঃ২৬ নভেম্বর ২০০৮ |